কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, অর্থ দাবি, প্রতারণা, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং বসতবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে আব্দুল করিম গাইনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ডা. মোজাফফর হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি। সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা উত্থাপিত অভিযোগ গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন শাহিনুর রহমান, ফরিদ হোসেন, মশিউর রহমান, সুমন গাইন, মারুফ হোসেন, কাশেম গাইন, আরিফুল ইসলাম, সিরাজ ও সোহরাব হোসেনসহ আরও কয়েক জন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডা. মোজাফফর হোসেন জানান, তিনি কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের গান্দুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং রতনপুর বাজারের মা হোমিও হলের একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। তাঁর অভিযোগ, একই গ্রামের আশরাফ হোসেনের ছেলে আব্দুল করিম গাইন ও আব্দুল হামিদ গাইনের বিরুদ্ধে অর্থ দাবি, প্রতারণা, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আর্থিক চাপে ফেলা হচ্ছে। ফোনে অর্থ দাবি করার পাশাপাশি দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামলা, হামলা ও হয়রানির ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আর্থিক ক্ষতি, মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েছেন বলে জানান অভিযোগকারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে মামলা আপস-মীমাংসার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগও তোলা হয়। ডা. মোজাফফর হোসেনের দাবি, মশিউর রহমান নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে পাঠানো, ভিসা, পাসপোর্ট ও বুকিংয়ের আশ্বাসে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন ও নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ছয়টি মামলার তথ্য তুলে ধরা হয়। মামলা গুলোর মধ্যে রয়েছে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের মামলা নং ১৭০/২৫, মানিকগঞ্জের আমলি আদালতের সিআর মামলা নং ৪৮০/২৫, নড়াইলের কালিয়া আমলি আদালতের সিআর মামলা নং ২০/২৬, নড়াইলের লোহাগড়ার জিআর মামলা নং ১৬১/২৬, সাতক্ষীরার সিআর মামলা নং ৭৩৫/২৬ এবং গোপালগঞ্জের আমলি আদালতের সিআর মামলা নং ৫৪০/২৬।
ডা. মোজাফফর হোসেনের দাবি, এসব মামলার প্রকৃত বিবরণ, সংশ্লিষ্ট পক্ষ এবং বর্তমান অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি বিরোধের জেরে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বসতবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ছয়টি মামলার নথি যাচাই, অর্থ দাবি ও প্রতারণার অভিযোগ তদন্ত, প্রয়োজনে কল রেকর্ড ও আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা এবং অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
ডা. মোজাফফর হোসেন বলেন, আমরা ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে নয়, এলাকার শান্তি, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বিষয়গুলো তুলে ধরেছি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কেউ যেন মিথ্যা অভিযোগে হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে, আব্দুল করিম গাইনকে গত রবিবার চাঁদাবাজির একটি মামলায় নড়াইল থানা পুলিশ আটক করে কালিগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানানো হয়েছে। পরে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ কারণে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।



















