Dhaka ০৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রাজধানীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত সাতক্ষীরায় ঘেরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড—ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার। রাজারহাটে অদ্বিতা সুধী কানন ফিলিং স্টেশনে বাইকে আগুন, ভুয়া শিরোনাম নিয়ে ক্ষোভ মালিকের বাক প্রতিবন্ধী নারীর বিয়ে ও দুই সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে তুমুল বিতর্ক নারী-নেতৃত্বাধীন জলবায়ু সহনশীলতা ও সুরক্ষা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগআঁচড়ায় ৫ ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা বিজয়নগরে ২৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারি গ্রেফতার সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন বিজয়নগরের নাদিয়া পাঠান পাপন বীরগঞ্জে শুরু হাম-রুবেলা টিকা, সুরক্ষায় শিশুরা

পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে রানীশংকৈলে কোটি টাকার ভবন

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ বাজারে নির্মিত আড়াই কোটি টাকার একটি আধুনিক বাজার ভবন দুই বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো সেখানে প‚র্ণাঙ্গভাবে ব্যবসার কার্যক্রম শুরু করেনি দোকান মালিকরা। ফলে একদিকে ভবনের অবকাঠামো যেমনি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে কাঙিখত অর্থনৈতিক সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

জানাযায়, গ্রামীণ বাজারের অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ২০২১ সালে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর এটি বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে ব্যয় হয় ২ কোটি ৫৫ লাখ ১২ হাজার ১০২ টাকা। উদ্দেশ্য ছিল কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য বিপণনে সুবিধা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনা হবেই এ মার্কেটের মূল লক্ষ। সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো কাঁচা-পাকা দোকানের মাঝখানে দুই তলা বিশিষ্ট ভবনটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু নিচতলার ৩৪টি এবং ওপরতলার ২৪টি দোকানঘর এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। নিচতলায় সবজি, মাছ ও মাংসের দোকান বসার কথা থাকলেও অধিকাংশ ঘর ফাঁকা রয়েছে।

  • দোতলায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ঘরগুলোতেও ব্যবসা শুরু হয়নি। বাজারে তিন শতাধিক ছোট-বড় দোকান রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী এখনো খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী ঘরে ব্যবসা করছেন। সাপ্তাহিক হাটের দিন রোববার কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলেও স্থায়ী দোকানগুলোতে নিয়মিত বেচাকেনা নেই। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনের টাইলস ও দেয়ালে ধুলা জমেছে, কিছু অংশে ক্ষয়ের চিহ্নও দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ  ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন

ব্যাবসায়ী শহিদুল বলেন, বাজারটি বহু বছরের পুরোনো। এখানে ধান-গম ও গবাদিপশুর বড় হাট বসে। কিন্তু নতুন ভবনটি চালু না হওয়ায় আমরা সুবিধা পাচ্ছি না এ অঞ্চলের মানুষ। দোতলার একটি দোকান বরাদ্দ পাওয়া ভবানন্দপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, স্ত্রীর নামে ঘর নিতে এক লাখ টাকা জামানত দিয়েছেন। মাসিক ভাড়া এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখনো দোকান চালু করেনি।

নেকমরদ মেলা কমিটির সম্পাদক মোঃ নবী বলেন, ভবনটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে। দ্রত ব্যবস্থা না নিলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে। নতুবা লীজ বাতিল করে যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী তাদেরকে ঘরগুলি পুনরায় বরাদ্দ দিয়ে মার্কেটটি চালু করার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুনঃ  ৪০৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুই মাদককারবারি আটক

উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান জানান, এলজিইডি নির্মাণকাজ শেষ করে ভবনটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে। বাজার চালুর বিষয়টি প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল করছে।

আরও পড়ুনঃ  ডিহিতে এসএসসি পরিক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা ও দোয়া

নেকমরদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা এখনো ব্যবসা শুরু করেননি, তাঁদের দ্রুত চালু করতে বলা হবে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় পোস্ট

রাজধানীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত

পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে রানীশংকৈলে কোটি টাকার ভবন

আপডেটের সময়: ০৩:২১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ বাজারে নির্মিত আড়াই কোটি টাকার একটি আধুনিক বাজার ভবন দুই বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো সেখানে প‚র্ণাঙ্গভাবে ব্যবসার কার্যক্রম শুরু করেনি দোকান মালিকরা। ফলে একদিকে ভবনের অবকাঠামো যেমনি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে কাঙিখত অর্থনৈতিক সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

জানাযায়, গ্রামীণ বাজারের অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ২০২১ সালে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর এটি বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে ব্যয় হয় ২ কোটি ৫৫ লাখ ১২ হাজার ১০২ টাকা। উদ্দেশ্য ছিল কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য বিপণনে সুবিধা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনা হবেই এ মার্কেটের মূল লক্ষ। সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো কাঁচা-পাকা দোকানের মাঝখানে দুই তলা বিশিষ্ট ভবনটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু নিচতলার ৩৪টি এবং ওপরতলার ২৪টি দোকানঘর এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। নিচতলায় সবজি, মাছ ও মাংসের দোকান বসার কথা থাকলেও অধিকাংশ ঘর ফাঁকা রয়েছে।

  • দোতলায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ঘরগুলোতেও ব্যবসা শুরু হয়নি। বাজারে তিন শতাধিক ছোট-বড় দোকান রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী এখনো খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী ঘরে ব্যবসা করছেন। সাপ্তাহিক হাটের দিন রোববার কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলেও স্থায়ী দোকানগুলোতে নিয়মিত বেচাকেনা নেই। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনের টাইলস ও দেয়ালে ধুলা জমেছে, কিছু অংশে ক্ষয়ের চিহ্নও দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ  ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন

ব্যাবসায়ী শহিদুল বলেন, বাজারটি বহু বছরের পুরোনো। এখানে ধান-গম ও গবাদিপশুর বড় হাট বসে। কিন্তু নতুন ভবনটি চালু না হওয়ায় আমরা সুবিধা পাচ্ছি না এ অঞ্চলের মানুষ। দোতলার একটি দোকান বরাদ্দ পাওয়া ভবানন্দপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, স্ত্রীর নামে ঘর নিতে এক লাখ টাকা জামানত দিয়েছেন। মাসিক ভাড়া এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখনো দোকান চালু করেনি।

নেকমরদ মেলা কমিটির সম্পাদক মোঃ নবী বলেন, ভবনটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে। দ্রত ব্যবস্থা না নিলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে। নতুবা লীজ বাতিল করে যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী তাদেরকে ঘরগুলি পুনরায় বরাদ্দ দিয়ে মার্কেটটি চালু করার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুনঃ  কুষ্টিয়ায় রাসেল ভাইপারের কামড়ে কৃষকের মৃত্যু

উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান জানান, এলজিইডি নির্মাণকাজ শেষ করে ভবনটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে। বাজার চালুর বিষয়টি প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল করছে।

আরও পড়ুনঃ  বিজয়নগরে ২৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারি গ্রেফতার

নেকমরদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা এখনো ব্যবসা শুরু করেননি, তাঁদের দ্রুত চালু করতে বলা হবে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।