কালিগঞ্জে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ১
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বসতঘরের তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আরফিন আক্তার ছবিয়া (২০)কে গাজীপুরের কাশিমপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, যিনি তাঁকে মেয়ের মতো স্নেহ করতেন, সেই আশ্রয়দাতা পরিবারের বাড়িতেই চুরির ঘটনা ঘটেছে।
মামলার অপর আসামি শাহিদ আলী (২২) ও কথিত সহযোগী মেহেদী হাসান পলাতক রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ঘটনাটি কালিগঞ্জ উপজেলার মধুরেশপুর গ্রামের। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য চাষ ও ঘের ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক (৬৪) তাঁর বাড়ির একটি অংশ ভাড়া দিয়েছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে আরফিন আক্তার ছবিয়া ও শাহিদ আলী সেখানে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন। পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে বাড়ির মালিক আরফিনকে মেয়ের মতো স্নেহ করতেন বলে জানা গেছে।
বাদীর অভিযোগ, গত ১৭ এপ্রিল পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে বসতঘরের তালা ভেঙে চুরি করা হয়। ওই দিন রতনপুর এলাকায় এক নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বিকেল ৩টার দিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আব্দুর রাজ্জাক। যাওয়ার সময় তিনি বসতঘরে তালা লাগিয়ে যান।
রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়িতে ফিরে তিনি দেখতে পান, ঘরের দরজার তালা ভাঙা। ভেতরে থাকা স্টিলের শোকেসও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ সময় বাড়ির ভাড়াটিয়া আরফিন আক্তার ও শাহিদ আলীকেও সেখানে পাওয়া যায়নি।
এজাহারে আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, ঘর থেকে ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, ১২ আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের দুল, ৪ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি, তিন ভরি রুপার নূপুর এবং নগদ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে। চুরি যাওয়া মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর দুই ভাড়াটিয়া আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করেন বাদী। পরে তাঁর লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে কালিগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৪৫৭/৩৮০/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়। মামলাটি কালিগঞ্জ থানার মামলা নম্বর-০১, তারিখ ৬ জুন ২০২৬।
মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান আসামি আরফিন আক্তারের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে গাজীপুরের কাশিমপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে কাশিমপুর থানাধীন সারদাগঞ্জ সাতবাড়ী এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারদাগঞ্জ সাতবাড়ী এলাকার ফকরুল মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসানের বাড়ি থেকে আরফিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আরফিন আক্তারকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে পলাতক আসামি শাহিদ আলী ও মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






















