Dhaka ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কিন্তু অভিযোগে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

সড়ক খননের আড়ালে কেবল উধাও? পাইকগাছায় প্রশ্নের মুখে বিটিসিএল

দুই কর্মকর্তার বক্তব্যে বাড়ছে রহস্য

সড়ক খননের আড়ালে কেবল উধাও? পাইকগাছায় প্রশ্নের মুখে বিটিসিএল

অনুমোদন নেই, হিসাব নেই–৮ কিলোমিটার কেবল অপসারণের নথিহীনতা; দুই কর্মকর্তার বক্তব্যে বাড়ছে রহস্য।

খুলনার পাইকগাছা-আগড়ঘাটা থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ চলাকালে মাটি খুঁড়ে উঠে আসে আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল এরপর শুরু হয় একের পর এক প্রশ্ন- এই কেবল কত ছিল, কত তোলা হয়েছে , কোথায় জমা হয়েছে, আর তার আর্থিক মূল্য কত? সংশ্লিষ্ট দপ্তর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। কিন্তু অভিযোগে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য-অপসারিত কেবলের কোনো সুস্পষ্ট অফিসিয়াল হিসাব দেখাতে পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান ও আলেক রহমান।

 

সড়ক উন্নয়ন কাজ করছে রোডস এন্ড হাইওয়ে। কাজের সময় কেবল তোলা হয়েছে স্বীকার করলেও মোখলেসুর রহমান জানান, এই রুটে মোট কত কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল ছিল —সঠিক বলতে পারছি না।

 

পাইকগাছা-আগড়ঘাটা থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ঠিক কত কিলোমিটার কেবল অপসারণ হয়েছে-এ সম্পর্কেও তার কাছে কোনো লিখিত অনুমোদন বা ওয়ার্ক অর্ডার ছিলো না। উধ্বর্তন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে কিনা— এ প্রশ্নে তার বক্তব্য মোবাইলে জানানো হয়েছে।

 

আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো-তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ওই লাইনে কোনো সচল টেলিফোন সংযোগ নেই। কিন্তু পুরোনো বা অকেজো লাইনের সংখ্যা কত— সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তিালিকা দেখাতে পারেননি। অপসারিত কেবল স্টোর রেজিস্টার, স্টক এন্ট্রি,গ্রহণ-বিবরণী বা সর্বশেষ এন্টির তারিখ সম্পর্কে কোনো নথি দেখাতে পারেননি। ডিসপোজাল প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, ব্যবহারযোগ্য হলে ব্যবহার হবে, স্ক্র্যাপ চিহ্নিতকরণ, নিলাম নোটিশ বা লিখিত আদেশের কোন কঁপি নেই বলেই স্বীকার করেন।

 

মালামালের হেফাজতের দায়িত্বে কারা ছিলেন এ প্রশ্নের তিনি বলেন আমি এবং আলেক নামের এক জন কর্মচারী ছিলেন। তবে তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব বা লিখিত দায়ভার সংক্রান্ত নথি উপস্থাপন করা যায়নি। অফিস ক্যাম্পাসেই অবস্থান করেও ৮ কিলোমিটার ক্যাবলের সুনির্দিষ্ট হিসাব জানা নেই কেন —এ প্রশ্নে তিনি বলেন, এখান থেকে কিছু হলে এর দায়ভার আমার। আবার একই সঙ্গে দাবী করেন, রাস্তা থেকে কেউ তার নিয়ে গেলে আমরা তো দেখতে পাই না, কিভাবে জানবো? এই দ্বৈত বক্তব্যেই বাড়ছে প্রশ্ন।

 

স্থানীয়ভাবে ভাঙাড়ি দোকানের তামার তার বিক্রিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে—এই বিষয়ে জানতে চাইলে মোকলেসুর রহমান বলেন, যদি কেউ বিক্রি করে সেটা আইনের আওতায় পড়বে। লিখিত অনুমতি ছাড়া অফিসের কেবল বাইরে গেলে তা বৈধ কি না —এ প্রশ্নই তিনি স্পষ্ট বলেন বৈধ হওয়ার সুযোগ নেই।

 

কাউকে লিখিতভাবে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ অফিস থেকে কোন লিখিত বিক্রির অনুমোদন নেই— এ কথা তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  ইয়াবাসহ ২ যুবক আটক,আদালতে প্রেরণ

 

এদিকে অফিসের আরেক কর্মচারী আলেকের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আছে উনার সঙ্গে কথা বলেন। আমি কিছুই জানি না। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে একই দপ্তরে কর্মরত দুই কর্মকর্তার সময়েই এই কেবল অপসরণের ঘটনা ঘটেছে—এমন অভিযোগ স্থানীয়ভাবে ঘুরছে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব এখন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

আরও পড়ুনঃ  প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা শুরুর দিনেই অনুপস্থিত ৩ হাজারের বেশি

 

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী বলা যায় না —এটাই আইনের নীতি কিন্তু ৮ কিলোমিটার কেবল অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লিখিত অনুমোদন নেই, ডিসপোজাল নথি নেই, আর্থিক রেকর্ড নেই—এই বাস্তবতা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

আরও পড়ুনঃ  সাত বছর পর বের হলো পারুল হত্যার রহস্য

আরো পড়ুন 

এখন জরুরী ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত স্টোর ও আত্মিক অডিট এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নিরূপণ করা প্রয়োজন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর নজরে আনা সময়ের দাবি। কারণ প্রশ্ন একটাই সংরক্ষণনের আড়ালে কি সরকারি কেবল হারিয়ে গেল?

 

ই-পেপার

সড়ক খননের আড়ালে কেবল উধাও? পাইকগাছায় প্রশ্নের মুখে বিটিসিএল

জনপ্রিয় পোস্ট

কিন্তু অভিযোগে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

সড়ক খননের আড়ালে কেবল উধাও? পাইকগাছায় প্রশ্নের মুখে বিটিসিএল

আপডেটের সময়: ০৮:১৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সড়ক খননের আড়ালে কেবল উধাও? পাইকগাছায় প্রশ্নের মুখে বিটিসিএল

অনুমোদন নেই, হিসাব নেই–৮ কিলোমিটার কেবল অপসারণের নথিহীনতা; দুই কর্মকর্তার বক্তব্যে বাড়ছে রহস্য।

খুলনার পাইকগাছা-আগড়ঘাটা থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ চলাকালে মাটি খুঁড়ে উঠে আসে আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল এরপর শুরু হয় একের পর এক প্রশ্ন- এই কেবল কত ছিল, কত তোলা হয়েছে , কোথায় জমা হয়েছে, আর তার আর্থিক মূল্য কত? সংশ্লিষ্ট দপ্তর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। কিন্তু অভিযোগে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য-অপসারিত কেবলের কোনো সুস্পষ্ট অফিসিয়াল হিসাব দেখাতে পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান ও আলেক রহমান।

 

সড়ক উন্নয়ন কাজ করছে রোডস এন্ড হাইওয়ে। কাজের সময় কেবল তোলা হয়েছে স্বীকার করলেও মোখলেসুর রহমান জানান, এই রুটে মোট কত কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল ছিল —সঠিক বলতে পারছি না।

 

পাইকগাছা-আগড়ঘাটা থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ঠিক কত কিলোমিটার কেবল অপসারণ হয়েছে-এ সম্পর্কেও তার কাছে কোনো লিখিত অনুমোদন বা ওয়ার্ক অর্ডার ছিলো না। উধ্বর্তন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে কিনা— এ প্রশ্নে তার বক্তব্য মোবাইলে জানানো হয়েছে।

 

আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো-তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ওই লাইনে কোনো সচল টেলিফোন সংযোগ নেই। কিন্তু পুরোনো বা অকেজো লাইনের সংখ্যা কত— সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তিালিকা দেখাতে পারেননি। অপসারিত কেবল স্টোর রেজিস্টার, স্টক এন্ট্রি,গ্রহণ-বিবরণী বা সর্বশেষ এন্টির তারিখ সম্পর্কে কোনো নথি দেখাতে পারেননি। ডিসপোজাল প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, ব্যবহারযোগ্য হলে ব্যবহার হবে, স্ক্র্যাপ চিহ্নিতকরণ, নিলাম নোটিশ বা লিখিত আদেশের কোন কঁপি নেই বলেই স্বীকার করেন।

 

মালামালের হেফাজতের দায়িত্বে কারা ছিলেন এ প্রশ্নের তিনি বলেন আমি এবং আলেক নামের এক জন কর্মচারী ছিলেন। তবে তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব বা লিখিত দায়ভার সংক্রান্ত নথি উপস্থাপন করা যায়নি। অফিস ক্যাম্পাসেই অবস্থান করেও ৮ কিলোমিটার ক্যাবলের সুনির্দিষ্ট হিসাব জানা নেই কেন —এ প্রশ্নে তিনি বলেন, এখান থেকে কিছু হলে এর দায়ভার আমার। আবার একই সঙ্গে দাবী করেন, রাস্তা থেকে কেউ তার নিয়ে গেলে আমরা তো দেখতে পাই না, কিভাবে জানবো? এই দ্বৈত বক্তব্যেই বাড়ছে প্রশ্ন।

 

স্থানীয়ভাবে ভাঙাড়ি দোকানের তামার তার বিক্রিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে—এই বিষয়ে জানতে চাইলে মোকলেসুর রহমান বলেন, যদি কেউ বিক্রি করে সেটা আইনের আওতায় পড়বে। লিখিত অনুমতি ছাড়া অফিসের কেবল বাইরে গেলে তা বৈধ কি না —এ প্রশ্নই তিনি স্পষ্ট বলেন বৈধ হওয়ার সুযোগ নেই।

 

কাউকে লিখিতভাবে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ অফিস থেকে কোন লিখিত বিক্রির অনুমোদন নেই— এ কথা তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ২০

 

এদিকে অফিসের আরেক কর্মচারী আলেকের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আছে উনার সঙ্গে কথা বলেন। আমি কিছুই জানি না। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে একই দপ্তরে কর্মরত দুই কর্মকর্তার সময়েই এই কেবল অপসরণের ঘটনা ঘটেছে—এমন অভিযোগ স্থানীয়ভাবে ঘুরছে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব এখন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

আরও পড়ুনঃ  প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা শুরুর দিনেই অনুপস্থিত ৩ হাজারের বেশি

 

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী বলা যায় না —এটাই আইনের নীতি কিন্তু ৮ কিলোমিটার কেবল অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লিখিত অনুমোদন নেই, ডিসপোজাল নথি নেই, আর্থিক রেকর্ড নেই—এই বাস্তবতা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

আরও পড়ুনঃ  সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২৪ লাখ টাকার ভারতীয় মাদক উদ্ধার

আরো পড়ুন 

এখন জরুরী ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত স্টোর ও আত্মিক অডিট এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নিরূপণ করা প্রয়োজন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর নজরে আনা সময়ের দাবি। কারণ প্রশ্ন একটাই সংরক্ষণনের আড়ালে কি সরকারি কেবল হারিয়ে গেল?

 

ই-পেপার

সড়ক খননের আড়ালে কেবল উধাও? পাইকগাছায় প্রশ্নের মুখে বিটিসিএল