Dhaka ০১:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ রাজারহাটে অবৈধ মাছ শিকারে অভিযান, ৫০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, শুরু হচ্ছে ৭ দিনের বিশেষ অভিযান’ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস ইসলামের সঙ্গে নাগরিক অধিকার আন্দোলন, যশোরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ভিনিসিয়ুসের জন্য মোটা অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত আর্সেনাল! সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা পাবনায় সাড়ে ১৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১, মামলা দায়ের: স্বাস্থ্য মন্ত্রীর তালা হসপিটাল পরিদর্শন ডাক্তারকে বদলি ও নৈশ প্রহরী বরখাস্ত যশোরে বিজিবি’র অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক-১
স্মৃতির আলোয় আনজুমন আরা বেগম

স্মৃতির আলোয় আনজুমন আরা বেগম

এক স্নেহময়ী মায়ের নীরব উত্তরাধিকার

স্মৃতির আলোয় আনজুমন আরা বেগম: এক স্নেহময়ী মায়ের নীরব উত্তরাধিকার

 

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের যতরকূল গ্রামের এক পরিচিত ও সম্মানিত পরিবারের স্নেহময়ী অভিভাবক মরহুমা মোছাম্মৎ আনজুমন আরা বেগমের মৃত্যুবার্ষিকী নীরবে স্মরণ করল পরিবার ও এলাকাবাসী। সময়ের ব্যবধানে মানুষ চলে যান, কিন্তু কিছু মানুষ রেখে যান এমন এক মানবিক উত্তরাধিকার, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আলো ছড়ায়। আনজুমন আরা বেগম ছিলেন তেমনই এক আলোকবর্তিকা।

 

তিনি ছিলেন মরহুম ছৈয়দ আহমদ চৌধুরী মাস্টার বাড়ির পুত্রবধূ এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (অবসরপ্রাপ্ত) মরহুম ইব্রাহিম চৌধুরীর সহধর্মিণী। একটি শিক্ষিত, ঐতিহ্যবাহী ও সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত পরিবারে তিনি শুধু গৃহিণীর দায়িত্বই পালন করেননি; বরং হয়ে উঠেছিলেন পরিবারের নৈতিক ভিত্তি,স্নেহ ও সংহতির কেন্দ্রবিন্দু।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মরহুমা আনজুমন আরা বেগম ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ,দয়ালু ও অতিথিপরায়ণ স্বভাবের। আত্মীয়স্বজন,প্রতিবেশী এমনকি গ্রামের সাধারণ মানুষও তাঁর কাছে পেয়েছেন মমতার ছোঁয়া।তিনি সন্তানদের পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মাতৃস্নেহে আগলে

 

রাখতেন। অনেকে তাঁকে শুধু ‘চাচী’ বা ‘খালাম্মা’ নয়,নিজের মায়ের আসনেই বসিয়েছিলেন। পরিবারের এক সদস্য আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমি তাঁকে মা বলে ডাকতাম, আর তিনি আমাকে নিজের ছেলে-মেয়ের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন।এই একটি বাক্যই তাঁর ব্যক্তিত্বের গভীরতা ও স্নেহের পরিধি স্পষ্ট করে।

 

মৃত্যুকালে তিনি ৫ ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁদের প্রত্যেকেই আজ জীবনের নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।পরিবার মনে করে, তাঁদের এই অবস্থানের পেছনে মায়ের ত্যাগ,দোয়া ও নৈতিক শিক্ষার অবদান অনস্বীকার্য।তিনি সন্তানদের মাঝে সততা,

 

ধর্মভীরুতা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা বপন করেছিলেন—যা আজও তাঁদের পথচলার প্রেরণা।

 

 

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে পবিত্র কোরআন খতম,মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং কাঙালি ভোজের আয়োজন করা হয়। আত্মীয়স্বজন,শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। বিশেষ মোনাজাতে মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর সকল গুনাহ মাফ করে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দানের প্রার্থনা করা হয়।

 

 

গ্রামবাংলার সমাজব্যবস্থায় একজন মমতাময়ী নারী কেবল একটি পরিবারের গৃহিণী নন-তিনি একটি প্রজন্মের নৈতিক দিশারী। আনজুমন আরা বেগমও তেমনই ছিলেন। তাঁর স্নেহ, সহমর্মিতা ও ধর্মনিষ্ঠ জীবনাচরণ আজও পরিবারকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে।

 

 

সময়ের স্রোত বহমান। কিন্তু কিছু মানুষের স্মৃতি সময়কে অতিক্রম করে চিরস্থায়ী হয়ে থাকে। মরহুমা আনজুমন আরা বেগম তেমনই এক নাম—যিনি নেই, কিন্তু আছেন তাঁর আদর্শে, দোয়ায় ও রেখে যাওয়া ভালোবাসার বন্ধনে।মহান আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি রহম করুন।

 

আরো পড়ুন

স্মৃতির আলোয় আনজুমন আরা বেগম

“রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বা ইয়ানি সগিরা।” আমিন।

ই-পেপার

ফেজবুক

জনপ্রিয় পোস্ট

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ

স্মৃতির আলোয় আনজুমন আরা বেগম

স্মৃতির আলোয় আনজুমন আরা বেগম

আপডেটের সময়: ০৪:২৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্মৃতির আলোয় আনজুমন আরা বেগম: এক স্নেহময়ী মায়ের নীরব উত্তরাধিকার

 

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের যতরকূল গ্রামের এক পরিচিত ও সম্মানিত পরিবারের স্নেহময়ী অভিভাবক মরহুমা মোছাম্মৎ আনজুমন আরা বেগমের মৃত্যুবার্ষিকী নীরবে স্মরণ করল পরিবার ও এলাকাবাসী। সময়ের ব্যবধানে মানুষ চলে যান, কিন্তু কিছু মানুষ রেখে যান এমন এক মানবিক উত্তরাধিকার, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আলো ছড়ায়। আনজুমন আরা বেগম ছিলেন তেমনই এক আলোকবর্তিকা।

 

তিনি ছিলেন মরহুম ছৈয়দ আহমদ চৌধুরী মাস্টার বাড়ির পুত্রবধূ এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (অবসরপ্রাপ্ত) মরহুম ইব্রাহিম চৌধুরীর সহধর্মিণী। একটি শিক্ষিত, ঐতিহ্যবাহী ও সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত পরিবারে তিনি শুধু গৃহিণীর দায়িত্বই পালন করেননি; বরং হয়ে উঠেছিলেন পরিবারের নৈতিক ভিত্তি,স্নেহ ও সংহতির কেন্দ্রবিন্দু।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মরহুমা আনজুমন আরা বেগম ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ,দয়ালু ও অতিথিপরায়ণ স্বভাবের। আত্মীয়স্বজন,প্রতিবেশী এমনকি গ্রামের সাধারণ মানুষও তাঁর কাছে পেয়েছেন মমতার ছোঁয়া।তিনি সন্তানদের পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মাতৃস্নেহে আগলে

 

রাখতেন। অনেকে তাঁকে শুধু ‘চাচী’ বা ‘খালাম্মা’ নয়,নিজের মায়ের আসনেই বসিয়েছিলেন। পরিবারের এক সদস্য আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমি তাঁকে মা বলে ডাকতাম, আর তিনি আমাকে নিজের ছেলে-মেয়ের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন।এই একটি বাক্যই তাঁর ব্যক্তিত্বের গভীরতা ও স্নেহের পরিধি স্পষ্ট করে।

 

মৃত্যুকালে তিনি ৫ ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁদের প্রত্যেকেই আজ জীবনের নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।পরিবার মনে করে, তাঁদের এই অবস্থানের পেছনে মায়ের ত্যাগ,দোয়া ও নৈতিক শিক্ষার অবদান অনস্বীকার্য।তিনি সন্তানদের মাঝে সততা,

 

ধর্মভীরুতা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা বপন করেছিলেন—যা আজও তাঁদের পথচলার প্রেরণা।

 

 

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে পবিত্র কোরআন খতম,মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং কাঙালি ভোজের আয়োজন করা হয়। আত্মীয়স্বজন,শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। বিশেষ মোনাজাতে মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর সকল গুনাহ মাফ করে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দানের প্রার্থনা করা হয়।

 

 

গ্রামবাংলার সমাজব্যবস্থায় একজন মমতাময়ী নারী কেবল একটি পরিবারের গৃহিণী নন-তিনি একটি প্রজন্মের নৈতিক দিশারী। আনজুমন আরা বেগমও তেমনই ছিলেন। তাঁর স্নেহ, সহমর্মিতা ও ধর্মনিষ্ঠ জীবনাচরণ আজও পরিবারকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে।

 

 

সময়ের স্রোত বহমান। কিন্তু কিছু মানুষের স্মৃতি সময়কে অতিক্রম করে চিরস্থায়ী হয়ে থাকে। মরহুমা আনজুমন আরা বেগম তেমনই এক নাম—যিনি নেই, কিন্তু আছেন তাঁর আদর্শে, দোয়ায় ও রেখে যাওয়া ভালোবাসার বন্ধনে।মহান আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি রহম করুন।

 

আরো পড়ুন

স্মৃতির আলোয় আনজুমন আরা বেগম

“রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বা ইয়ানি সগিরা।” আমিন।

ই-পেপার

ফেজবুক