Dhaka ০৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
আমরা আর জলাবদ্ধতায় ডুবতে চাই না। এখনই উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে আমাদের আবার ডুবতে হবে। তাই জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আগেই পানি নিষ্কাশনের লুমিনাস ওয়ার্ল্ডের কৃষক সম্মেলন ভেজালমুক্ত কৃষি গড়ার অঙ্গীকার খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক আলোহীন ব্রীজ,বাড়ছে ছিনতাই ও দুঘর্টনার আশঙ্কা। বীরগঞ্জে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৪ জনের কারাদণ্ড কৃষিপণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সড়কে ইট সলিংয়ের দাবি কালিগঞ্জে জলবায়ু সহনশীল সভা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীন জেলা ক্রীড়া অফিসার অপসারণ দাবিতে অবেহিলত নারী খেলোয়াড়দের মানববন্ধন প্রশিক্ষণ শেষে পাচ্ছেন ১৮ হাজার টাকা অনুদান; বাড়বে জীবনমান

অ্যাম্বুলেন্স আটকে রোগী ছিনতাইয়ের চেষ্টা, পথেই প্রাণ গেল বৃদ্ধের

ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে রোগীকে কেড়ে নেওয়ার জন্য দুই দফায় একটি অ্যাম্বুলেন্সকে রাস্তায় আটকে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছার আগেই মারা যান সেই রোগী।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারানো রোগীর নাম জমশেদ আলী ঢালী। তিনি ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা।

রোগীর স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার জমশেদ আলী ঢালীকে অসুস্থ অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা। তবে সেখানে তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। এরপর স্বজনরা তাকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় একটি অ্যাম্বুলেন্স সাড়ে ছয় হাজার টাকায় ভাড়া করলে রোগী উঠানোর পর আরও বেশি ভাড়া দাবি করে অ্যাম্বুলেন্স চালক।

পরে রোগীর স্বজনরা অন্য আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। ঢাকা যাওয়ার পথে গাগ্রীজোড়া এলাকায় গাড়িটির গতিরোধ করেন স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সিন্ডিকেটের সুমন, মানিক ও চালক পারভেজ এবং সজীবসহ অন্তত ৭-৮ জন ব্যক্তি। এসময় অন্তত ৩০ মিনিট বাগবিতণ্ডা হলে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অ্যাম্বুলেন্সটি ছেড়ে দেন তারা। এরপর চালক অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ে পুনরায় ঢাকা যাওয়ার জন্য রওনা হলে পথিমধ্যে জামতলা এলাকায় আবারও তাদের গতিরোধ করে রোগীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে। দীর্ঘ ৪০ মিনিট পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাড়িটি ছেড়ে দিলে ঢাকায় নেওয়ার পথিমধ্যেই রোগীটি মারা যায়। পরে ৩টার দিকে ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুনঃ  বীরগঞ্জে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৪ জনের কারাদণ্ড

জমশেদ আলীর নাতি জোবায়ের হোসেন রোমান বলেন, আমার নানাকে হাসপাতালে ভর্তি করালে ডাক্তার জানায় তাকে ঢাকায় নিতে হবে। তারপর আমরা হাসপাতালের ভেতর থেকে একটা অ্যাম্বুলেন্স সাড়ে ছয় হাজার টাকায় ভাড়া করে নানাকে উঠাই। তবে তারা রোগী তোলার পর আরও বেশি ভাড়া দাবি করে। আমাদের কাছে বেশি টাকা না থাকায় তাদের অ্যাম্বুলেন্স থেকে নানাকে নামিয়ে এলাকার একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করি। পরে ঢাকা রওনা করলে দুইবার স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালক ও তাদের লোকজন আমাদের অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখে। তাদের কারণে আমার নানাকে ঢাকায় নিতে দেরি হয়েছে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার জানায় আমার নানা বেঁচে নেই। আমরা ওদের বিচার চাই।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে চুরির মামলায় যুবক গ্রেপ্তার

অ্যাম্বুলেন্স চালক সালমান বলেন, স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালকরা ভাড়া বাড়িয়ে ৭ হাজার টাকা চেয়েছিল। আমি পাঁচ হাজার টাকায় রাজি হয়ে রোগী নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। পথে প্রথমে কোটাপাড়া ব্রিজ পার হলে কয়েকজন এসে আমার গাড়ির চাবি নিয়ে যায়। সেখানে ৩০ মিনিট আমাদের গাড়ি আটকে রেখে রোগীকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। তখন স্থানীয় লোকজন এলে তারা ছেড়ে দেয়। আবার যখন জামতলা এলাকায় পৌঁছাই তখন আবার তারা আমার গাড়ির গতিরোধ করে ৪০ মিনিট আটকে রাখে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনোমতে সেখান থেকে ঢাকায় পৌঁছালে চিকিৎসক জানায় রোগী মারা গেছে

আরও পড়ুনঃ  বেড়াজাল ডিঙ্গিয়ে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর পাঁচ মাসের গল্প কথা।

এদিকে এ ঘটনার পর লাপাত্তা অভিযুক্ত ওই অ্যাম্বুলেন্স চালক সিন্ডিকেটের সদস্যরা। শরীয়তপুর জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, যারা এ ধরনের কাজ করেছে তাদের কোনো ছাড় নেই। তাদের কঠিন বিচার করা হোক। আমি কখনোই কাউকে বলিনি তোমরা জোর করে রোগী নিয়ে যাও বা গাড়ি আটকাও। আমাদের হাসপাতাল থেকে ৬ হাজার টাকায় গাড়ি ফিক্সড ভাড়া করে দেওয়া হয়েছে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার হওয়া দরকার।

পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, রোগীর একজন লোক এসে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। আমি তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ, গত বছরের ১৪ আগস্ট একইভাবে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট একটি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় অসুস্থ অবস্থায় এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।

আমরা আর জলাবদ্ধতায় ডুবতে চাই না। এখনই উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে আমাদের আবার ডুবতে হবে। তাই জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আগেই পানি নিষ্কাশনের

অ্যাম্বুলেন্স আটকে রোগী ছিনতাইয়ের চেষ্টা, পথেই প্রাণ গেল বৃদ্ধের

আপডেটের সময়: ০৩:১৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে রোগীকে কেড়ে নেওয়ার জন্য দুই দফায় একটি অ্যাম্বুলেন্সকে রাস্তায় আটকে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছার আগেই মারা যান সেই রোগী।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারানো রোগীর নাম জমশেদ আলী ঢালী। তিনি ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা।

রোগীর স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার জমশেদ আলী ঢালীকে অসুস্থ অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা। তবে সেখানে তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। এরপর স্বজনরা তাকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় একটি অ্যাম্বুলেন্স সাড়ে ছয় হাজার টাকায় ভাড়া করলে রোগী উঠানোর পর আরও বেশি ভাড়া দাবি করে অ্যাম্বুলেন্স চালক।

পরে রোগীর স্বজনরা অন্য আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। ঢাকা যাওয়ার পথে গাগ্রীজোড়া এলাকায় গাড়িটির গতিরোধ করেন স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সিন্ডিকেটের সুমন, মানিক ও চালক পারভেজ এবং সজীবসহ অন্তত ৭-৮ জন ব্যক্তি। এসময় অন্তত ৩০ মিনিট বাগবিতণ্ডা হলে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অ্যাম্বুলেন্সটি ছেড়ে দেন তারা। এরপর চালক অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ে পুনরায় ঢাকা যাওয়ার জন্য রওনা হলে পথিমধ্যে জামতলা এলাকায় আবারও তাদের গতিরোধ করে রোগীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে। দীর্ঘ ৪০ মিনিট পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাড়িটি ছেড়ে দিলে ঢাকায় নেওয়ার পথিমধ্যেই রোগীটি মারা যায়। পরে ৩টার দিকে ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুনঃ  শার্শায় গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ,৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা,আটক-৩

জমশেদ আলীর নাতি জোবায়ের হোসেন রোমান বলেন, আমার নানাকে হাসপাতালে ভর্তি করালে ডাক্তার জানায় তাকে ঢাকায় নিতে হবে। তারপর আমরা হাসপাতালের ভেতর থেকে একটা অ্যাম্বুলেন্স সাড়ে ছয় হাজার টাকায় ভাড়া করে নানাকে উঠাই। তবে তারা রোগী তোলার পর আরও বেশি ভাড়া দাবি করে। আমাদের কাছে বেশি টাকা না থাকায় তাদের অ্যাম্বুলেন্স থেকে নানাকে নামিয়ে এলাকার একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করি। পরে ঢাকা রওনা করলে দুইবার স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালক ও তাদের লোকজন আমাদের অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখে। তাদের কারণে আমার নানাকে ঢাকায় নিতে দেরি হয়েছে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার জানায় আমার নানা বেঁচে নেই। আমরা ওদের বিচার চাই।

আরও পড়ুনঃ  যুবদল নেতা হত্যাকাণ্ডে: ১১ জনের থানায় মামলা আসামি গ্রেফতারে অভিযান।

অ্যাম্বুলেন্স চালক সালমান বলেন, স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালকরা ভাড়া বাড়িয়ে ৭ হাজার টাকা চেয়েছিল। আমি পাঁচ হাজার টাকায় রাজি হয়ে রোগী নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। পথে প্রথমে কোটাপাড়া ব্রিজ পার হলে কয়েকজন এসে আমার গাড়ির চাবি নিয়ে যায়। সেখানে ৩০ মিনিট আমাদের গাড়ি আটকে রেখে রোগীকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। তখন স্থানীয় লোকজন এলে তারা ছেড়ে দেয়। আবার যখন জামতলা এলাকায় পৌঁছাই তখন আবার তারা আমার গাড়ির গতিরোধ করে ৪০ মিনিট আটকে রাখে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনোমতে সেখান থেকে ঢাকায় পৌঁছালে চিকিৎসক জানায় রোগী মারা গেছে

আরও পড়ুনঃ  সিসিটিভি ফুটেজে খুনিরা চিহ্নিত হলেও অধরা, মামলা হয়নি ২ দিনেও।

এদিকে এ ঘটনার পর লাপাত্তা অভিযুক্ত ওই অ্যাম্বুলেন্স চালক সিন্ডিকেটের সদস্যরা। শরীয়তপুর জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, যারা এ ধরনের কাজ করেছে তাদের কোনো ছাড় নেই। তাদের কঠিন বিচার করা হোক। আমি কখনোই কাউকে বলিনি তোমরা জোর করে রোগী নিয়ে যাও বা গাড়ি আটকাও। আমাদের হাসপাতাল থেকে ৬ হাজার টাকায় গাড়ি ফিক্সড ভাড়া করে দেওয়া হয়েছে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার হওয়া দরকার।

পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, রোগীর একজন লোক এসে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। আমি তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ, গত বছরের ১৪ আগস্ট একইভাবে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট একটি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় অসুস্থ অবস্থায় এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।