নওগাঁর মান্দায় পুকুর সংস্কারের নামে বর্ধিতকরণ চলছে মাটি বিক্রির মহোৎসব
নওগাঁর মান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাদলঘাটা গ্রামে পুকুর সংস্কারের নামে অবৈধভাবে পুকুর বর্ধিতকরণ ও মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল এস্কেভেটর (ভেকু) বসিয়ে পুকুর খননের আড়ালে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে জমির মাটি কেটে বিক্রি করছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সিখিল সরকার পুকুর খনন ও ভরাটের অনুমতির শর্ত উপেক্ষা করে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাদলঘাটা মৌজার জেল নং ৭৮ খতিয়ান নং ১৫৩ দাগ নং ৯৫৫ পরিমাণ এক একর রকম পুকুর সংস্কারের অনুমোদন থাকলেও প্রভাবশালী একটি মহল নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে পুকুর সংলগ্ন নামে ধানী প্রায় ৭ বিঘা জমিজুড়ে খনন পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। গভীর করে মাটি কেটে ট্রাক্টরযোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো সংস্কার নয়; বরং প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, বাদলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশেই পুকুরটির অবস্থান হওয়ায় এক্সকাভেটরের বিকট শব্দে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও চলতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা রাতে পড়াশোনা করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।
এছাড়া ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এলাকার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বাজার এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও ধুলাবালির দুর্ভোগ। আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন সাইফুল কাশেম রুবেল বলেন, প্রকাশ্যে মাটি প্রভশালীএকটি চক্র প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবাধে এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পুকুর সংস্কারের অনুমতি নিয়ে অতিরিক্ত কৃষি জমি খনন এবং মাটি বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিল নওরোজ বৈশাখ বলেন, পুকুর সংস্কারের আড়ালে নতুন করে পুকুর খনন বা বর্ধিতকরণ, মাটি বিক্রি এবং মাটি পরিবহনের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















