Dhaka ০৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পুলিশের সভা টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসছে ইংল্যান্ড কালিগঞ্জে গৃহবধূসহ দুজনকে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, থানায় এজাহার কালিগঞ্জে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও টানাহেঁচড়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ ঝিকরগাছায় সুস্থ ব্যক্তিরা তুলছেন প্রতিবন্ধী ভাতা সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিআরটিসি বাসের চাপায় মোটরসাইকেল চালক নিহত শার্শা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আসাদুল গ্রেফতার শার্শায় ১কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারী আটক সুলতানপুর বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা সংশোধন করে নির্বাচনের দাবি নবারুণ বালিকা বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ও পাঠদান নিয়ে প্রশ্ন

ঝিকরগাছায় সুস্থ ব্যক্তিরা তুলছেন প্রতিবন্ধী ভাতা

ঝিকরগাছায় সুস্থ ব্যক্তিরা তুলছেন প্রতিবন্ধী ভাতা

 

যশোরের ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী না হয়েও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বানিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও সামাজিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর চিত্র।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, পানিসারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মোহিনিকাঠি গ্রামের সৈয়দ গাজীর পুত্র শাহাজাহান, শাহজাহানের কন্যা সুমাইয়া, ইসমাইল মোড়লের কন্যা সুফিয়া বেগম, নবু মোড়লের কন্যা ফাতেমা বেগম, আব্দুল গফুরের পুত্র উকিল মিয়া, উকিল মিয়ার ভাগ্নে সাগর হোসেন, মোসলেম গাজীর দুই ছেলে এনামুল ও মনিরুল, মনিরুলের স্ত্রী জেসমিন বেগম এবং এই দম্পতির ছেলে রাফিদ সহ আরও অনেকে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণ করার মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছেন।

আরও পড়ুনঃ  বিমানবন্দর এলাকায় থাকতেন চালক সেজে, গোপালগঞ্জে অস্ত্র ও নগদ টাকাসহ গ্রেপ্তার ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য :-

​ভাতা গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে এনামুল জানান, তার পায়ের গোড়ালিতে একটি ঘায়ের দাগ দেখিয়ে তিনি ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। অন্যদিকে এনামুলের ছোট ভাই মনিরুলের স্ত্রী জেসমিন বেগম বলেন, তিনি পড়ে গিয়ে মাজায় ব্যথা পেয়েছিলেন। এছাড়া তার স্বামীর মাজায় এবং ছেলের হাতে সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করেন। শাহাজাহানের মা ও সুমাইয়ার দাদী সখিনা বেগম বলেন, তার ছেলের চোখে সামান্য সমস্যা আছে এবং সুমাইয়া ছোটবেলায় ঠিকমতো হাঁটতে পারতো না, তাই তাদের জন্য ভাতার আবেদন করা হয়েছিল। এছাড়া উকিল মিয়ার ভাইয়ের স্ত্রী ও সাগরের মামি মর্জিনা বেগম দাবি করেন, তাদের দুজনের চোখে সামান্য সমস্যা থাকার কারণে তারা প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। মর্জিনার স্বামী সোনা মিয়াও প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগী।

আরও পড়ুনঃ  স্বচ্ছলতার স্বপ্নে প্রবাসে পাড়ি, মাটিচাপায় নিভে গেল শরিফুলের প্রাণ

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আগে অনেকেই এরকম ভাবে প্রতিবন্ধী না হয়েও ভাতা নিচ্ছেন। আমরা এধরণের অনিয়মের খবর পেলে যথাযথ তদন্ত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। প্রতিবন্ধী না হলে তার ভাতা বাতিল করা হবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুনঃ  টুঙ্গিপাড়ায় দুই খাবার হোটেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, জরিমানা ১৪ হাজার টাকা

​এভাবে সামান্য অজুহাত ও জালিয়াতির মাধ্যমে সুস্থ মানুষরা ভাতা ভোগ করায় এবং প্রকৃত প্রতিবন্ধীরা সরকারি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। সচেতন মহল অবিলম্বে ভুয়া সুবিধাভোগীদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রকৃত প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় পোস্ট

সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পুলিশের সভা

ঝিকরগাছায় সুস্থ ব্যক্তিরা তুলছেন প্রতিবন্ধী ভাতা

আপডেটের সময়: ০৬:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝিকরগাছায় সুস্থ ব্যক্তিরা তুলছেন প্রতিবন্ধী ভাতা

 

যশোরের ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী না হয়েও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বানিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও সামাজিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর চিত্র।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, পানিসারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মোহিনিকাঠি গ্রামের সৈয়দ গাজীর পুত্র শাহাজাহান, শাহজাহানের কন্যা সুমাইয়া, ইসমাইল মোড়লের কন্যা সুফিয়া বেগম, নবু মোড়লের কন্যা ফাতেমা বেগম, আব্দুল গফুরের পুত্র উকিল মিয়া, উকিল মিয়ার ভাগ্নে সাগর হোসেন, মোসলেম গাজীর দুই ছেলে এনামুল ও মনিরুল, মনিরুলের স্ত্রী জেসমিন বেগম এবং এই দম্পতির ছেলে রাফিদ সহ আরও অনেকে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণ করার মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছেন।

আরও পড়ুনঃ  মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত ইমদাদুল হক ইমদাদ

​ভাতা গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে এনামুল জানান, তার পায়ের গোড়ালিতে একটি ঘায়ের দাগ দেখিয়ে তিনি ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। অন্যদিকে এনামুলের ছোট ভাই মনিরুলের স্ত্রী জেসমিন বেগম বলেন, তিনি পড়ে গিয়ে মাজায় ব্যথা পেয়েছিলেন। এছাড়া তার স্বামীর মাজায় এবং ছেলের হাতে সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করেন। শাহাজাহানের মা ও সুমাইয়ার দাদী সখিনা বেগম বলেন, তার ছেলের চোখে সামান্য সমস্যা আছে এবং সুমাইয়া ছোটবেলায় ঠিকমতো হাঁটতে পারতো না, তাই তাদের জন্য ভাতার আবেদন করা হয়েছিল। এছাড়া উকিল মিয়ার ভাইয়ের স্ত্রী ও সাগরের মামি মর্জিনা বেগম দাবি করেন, তাদের দুজনের চোখে সামান্য সমস্যা থাকার কারণে তারা প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। মর্জিনার স্বামী সোনা মিয়াও প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগী।

আরও পড়ুনঃ  দেবীচরণ দুর্গা মন্দিরের ভাঙা প্রবেশপথে জিও-ব্যাগ ও ভিডি বালু 

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আগে অনেকেই এরকম ভাবে প্রতিবন্ধী না হয়েও ভাতা নিচ্ছেন। আমরা এধরণের অনিয়মের খবর পেলে যথাযথ তদন্ত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। প্রতিবন্ধী না হলে তার ভাতা বাতিল করা হবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরে বিএনপির নির্বাচনী মতবিনিময় সভা

​এভাবে সামান্য অজুহাত ও জালিয়াতির মাধ্যমে সুস্থ মানুষরা ভাতা ভোগ করায় এবং প্রকৃত প্রতিবন্ধীরা সরকারি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। সচেতন মহল অবিলম্বে ভুয়া সুবিধাভোগীদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রকৃত প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।