Dhaka ০৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামী আমিনী গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামী আমিনী গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি ও পুলিশের যৌথ বাহিনী।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিনগত রাত ১১টার দিকে জেলার কালিগঞ্জ থানার বিষ্নুপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের বশির আহমেদ এর বাড়ি থেকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, রাত ১১টার দিকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। এর আগেও এই মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো।

এদিকে জানতে চাইলে ফজলুল হক আমিনীর চাচাতো ভাই বশির আহমেদ জানান- আমার চাচাত ভাই রাতে আমাকে বলেছিল সে আত্মসমার্পণ করবে। কিন্তু তার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে একটি মোবাইল নাম্বার সেন্ড করার এক ঘন্টার মধ্যেই প্রশাসনের লোকজন এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করলে আমি তাদের সহযোগীতা করি। এর পর তারা ফজলুল হক আমিনীকে নিয়ে চলে যায়।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় আবাসিক হাফেজি মাদ্রাসায় এতিম জমজ বোনকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ : পরিচালক বললেন মিথ্যা

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) শামীম (৪০) ও তার স্ত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য আছে- এমন অভিযোগ উঠলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় এবং শামীমের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হয়। ওই দিন স্থানীয় একটি বাজারে শামীমকে প্রথম মারধর করা হয়।

পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে তিনি স্থানীয় কুলিয়া বাজারে স্থানীয় এক গ্রাম্য চিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তখন একদল উত্তেজিত জনতা ওই চেম্বার থেকে শামীমকে বের করে তাকে আবারো মারধর করে। পরে পুলিশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে রাতে মিছিল নিয়ে হাসপাতালে হামলা চালিয়ে ৩য় দফায় শামীমকে পেটানো হয়। পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শামীম মারা যান।

আরও পড়ুনঃ  মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

এদিকে শামীম হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। যে মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ফজলুল হক আমিনী ফেসবুক এবং লাইভে স্ট্যাটাস দিয়ে লোক জড়ো করে এই বিচারবহির্ভূত মব সৃষ্টির কথা তিনি স্পষ্ট স্বীকার করেন। প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ধরলে তার কোনো আপত্তি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর পরিণামে তার ফাঁসি বা জেল হলেও তার কোনো আফসোস নেই।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় 'প্রেরণা' এনজিও'র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

আমিনী নিজের সামাজিক ও পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি পারুলিয়া বাজারের গরু-ছাগল জবাইয়ের পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিভিন্ন মসজিদে ইমামের প্রক্সি দিয়ে থাকেন বলে জানান। ইসলাম ও রাসূলের অবমাননার নামে তার এই বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও ক্ষোভ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহীন মামলার জানান- শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামীসহ ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে তৎপর রয়েছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামী আমিনী গ্রেপ্তার

আপডেটের সময়: ০৪:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামী আমিনী গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি ও পুলিশের যৌথ বাহিনী।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিনগত রাত ১১টার দিকে জেলার কালিগঞ্জ থানার বিষ্নুপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের বশির আহমেদ এর বাড়ি থেকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, রাত ১১টার দিকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। এর আগেও এই মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো।

এদিকে জানতে চাইলে ফজলুল হক আমিনীর চাচাতো ভাই বশির আহমেদ জানান- আমার চাচাত ভাই রাতে আমাকে বলেছিল সে আত্মসমার্পণ করবে। কিন্তু তার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে একটি মোবাইল নাম্বার সেন্ড করার এক ঘন্টার মধ্যেই প্রশাসনের লোকজন এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করলে আমি তাদের সহযোগীতা করি। এর পর তারা ফজলুল হক আমিনীকে নিয়ে চলে যায়।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব)

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) শামীম (৪০) ও তার স্ত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য আছে- এমন অভিযোগ উঠলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় এবং শামীমের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হয়। ওই দিন স্থানীয় একটি বাজারে শামীমকে প্রথম মারধর করা হয়।

পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে তিনি স্থানীয় কুলিয়া বাজারে স্থানীয় এক গ্রাম্য চিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তখন একদল উত্তেজিত জনতা ওই চেম্বার থেকে শামীমকে বের করে তাকে আবারো মারধর করে। পরে পুলিশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে রাতে মিছিল নিয়ে হাসপাতালে হামলা চালিয়ে ৩য় দফায় শামীমকে পেটানো হয়। পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শামীম মারা যান।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় 'প্রেরণা' এনজিও'র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

এদিকে শামীম হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। যে মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ফজলুল হক আমিনী ফেসবুক এবং লাইভে স্ট্যাটাস দিয়ে লোক জড়ো করে এই বিচারবহির্ভূত মব সৃষ্টির কথা তিনি স্পষ্ট স্বীকার করেন। প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ধরলে তার কোনো আপত্তি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর পরিণামে তার ফাঁসি বা জেল হলেও তার কোনো আফসোস নেই।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি

আমিনী নিজের সামাজিক ও পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি পারুলিয়া বাজারের গরু-ছাগল জবাইয়ের পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিভিন্ন মসজিদে ইমামের প্রক্সি দিয়ে থাকেন বলে জানান। ইসলাম ও রাসূলের অবমাননার নামে তার এই বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও ক্ষোভ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহীন মামলার জানান- শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামীসহ ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে তৎপর রয়েছে।