Dhaka ০৭:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ইখলাসের ক্লু-লেস হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও ০২ জন আসামী গ্রেফতার। গোপালগঞ্জে কলেজ শিক্ষার্থী জোবায়ের ভূঁইয়াকে পিটিয়ে হত্যা ! কালিগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান কালিগঞ্জ ডিআরএম ইউনাইটেড আইডিয়াল কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত বেনাপোলে যুবদলের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ গোপালগঞ্জ ঢাকা – খুলনা সড়কে বাস ও প্রাইভেটকার সংঘর্ষ, নিহত -২ : গোপালগঞ্জে বাস-কনটেইনার গাড়ি সংঘর্ষ,নিহত ১ গোপালগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৭ যশোর সীমান্তে চোরাচালানী মালামাল জব্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও এসিল্যান্ড অফিসে এমপি রবিউল বাশারের আকস্মিক পরিদর্শন

গোবিন্দগঞ্জে ঈদের আগে নতুন ঘর পেলেন বিধবা দুই বোন

দীর্ঘদিনের মানবেতর জীবনযাপনের অবসান ঘটলো গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বসবাসরত বিধবা দুই সহোদর বোন জহুরা বেগম ও রামিজা বেগমের।

অবশেষে অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগের দিন একটি নতুন ঘর পেয়ে আশার আলো দেখছেন তারা।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল দশটায় উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের তুলশীপাড়া গ্রামে অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের মানবিক কার্যক্রমের আওতায় তাদের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, প্রায় ৪০ বছর আগে স্বামী শাহজামানের মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়িতে একটি ঘরে বসবাস করছিলেন জহুরা বেগম (৬৫)
এদিকে ১৬ বছর আগে স্বামী শাহজাহানের মৃত্যুর পরে বাপের বাড়িতে বড় বোনের ঘরে বসবাস শুরু করেন রামেজা বেগম (৪৫)। ঘরটি এতটাই নড়বড়ে ছিল যে, সেখানে বসবাস করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অভাব-অনটনের সংসারে শত কষ্টের মাঝেও সন্তানদের বড় করলেও বিয়ের পর মেয়েরা শ্বশুরবাড়ি আর ছেলেরা জীবিকার তাগিদে সস্ত্রীক ঢাকায় চলে যায়।
এমতাবস্থায় দুই বোনের দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছিল।

বাপের ভিটেয় কোনোমতে দিন কাটছিল তাদের। সেখানে মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকলেও ঘরটির অবস্থা ছিল জরাজীর্ণ।
নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে নতুন একটি ঘর তোলা ছিল দুই বোনের কাছে দিবাস্বপ্নের মতো।
একটি নতুন ঘরের আশায় দীর্ঘদিন ধরে দুই বোন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জ ক্রেডিট ইউনিয়নের কোটি টাকা নিয়ে কর্মচারী উধাও :

স্থানীয়দের অভিযোগ তার দুরবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চললেও অনেকেই পাশে দাঁড়াননি। তবে লোক মারফত বিষয়টি জানার পর একটি বেসরকারি সেবামূলক সংস্থার নজরে আসে তাদের করুণ জীবনচিত্র।

আরও পড়ুনঃ  কুড়িগ্রামে নজরুল বর্ষ উদযাপনে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ।

এরই ধারাবাহিকতায় অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জহুরা বেগম ও রামিজা বেগমকে একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়।
ঘরটি হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি দাউদ হাসান চৌধুরী সুমন ও ইঞ্জিনিয়ার হামিদুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত রামিজা বেগম বলেন, আগের ঘরটি পুরোনো হয়ে যাওয়া বর্ষাকালে পুরে ঘরে পানি পড়ত।
বেশিরভাগ জায়গায় ঘরের চাল ও চারপাশের বেড়া ভাঙা ছিল। ঘরটা পেয়ে দুই বোনকে আর ঝড় বৃষ্টিতে ভেজা লাগবে না।

আরও পড়ুনঃ  জেগে উঠো ফাউন্ডেশনের সহায়তায় তালুয়াপাড়ায় অসহায় পরিবারের মুখে হাসি

অপরদিকে নতুন ঘর পেয়ে জহুরা বেগম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন ঘর পেয়ে আমি অনেক খুশি। অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের কারণে নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলাম। আল্লাহ তাদের ভালো রাখুন।

অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি দাউদ হাসান চৌধুরী সুমন বলেন অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের কাজ হলো অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
সেই ধারাবাহিকতায় আমরা এই দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে পারি।

পরবর্তীতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের স্বাবলম্বী প্রজেক্ট থেকে তাদের এই নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অপরাজিতা ফাউন্ডেশন বিভিন্ন ধরনের মানবিক কাজের মাধ্যমে সবসময় মানুষের পাশে থাকে।

এলাকাবাসীও অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সমাজের বিত্তবানদেরও এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসা উচিত।

জনপ্রিয় পোস্ট

ইখলাসের ক্লু-লেস হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও ০২ জন আসামী গ্রেফতার।

গোবিন্দগঞ্জে ঈদের আগে নতুন ঘর পেলেন বিধবা দুই বোন

আপডেটের সময়: ০৮:৫১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘদিনের মানবেতর জীবনযাপনের অবসান ঘটলো গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বসবাসরত বিধবা দুই সহোদর বোন জহুরা বেগম ও রামিজা বেগমের।

অবশেষে অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগের দিন একটি নতুন ঘর পেয়ে আশার আলো দেখছেন তারা।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল দশটায় উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের তুলশীপাড়া গ্রামে অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের মানবিক কার্যক্রমের আওতায় তাদের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, প্রায় ৪০ বছর আগে স্বামী শাহজামানের মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়িতে একটি ঘরে বসবাস করছিলেন জহুরা বেগম (৬৫)
এদিকে ১৬ বছর আগে স্বামী শাহজাহানের মৃত্যুর পরে বাপের বাড়িতে বড় বোনের ঘরে বসবাস শুরু করেন রামেজা বেগম (৪৫)। ঘরটি এতটাই নড়বড়ে ছিল যে, সেখানে বসবাস করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অভাব-অনটনের সংসারে শত কষ্টের মাঝেও সন্তানদের বড় করলেও বিয়ের পর মেয়েরা শ্বশুরবাড়ি আর ছেলেরা জীবিকার তাগিদে সস্ত্রীক ঢাকায় চলে যায়।
এমতাবস্থায় দুই বোনের দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছিল।

বাপের ভিটেয় কোনোমতে দিন কাটছিল তাদের। সেখানে মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকলেও ঘরটির অবস্থা ছিল জরাজীর্ণ।
নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে নতুন একটি ঘর তোলা ছিল দুই বোনের কাছে দিবাস্বপ্নের মতো।
একটি নতুন ঘরের আশায় দীর্ঘদিন ধরে দুই বোন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জ ক্রেডিট ইউনিয়নের কোটি টাকা নিয়ে কর্মচারী উধাও :

স্থানীয়দের অভিযোগ তার দুরবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চললেও অনেকেই পাশে দাঁড়াননি। তবে লোক মারফত বিষয়টি জানার পর একটি বেসরকারি সেবামূলক সংস্থার নজরে আসে তাদের করুণ জীবনচিত্র।

আরও পড়ুনঃ  অভয়নগরে মাকে হারিয়ে ২ বছর বয়সী সন্তান নির্বাক, স্ত্রীকে ফিরে পেতে চান স্বামী

এরই ধারাবাহিকতায় অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জহুরা বেগম ও রামিজা বেগমকে একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়।
ঘরটি হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি দাউদ হাসান চৌধুরী সুমন ও ইঞ্জিনিয়ার হামিদুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত রামিজা বেগম বলেন, আগের ঘরটি পুরোনো হয়ে যাওয়া বর্ষাকালে পুরে ঘরে পানি পড়ত।
বেশিরভাগ জায়গায় ঘরের চাল ও চারপাশের বেড়া ভাঙা ছিল। ঘরটা পেয়ে দুই বোনকে আর ঝড় বৃষ্টিতে ভেজা লাগবে না।

আরও পড়ুনঃ  স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত রামগঞ্জের ভোলাকোট ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ

অপরদিকে নতুন ঘর পেয়ে জহুরা বেগম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন ঘর পেয়ে আমি অনেক খুশি। অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের কারণে নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলাম। আল্লাহ তাদের ভালো রাখুন।

অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি দাউদ হাসান চৌধুরী সুমন বলেন অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের কাজ হলো অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
সেই ধারাবাহিকতায় আমরা এই দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে পারি।

পরবর্তীতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের স্বাবলম্বী প্রজেক্ট থেকে তাদের এই নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অপরাজিতা ফাউন্ডেশন বিভিন্ন ধরনের মানবিক কাজের মাধ্যমে সবসময় মানুষের পাশে থাকে।

এলাকাবাসীও অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সমাজের বিত্তবানদেরও এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসা উচিত।