Dhaka ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

মার্চ-এপ্রিলে ইলিশের অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ লক্ষাধিক জেলে কমর্হীন

জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি লক্ষ্যে মার্চ ও এপ্রিল—টানা দুই মাস মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীসহ ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। পহেলা মার্চ থেকে শুরু হয়ে এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পটুয়াখালীর লক্ষাধিক জেলে।

 

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যান্য অভয়াশ্রমের পাশাপাশি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদী থেকে রাঙ্গাবালী উপজেলা পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এ সময় নদীতে কোনো ধরনের জাল ফেলা, মাছ আহরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদকরণ নিষিদ্ধ থাকবে। বিশেষ করে ১০ ইঞ্চির নিচের ইলিশ (জাটকা) ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

 

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং নৌবাহিনীর সমন্বয়ে প্রতিদিন নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী। তিনি বলেন, “এই দুই মাস কোনো অসাধু জেলে যাতে নদীতে নামতে না পারে সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে থাকব। নৌবাহিনীর সহায়তায় নিয়মিত অভিযান চলবে। জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল যথাসময়ে বিতরণের চেষ্টা থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি

 

নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই অনেক ট্রলার ও মাছ ধরার নৌকা ঘাটে ফিরে আসতে শুরু করেছে। জরিমানা ও জেল এড়াতে জেলেরা নির্ধারিত সময়ের আগেই নদী থেকে ফিরে আসছেন। জেলেরা জানিয়েছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিচ্ছেন এবং জাটকা সংরক্ষণে সহযোগিতা করবেন। তবে টানা দুই মাস কর্মহীন থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়তে হয় তাদের।

 

স্থানীয় জেলেদের দাবি, অভিযানের শুরুতেই সরকারি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করতে হবে এবং এ সময় এনজিওর ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে হবে। তা না হলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, পটুয়াখালী জেলায় ১ লাখের বেশি জেলে এ নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন থাকবেন। এর মধ্যে ৫০ হাজার ৭৫০ জন নিবন্ধিত জেলেকে দুই মাস মাসে ৪০ কেজি করে সরকারি চাল সহায়তা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাটকা সংরক্ষণ অভিযান সফল হলে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতি ও জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজন যথাসময়ে সহায়তা ও কার্যকর তদারকি।

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

মার্চ-এপ্রিলে ইলিশের অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ লক্ষাধিক জেলে কমর্হীন

আপডেটের সময়: ০৭:৫৯:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি লক্ষ্যে মার্চ ও এপ্রিল—টানা দুই মাস মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীসহ ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। পহেলা মার্চ থেকে শুরু হয়ে এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পটুয়াখালীর লক্ষাধিক জেলে।

 

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যান্য অভয়াশ্রমের পাশাপাশি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদী থেকে রাঙ্গাবালী উপজেলা পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এ সময় নদীতে কোনো ধরনের জাল ফেলা, মাছ আহরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদকরণ নিষিদ্ধ থাকবে। বিশেষ করে ১০ ইঞ্চির নিচের ইলিশ (জাটকা) ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি

 

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং নৌবাহিনীর সমন্বয়ে প্রতিদিন নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী। তিনি বলেন, “এই দুই মাস কোনো অসাধু জেলে যাতে নদীতে নামতে না পারে সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে থাকব। নৌবাহিনীর সহায়তায় নিয়মিত অভিযান চলবে। জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল যথাসময়ে বিতরণের চেষ্টা থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা

 

নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই অনেক ট্রলার ও মাছ ধরার নৌকা ঘাটে ফিরে আসতে শুরু করেছে। জরিমানা ও জেল এড়াতে জেলেরা নির্ধারিত সময়ের আগেই নদী থেকে ফিরে আসছেন। জেলেরা জানিয়েছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিচ্ছেন এবং জাটকা সংরক্ষণে সহযোগিতা করবেন। তবে টানা দুই মাস কর্মহীন থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়তে হয় তাদের।

 

স্থানীয় জেলেদের দাবি, অভিযানের শুরুতেই সরকারি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করতে হবে এবং এ সময় এনজিওর ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে হবে। তা না হলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, পটুয়াখালী জেলায় ১ লাখের বেশি জেলে এ নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন থাকবেন। এর মধ্যে ৫০ হাজার ৭৫০ জন নিবন্ধিত জেলেকে দুই মাস মাসে ৪০ কেজি করে সরকারি চাল সহায়তা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাটকা সংরক্ষণ অভিযান সফল হলে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতি ও জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজন যথাসময়ে সহায়তা ও কার্যকর তদারকি।