Dhaka ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিকরগাছার পিআইওর বিরুদ্ধে অফিসে অনুপস্থিতি সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

ঝিকরগাছার পিআইওর বিরুদ্ধে অফিসে অনুপস্থিতি সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

 

কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, মাঠপর্যায়ে কাজের তদারকি না করা এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে যশোরের ঝিকরগাছার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জালাল আহমেদ এর বিরুদ্ধে। ৯ম গ্রেডে সরকারি চাকরি করেও নিয়মিত ভাবে ঢাকা-যশোর বিমানে যাতায়াত এবং রাজধানীতে বিলাসী জীবনযাপনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অপরদিকে, এই কর্মকর্তার অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সাংবাদিকের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছা উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জালাল আহমেদ কর্মস্থলে অনিয়মিত। সর্বসাকুল্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকা বেতন পাওয়া এই কর্মকর্তার পরিবার থাকে ঢাকার এক অভিজাত এলাকায়।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত অফিস করেননা, বিমানে করে ঢাকায় যান আবার বিমানে চড়েই কর্মস্থলে ফেরেন। মাঠপর্যায়ে সরকারি নানা উন্নয়নমূলক কাজ তদারকি করার কথা থাকলেও তিনি কখনো তদারকিতে গেছেন—এমন কোনো তথ্য বা রেকর্ড অফিসে নেই।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ নারী কারবারি আটক

​সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই তিনি অফিস করে ঢাকায় চলে যান এবং ৬ আগষ্ট অফিসে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন অফিসে না থাকায় উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবা প্রার্থীরা চরম হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে স্বাক্ষর না হওয়ায় আটকে রয়েছে বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক কাজ। অফিসে অনুপস্থিতি এবং অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন বলেন, “আমি কীভাবে ছুটি কাটিয়েছি, তা আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালোভাবেই জানেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে আমি গণমাধ্যমের কাছে কোনো কথা বলতে পারব না।”

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জে মুকসুদপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মোট ১২ বার চুরি

​এদিকে, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তার পক্ষ নিয়েছেন উপজেলার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “একজন কর্মকর্তা অফিসে না আসলে আমাদের তো কোনো সমস্যা হচ্ছে না, আপনাদের (সাংবাদিকদের) কেন সমস্যা হচ্ছে?” কোনো বিধিতে ওই কর্মকর্তাকে ছুটি দেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ছুটির বিধিমালা ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে, আপনারা দেখে নেন। ছুটির দরখাস্ত আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।

​প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার এই অস্বাভাবিক অনুপস্থিতি, বিমানে যাতায়াত এবং ইউএনও-এর এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  স্বচ্ছলতার স্বপ্নে প্রবাসে পাড়ি, মাটিচাপায় নিভে গেল শরিফুলের প্রাণ

অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

জনপ্রিয় পোস্ট

ঝিকরগাছার পিআইওর বিরুদ্ধে অফিসে অনুপস্থিতি সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৯:০২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

ঝিকরগাছার পিআইওর বিরুদ্ধে অফিসে অনুপস্থিতি সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

 

কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, মাঠপর্যায়ে কাজের তদারকি না করা এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে যশোরের ঝিকরগাছার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জালাল আহমেদ এর বিরুদ্ধে। ৯ম গ্রেডে সরকারি চাকরি করেও নিয়মিত ভাবে ঢাকা-যশোর বিমানে যাতায়াত এবং রাজধানীতে বিলাসী জীবনযাপনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অপরদিকে, এই কর্মকর্তার অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সাংবাদিকের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছা উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জালাল আহমেদ কর্মস্থলে অনিয়মিত। সর্বসাকুল্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকা বেতন পাওয়া এই কর্মকর্তার পরিবার থাকে ঢাকার এক অভিজাত এলাকায়।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত অফিস করেননা, বিমানে করে ঢাকায় যান আবার বিমানে চড়েই কর্মস্থলে ফেরেন। মাঠপর্যায়ে সরকারি নানা উন্নয়নমূলক কাজ তদারকি করার কথা থাকলেও তিনি কখনো তদারকিতে গেছেন—এমন কোনো তথ্য বা রেকর্ড অফিসে নেই।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জে মুকসুদপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মোট ১২ বার চুরি

​সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই তিনি অফিস করে ঢাকায় চলে যান এবং ৬ আগষ্ট অফিসে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন অফিসে না থাকায় উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবা প্রার্থীরা চরম হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে স্বাক্ষর না হওয়ায় আটকে রয়েছে বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক কাজ। অফিসে অনুপস্থিতি এবং অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন বলেন, “আমি কীভাবে ছুটি কাটিয়েছি, তা আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালোভাবেই জানেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে আমি গণমাধ্যমের কাছে কোনো কথা বলতে পারব না।”

আরও পড়ুনঃ  স্বচ্ছলতার স্বপ্নে প্রবাসে পাড়ি, মাটিচাপায় নিভে গেল শরিফুলের প্রাণ

​এদিকে, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তার পক্ষ নিয়েছেন উপজেলার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “একজন কর্মকর্তা অফিসে না আসলে আমাদের তো কোনো সমস্যা হচ্ছে না, আপনাদের (সাংবাদিকদের) কেন সমস্যা হচ্ছে?” কোনো বিধিতে ওই কর্মকর্তাকে ছুটি দেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ছুটির বিধিমালা ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে, আপনারা দেখে নেন। ছুটির দরখাস্ত আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।

​প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার এই অস্বাভাবিক অনুপস্থিতি, বিমানে যাতায়াত এবং ইউএনও-এর এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  গাইবান্ধায় মাদক সেবনের অভিযোগে যুবক আটক

অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।