Dhaka ১০:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

ঝিকরগাছায় সুস্থ ব্যক্তিরা তুলছেন প্রতিবন্ধী ভাতা

ঝিকরগাছায় সুস্থ ব্যক্তিরা তুলছেন প্রতিবন্ধী ভাতা

 

যশোরের ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী না হয়েও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বানিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও সামাজিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর চিত্র।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, পানিসারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মোহিনিকাঠি গ্রামের সৈয়দ গাজীর পুত্র শাহাজাহান, শাহজাহানের কন্যা সুমাইয়া, ইসমাইল মোড়লের কন্যা সুফিয়া বেগম, নবু মোড়লের কন্যা ফাতেমা বেগম, আব্দুল গফুরের পুত্র উকিল মিয়া, উকিল মিয়ার ভাগ্নে সাগর হোসেন, মোসলেম গাজীর দুই ছেলে এনামুল ও মনিরুল, মনিরুলের স্ত্রী জেসমিন বেগম এবং এই দম্পতির ছেলে রাফিদ সহ আরও অনেকে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণ করার মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছেন।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

​ভাতা গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে এনামুল জানান, তার পায়ের গোড়ালিতে একটি ঘায়ের দাগ দেখিয়ে তিনি ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। অন্যদিকে এনামুলের ছোট ভাই মনিরুলের স্ত্রী জেসমিন বেগম বলেন, তিনি পড়ে গিয়ে মাজায় ব্যথা পেয়েছিলেন। এছাড়া তার স্বামীর মাজায় এবং ছেলের হাতে সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করেন। শাহাজাহানের মা ও সুমাইয়ার দাদী সখিনা বেগম বলেন, তার ছেলের চোখে সামান্য সমস্যা আছে এবং সুমাইয়া ছোটবেলায় ঠিকমতো হাঁটতে পারতো না, তাই তাদের জন্য ভাতার আবেদন করা হয়েছিল। এছাড়া উকিল মিয়ার ভাইয়ের স্ত্রী ও সাগরের মামি মর্জিনা বেগম দাবি করেন, তাদের দুজনের চোখে সামান্য সমস্যা থাকার কারণে তারা প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। মর্জিনার স্বামী সোনা মিয়াও প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগী।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় 'প্রেরণা' এনজিও'র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আগে অনেকেই এরকম ভাবে প্রতিবন্ধী না হয়েও ভাতা নিচ্ছেন। আমরা এধরণের অনিয়মের খবর পেলে যথাযথ তদন্ত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। প্রতিবন্ধী না হলে তার ভাতা বাতিল করা হবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি

​এভাবে সামান্য অজুহাত ও জালিয়াতির মাধ্যমে সুস্থ মানুষরা ভাতা ভোগ করায় এবং প্রকৃত প্রতিবন্ধীরা সরকারি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। সচেতন মহল অবিলম্বে ভুয়া সুবিধাভোগীদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রকৃত প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

ঝিকরগাছায় সুস্থ ব্যক্তিরা তুলছেন প্রতিবন্ধী ভাতা

আপডেটের সময়: ০৬:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝিকরগাছায় সুস্থ ব্যক্তিরা তুলছেন প্রতিবন্ধী ভাতা

 

যশোরের ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী না হয়েও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বানিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও সামাজিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর চিত্র।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, পানিসারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মোহিনিকাঠি গ্রামের সৈয়দ গাজীর পুত্র শাহাজাহান, শাহজাহানের কন্যা সুমাইয়া, ইসমাইল মোড়লের কন্যা সুফিয়া বেগম, নবু মোড়লের কন্যা ফাতেমা বেগম, আব্দুল গফুরের পুত্র উকিল মিয়া, উকিল মিয়ার ভাগ্নে সাগর হোসেন, মোসলেম গাজীর দুই ছেলে এনামুল ও মনিরুল, মনিরুলের স্ত্রী জেসমিন বেগম এবং এই দম্পতির ছেলে রাফিদ সহ আরও অনেকে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণ করার মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছেন।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা

​ভাতা গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে এনামুল জানান, তার পায়ের গোড়ালিতে একটি ঘায়ের দাগ দেখিয়ে তিনি ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। অন্যদিকে এনামুলের ছোট ভাই মনিরুলের স্ত্রী জেসমিন বেগম বলেন, তিনি পড়ে গিয়ে মাজায় ব্যথা পেয়েছিলেন। এছাড়া তার স্বামীর মাজায় এবং ছেলের হাতে সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করেন। শাহাজাহানের মা ও সুমাইয়ার দাদী সখিনা বেগম বলেন, তার ছেলের চোখে সামান্য সমস্যা আছে এবং সুমাইয়া ছোটবেলায় ঠিকমতো হাঁটতে পারতো না, তাই তাদের জন্য ভাতার আবেদন করা হয়েছিল। এছাড়া উকিল মিয়ার ভাইয়ের স্ত্রী ও সাগরের মামি মর্জিনা বেগম দাবি করেন, তাদের দুজনের চোখে সামান্য সমস্যা থাকার কারণে তারা প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। মর্জিনার স্বামী সোনা মিয়াও প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগী।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আগে অনেকেই এরকম ভাবে প্রতিবন্ধী না হয়েও ভাতা নিচ্ছেন। আমরা এধরণের অনিয়মের খবর পেলে যথাযথ তদন্ত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। প্রতিবন্ধী না হলে তার ভাতা বাতিল করা হবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

​এভাবে সামান্য অজুহাত ও জালিয়াতির মাধ্যমে সুস্থ মানুষরা ভাতা ভোগ করায় এবং প্রকৃত প্রতিবন্ধীরা সরকারি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। সচেতন মহল অবিলম্বে ভুয়া সুবিধাভোগীদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রকৃত প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।