Dhaka ০৮:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে হরিণের সংখ্যা বাড়লেও বন্ধ হয়নি শিকার।

সুন্দরবনে হরিণের সংখ্যা বাড়লেও বন্ধ হয়নি শিকার।

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে তিন শতাধিক প্রজাতির প্রাণিকুলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা মেলে লাজুক প্রাণী হরিণের।

এরা দূর থেকে মানুষের শব্দ পেলেই ঘন বনে লুকানোর চেষ্টা করে। দর্শনার্থীরাও বনের বাঁকে বাঁকে, খাল বা নদীর ধারে হরহামেশা দল বেঁধে হরিণের চলাফেরার দৃশ্য দেখতে পান। মায়া ও চিত্রা নামে দুই প্রজাতির হরিণের দেখা যায় এ বনে। এর মধ্যে চিত্রা হরিণের সংখ্যা বেশি।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব ও পশ্চিম—এ দুই প্রশাসনিক বিভাগে সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশ অংশ বিভক্ত। খুলনা ও সাতক্ষীরা অংশ নিয়ে পশ্চিম সুন্দরবন। আর বাগেরহাট ও খুলনার সামান্য অংশ নিয়ে পূর্ব সুন্দরবন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দ্য কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে সুন্দরবনে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টি হরিণ রয়েছে। এর আগে ২০০৪ সালের জরিপে হরিণের সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার। তবে জরিপে সুন্দরবনে হরিণের সংখ্যা বাড়লেও বন্ধ হয়নি শিকার।

অভিযোগ রয়েছে, বন কর্মকর্তা ও রক্ষীদের সহায়তায় সারা বছরই সুন্দরবনে হরিণ শিকার করে স্থানীয় কয়েকটি শিকারি চক্র। এসব শিকারির ফাঁদে শুধু হরিণই নয়, অটকা পড়ছে বন্য শূকর ও বাঘ।

সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, এক শ্রেণীর চোরা শিকারির দৌরাত্ম্যে হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবনের প্রাণিসম্পদ। সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামে রয়েছে চিহ্নিত কয়েকটি চোরা শিকারি ও বন্যপ্রাণী পাচারকারী চক্র। এদের কেউ কেউ বংশপরম্পরা সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী শিকারে জড়িত।

 

আরও পড়ুনঃ  কৃষি বাজেট প্রস্তাবনা

তবে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী রক্ষায় বনরক্ষীরা সবসময় তৎপর রয়েছেন। বন অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বন বিভাগ। বনরক্ষীদের নিয়মিত অভিযানের ফলে অপরাধ ক্রমে কমে আসছে।

 

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান জানিয়েছেন, উৎসব-পার্বণ উপলক্ষে এক শ্রেণীর মানুষ সুন্দরবনের সম্পদ লুণ্ঠনের চেষ্টা চালায়। এ সময় হরিণ শিকারিদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। তবে তাদের দমনে সার্বক্ষণিক টহল জোরদারসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, ‘জনবল সংকটসহ বেশকিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও সুন্দরবনকেন্দ্রিক সব ধরনের অপরাধ দমনে সচেষ্ট রয়েছেন বন কর্মকর্তা-প্রহরীরা। প্রায়ই কীটনাশক, কীটনাশক প্রয়োগে ধরা মাছ, নিষিদ্ধ ঘন জালসহ সুন্দরবনে অবৈধভাবে প্রবেশ করা জেলেদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সুন্দরবনে বিচ্ছিন্ন কিছু হরিণ শিকারের ঘটনা ঘটলেও সেটা আগের চেয়ে তুলনামূলক অনেক কম। শিকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণেই মাংসসহ হরিণ শিকারি ধরা পড়ছে। বিপুল পরিমাণে ফাঁদও জব্দ হচ্ছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সুন্দরবনে দেড়শরও অধিক শিকারি চক্র সক্রিয়। এসব পেশাদার শিকারি জেলের ছদ্মবেশে মাছ ধরার জালের সঙ্গে দড়ি নিয়ে বনে যায়। বনের ভেতরেই সেই দড়ি দিয়ে হরিণ ধরার ফাঁদ তৈরি করে। এরপর হরিণের যাতায়াতের পথে ফাঁদ পেতে রাখে। চলাচলের সময় প্রাণীগুলো সেই ফাঁদে আটকা পড়ে। পরে বনের ভেতরে মাংস কেটে লোকালয়ে এনে বিক্রি করে। শিকার শেষে ফিরে যাওয়ার সময় ফাঁদগুলো বস্তায় ভরে জঙ্গলের ভেতর মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখা হয়। সময়-সুযোগ মিললে তারা আবার শিকারে আসে।

 

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে গুলিতে কাঁকড়া শিকারি মৃত্যু

সুন্দরবন ও বাংলাদেশ উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের মিডিয়া সমন্বয়ক ওবায়দুল কবির সম্রাট বলেন, ‘সুন্দরবনে হরিণ শিকার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। উৎসবে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় এ বন্যপ্রাণীর মাংসের চাহিদা বেশি বেড়ে যায়। ধনাঢ্য ব্যক্তিরা হরিণের মাংস দিয়ে উৎসব পালন করেন। এ সময় দৌরাত্ম্য বাড়ে স্থানীয় কয়েকটি চোরা শিকারি চক্রের। যে পরিমাণ হরিণের মাংস ও চামড়া আটক হয়, তার থেকে কয়েক গুণ বেশি শিকার করা হয়। মাঝেমধ্যে দুই-একটি অভিযানে হরিণের মাংস, চামড়া, মাথা উদ্ধার হলেও মূল শিকারি ও পাচারকারী আটক হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হরিণের মাংস বহনকারীরাই ধরা পড়ে। আর যারা আটক হন তারা দুর্বল আইনের কারণে কয়েকদিন পর জেল থেকে ফিরে একই কাজে লিপ্ত হন।’

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে আটক হরিণ শিকারিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বনের পাশে যাদের বাড়ি, তারাই বেশি হরিণ শিকারের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে সুন্দরবন প্রভাবিত খুলনার কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর এবং বাগেরহাটের মোংলা ও শরণখোলার মানুষ বেশি হরিণ শিকার করেন। এসব উপজেলার গ্রামগুলোতে বেশির ভাগই শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। তাদের প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ সুন্দরবনকেন্দ্রিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

 

আরও পড়ুনঃ  সন্তানদের আটকে রেখে স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা, স্বামী পলাতক

এ বিষয়ে কার্যক্রম জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন (মোংলা সদর দপ্তর) ও খুলনার রেঞ্জ ডিআইজির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চল দস্যুমুক্ত এবং চোরাচালান ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় দস্যু দমনে যৌথ অভিযান চালানো হয়। এরপর ২ মার্চ থেকে দ্বিতীয় দফায় ফের যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে অভিযানে নৌবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ অংশ নিচ্ছে।

 

সার্বিক বিষয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘সুন্দরবন সুরক্ষা ও উপকূলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কমিউনিটিভিত্তিক সুরক্ষা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। কোনো অনৈতিক কাজে বন বিভাগের কারো জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে হরিণের সংখ্যা বাড়লেও বন্ধ হয়নি শিকার।

আপডেটের সময়: ০৭:২০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

সুন্দরবনে হরিণের সংখ্যা বাড়লেও বন্ধ হয়নি শিকার।

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে তিন শতাধিক প্রজাতির প্রাণিকুলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা মেলে লাজুক প্রাণী হরিণের।

এরা দূর থেকে মানুষের শব্দ পেলেই ঘন বনে লুকানোর চেষ্টা করে। দর্শনার্থীরাও বনের বাঁকে বাঁকে, খাল বা নদীর ধারে হরহামেশা দল বেঁধে হরিণের চলাফেরার দৃশ্য দেখতে পান। মায়া ও চিত্রা নামে দুই প্রজাতির হরিণের দেখা যায় এ বনে। এর মধ্যে চিত্রা হরিণের সংখ্যা বেশি।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব ও পশ্চিম—এ দুই প্রশাসনিক বিভাগে সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশ অংশ বিভক্ত। খুলনা ও সাতক্ষীরা অংশ নিয়ে পশ্চিম সুন্দরবন। আর বাগেরহাট ও খুলনার সামান্য অংশ নিয়ে পূর্ব সুন্দরবন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দ্য কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে সুন্দরবনে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টি হরিণ রয়েছে। এর আগে ২০০৪ সালের জরিপে হরিণের সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার। তবে জরিপে সুন্দরবনে হরিণের সংখ্যা বাড়লেও বন্ধ হয়নি শিকার।

অভিযোগ রয়েছে, বন কর্মকর্তা ও রক্ষীদের সহায়তায় সারা বছরই সুন্দরবনে হরিণ শিকার করে স্থানীয় কয়েকটি শিকারি চক্র। এসব শিকারির ফাঁদে শুধু হরিণই নয়, অটকা পড়ছে বন্য শূকর ও বাঘ।

সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, এক শ্রেণীর চোরা শিকারির দৌরাত্ম্যে হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবনের প্রাণিসম্পদ। সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামে রয়েছে চিহ্নিত কয়েকটি চোরা শিকারি ও বন্যপ্রাণী পাচারকারী চক্র। এদের কেউ কেউ বংশপরম্পরা সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী শিকারে জড়িত।

 

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে গুলিতে কাঁকড়া শিকারি মৃত্যু

তবে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী রক্ষায় বনরক্ষীরা সবসময় তৎপর রয়েছেন। বন অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বন বিভাগ। বনরক্ষীদের নিয়মিত অভিযানের ফলে অপরাধ ক্রমে কমে আসছে।

 

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান জানিয়েছেন, উৎসব-পার্বণ উপলক্ষে এক শ্রেণীর মানুষ সুন্দরবনের সম্পদ লুণ্ঠনের চেষ্টা চালায়। এ সময় হরিণ শিকারিদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। তবে তাদের দমনে সার্বক্ষণিক টহল জোরদারসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, ‘জনবল সংকটসহ বেশকিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও সুন্দরবনকেন্দ্রিক সব ধরনের অপরাধ দমনে সচেষ্ট রয়েছেন বন কর্মকর্তা-প্রহরীরা। প্রায়ই কীটনাশক, কীটনাশক প্রয়োগে ধরা মাছ, নিষিদ্ধ ঘন জালসহ সুন্দরবনে অবৈধভাবে প্রবেশ করা জেলেদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সুন্দরবনে বিচ্ছিন্ন কিছু হরিণ শিকারের ঘটনা ঘটলেও সেটা আগের চেয়ে তুলনামূলক অনেক কম। শিকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণেই মাংসসহ হরিণ শিকারি ধরা পড়ছে। বিপুল পরিমাণে ফাঁদও জব্দ হচ্ছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সুন্দরবনে দেড়শরও অধিক শিকারি চক্র সক্রিয়। এসব পেশাদার শিকারি জেলের ছদ্মবেশে মাছ ধরার জালের সঙ্গে দড়ি নিয়ে বনে যায়। বনের ভেতরেই সেই দড়ি দিয়ে হরিণ ধরার ফাঁদ তৈরি করে। এরপর হরিণের যাতায়াতের পথে ফাঁদ পেতে রাখে। চলাচলের সময় প্রাণীগুলো সেই ফাঁদে আটকা পড়ে। পরে বনের ভেতরে মাংস কেটে লোকালয়ে এনে বিক্রি করে। শিকার শেষে ফিরে যাওয়ার সময় ফাঁদগুলো বস্তায় ভরে জঙ্গলের ভেতর মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখা হয়। সময়-সুযোগ মিললে তারা আবার শিকারে আসে।

 

আরও পড়ুনঃ  বিরল হাসপাতালে ডা. মামুনকে বিদায় সংবর্ধনা

সুন্দরবন ও বাংলাদেশ উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের মিডিয়া সমন্বয়ক ওবায়দুল কবির সম্রাট বলেন, ‘সুন্দরবনে হরিণ শিকার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। উৎসবে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় এ বন্যপ্রাণীর মাংসের চাহিদা বেশি বেড়ে যায়। ধনাঢ্য ব্যক্তিরা হরিণের মাংস দিয়ে উৎসব পালন করেন। এ সময় দৌরাত্ম্য বাড়ে স্থানীয় কয়েকটি চোরা শিকারি চক্রের। যে পরিমাণ হরিণের মাংস ও চামড়া আটক হয়, তার থেকে কয়েক গুণ বেশি শিকার করা হয়। মাঝেমধ্যে দুই-একটি অভিযানে হরিণের মাংস, চামড়া, মাথা উদ্ধার হলেও মূল শিকারি ও পাচারকারী আটক হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হরিণের মাংস বহনকারীরাই ধরা পড়ে। আর যারা আটক হন তারা দুর্বল আইনের কারণে কয়েকদিন পর জেল থেকে ফিরে একই কাজে লিপ্ত হন।’

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে আটক হরিণ শিকারিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বনের পাশে যাদের বাড়ি, তারাই বেশি হরিণ শিকারের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে সুন্দরবন প্রভাবিত খুলনার কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর এবং বাগেরহাটের মোংলা ও শরণখোলার মানুষ বেশি হরিণ শিকার করেন। এসব উপজেলার গ্রামগুলোতে বেশির ভাগই শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। তাদের প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ সুন্দরবনকেন্দ্রিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

 

আরও পড়ুনঃ  বেড়ায় তিন দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলার সফল সমাপ্তি

এ বিষয়ে কার্যক্রম জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন (মোংলা সদর দপ্তর) ও খুলনার রেঞ্জ ডিআইজির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চল দস্যুমুক্ত এবং চোরাচালান ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় দস্যু দমনে যৌথ অভিযান চালানো হয়। এরপর ২ মার্চ থেকে দ্বিতীয় দফায় ফের যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে অভিযানে নৌবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ অংশ নিচ্ছে।

 

সার্বিক বিষয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘সুন্দরবন সুরক্ষা ও উপকূলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কমিউনিটিভিত্তিক সুরক্ষা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। কোনো অনৈতিক কাজে বন বিভাগের কারো জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।