Dhaka ১০:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মুকসুদপুর ও গোপালগঞ্জে পৃথক তিন সড়ক দুর্ঘটনা,নিহত ১ গোবিপ্রবিতে নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্যের যোগদান গোবিপ্রবিতে আন্তঃবিভাগ ভলিবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ শুরু গোপালগঞ্জ ক্রেডিট ইউনিয়নের কোটি টাকা নিয়ে কর্মচারী উধাও : কুড়িগ্রামে নজরুল বর্ষ উদযাপনে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ। অভয়নগরে মাকে হারিয়ে ২ বছর বয়সী সন্তান নির্বাক, স্ত্রীকে ফিরে পেতে চান স্বামী মুকসুদপুরে আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ, সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা জেগে উঠো ফাউন্ডেশনের সহায়তায় তালুয়াপাড়ায় অসহায় পরিবারের মুখে হাসি স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত রামগঞ্জের ভোলাকোট ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ ন্যাম ভবনে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ, তদন্ত শুরু

ট্রান্সশিপমেন্ট নিষেধাজ্ঞা থেকে স্বনির্ভরতার পথে বাংলাদেশের এয়ার কার্গো খাত

  • ডেক্স রিপোর্ট
  • আপডেটের সময়: ১২:০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 310

ইঞ্জি. আহসান ইসলাম

প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক
পাথফাইনডার এয়ার লাইন্স লিঃ

১. ট্রান্সশিপমেন্ট নিষেধাজ্ঞা: তাৎক্ষণিক প্রভাব

২০২৫ সালে ভারতের Central Board of Indirect Taxes and Customs (CBIC) হঠাৎ করে বাংলাদেশি পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়, যার ফলে ভারতীয় বিমানবন্দর হয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে কার্গো পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। ভারত “অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার” ও যানজটের কারণ দেখালেও এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক (RMG) খাত, যা সময়নির্ভর এয়ার কার্গোর উপর নির্ভরশীল, তারা বড় ধাক্কা খায়। খরচ বৃদ্ধি, সময় বিলম্ব এবং সরবরাহ চেইনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

২. সংকট থেকে সুযোগ: কৌশলগত পরিবর্তন

তবে আমরা স্থবির হয়ে থাকিনি। বরং সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই সংকটকে স্বনির্ভরতার সুযোগে রূপান্তর করেছে।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে ১২ বছরের মাদ্রাসা ছাত্র ৩৫ দিন ধরে নিখোঁজ, দুশ্চিন্তায় পরিবার

বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা তাৎক্ষণিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা দেশের নিজস্ব আন্তর্জাতিক এয়ার কার্গো সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়।

৩. অবকাঠামো সম্প্রসারণ: নতুন দিগন্তের সূচনা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

ঢাকার এই প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অধিকাংশ এয়ার কার্গো পরিচালনা করে আসছে। নিষেধাজ্ঞার পর কার্গো ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে দ্রুত সম্প্রসারণ কার্যক্রম শুরু হয়।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

২০২৫ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক কার্গো অপারেশনে রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে এটি ইউরোপমুখী RMG রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ে হিসেবে কাজ করছে।

শাহ আমানতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আপগ্রেড করে ঢাকার জন্য একটি সেকেন্ডারি রিলিফ ভালভ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি বিশেষ করে Sea-to-Air মাল্টিমোডাল লজিস্টিকস সাপোর্টে বিশেষায়িত ভূমিকা রাখছে।

৪. তৃতীয় টার্মিনাল: সম্ভাব্য গেম চেঞ্জার

আরও পড়ুনঃ  আওয়ামী যুবলীগের নৈরাজ্য ও আগুণসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুকসুদপুরে বিক্ষোভ মিছিল

HSIA-তে তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়া বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে।

* কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বছরে ২০০,০০০ টন থেকে বেড়ে ধাপে ধাপে ৫০০,০০০ টনের বেশি হবে (২০২৬ সালের মধ্যে)।
* আধুনিক অটোমেটেড স্টোরেজ ও উন্নত স্ক্যানিং ব্যবস্থা চালু হবে।
* গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ ও সময় বিলম্ব কমে যাবে।
* বিদেশি ক্যারিয়ারদের কাছে HSIA একটি প্রতিযোগিতামূলক কার্গো হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

এই উন্নয়ন আন্তর্জাতিক কার্গো অপারেটরদের জন্য একটি নতুন আস্থার পরিবেশ তৈরি করবে।

৫. নতুন ক্যারিয়ার প্রবেশের সম্ভাবনা

বর্তমানে প্রায় ৬০০ টন সাপ্তাহিক গার্মেন্টস এয়ার কার্গো ভারতীয় রুট থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে। অর্থাৎ বাজার ইতিমধ্যেই বিদ্যমান।

এছাড়া একটি উল্লেখযোগ্য কার্গো ভ্যাকুয়াম তৈরি হয়েছে, যা বর্তমানে লিজড ফ্রেটার দিয়ে পূরণ করা হচ্ছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অবকাঠামোর সংস্কার HSIA-কে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক অপারেটরদের আকৃষ্ট করবে।

আরও পড়ুনঃ  গোবিপ্রবিতে আন্তঃবিভাগ ভলিবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ শুরু

৬. এখন কি আন্তর্জাতিক কার্গো এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠার সঠিক সময়?

নিশ্চিতভাবেই — এখনই উপযুক্ত সময়।

তবে এই খাত অত্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর এবং কঠোর আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স ও রেগুলেশনের অধীন। তাই—

* টেকনো-কমার্শিয়ালি দক্ষ উদ্যোক্তা প্রয়োজন
* দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও ধৈর্য অপরিহার্য
* ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও পেশাদার ব্যবস্থাপনা দরকার

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই খাতকে উচ্চ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আন্তর্জাতিক এয়ার কার্গো শুধু একটি ব্যবসায়িক সুযোগ নয়— এটি আগামী ১০–২০ বছরের জন্য দেশের শীর্ষ অগ্রাধিকার খাতগুলোর একটি।

উপসংহার

ট্রান্সশিপমেন্ট নিষেধাজ্ঞা প্রথমে ধাক্কা দিলেও, সেটিই বাংলাদেশের এয়ার কার্গো খাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের সূচনা করেছে। সঠিক পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ খুব দ্রুত একটি আঞ্চলিক কার্গো হাবে পরিণত হতে পারে।

এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ — এখন প্রয়োজন সাহসী সিদ্ধান্ত ও সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি।

জনপ্রিয় পোস্ট

মুকসুদপুর ও গোপালগঞ্জে পৃথক তিন সড়ক দুর্ঘটনা,নিহত ১

ট্রান্সশিপমেন্ট নিষেধাজ্ঞা থেকে স্বনির্ভরতার পথে বাংলাদেশের এয়ার কার্গো খাত

আপডেটের সময়: ১২:০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইঞ্জি. আহসান ইসলাম

প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক
পাথফাইনডার এয়ার লাইন্স লিঃ

১. ট্রান্সশিপমেন্ট নিষেধাজ্ঞা: তাৎক্ষণিক প্রভাব

২০২৫ সালে ভারতের Central Board of Indirect Taxes and Customs (CBIC) হঠাৎ করে বাংলাদেশি পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়, যার ফলে ভারতীয় বিমানবন্দর হয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে কার্গো পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। ভারত “অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার” ও যানজটের কারণ দেখালেও এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক (RMG) খাত, যা সময়নির্ভর এয়ার কার্গোর উপর নির্ভরশীল, তারা বড় ধাক্কা খায়। খরচ বৃদ্ধি, সময় বিলম্ব এবং সরবরাহ চেইনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

২. সংকট থেকে সুযোগ: কৌশলগত পরিবর্তন

তবে আমরা স্থবির হয়ে থাকিনি। বরং সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই সংকটকে স্বনির্ভরতার সুযোগে রূপান্তর করেছে।

আরও পড়ুনঃ  ভেঙে দেওয়ার এক মাস না যেতেই অবৈধ ইটভাটা পুনর্নির্মাণ

বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা তাৎক্ষণিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা দেশের নিজস্ব আন্তর্জাতিক এয়ার কার্গো সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়।

৩. অবকাঠামো সম্প্রসারণ: নতুন দিগন্তের সূচনা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

ঢাকার এই প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অধিকাংশ এয়ার কার্গো পরিচালনা করে আসছে। নিষেধাজ্ঞার পর কার্গো ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে দ্রুত সম্প্রসারণ কার্যক্রম শুরু হয়।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

২০২৫ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক কার্গো অপারেশনে রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে এটি ইউরোপমুখী RMG রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ে হিসেবে কাজ করছে।

শাহ আমানতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আপগ্রেড করে ঢাকার জন্য একটি সেকেন্ডারি রিলিফ ভালভ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি বিশেষ করে Sea-to-Air মাল্টিমোডাল লজিস্টিকস সাপোর্টে বিশেষায়িত ভূমিকা রাখছে।

৪. তৃতীয় টার্মিনাল: সম্ভাব্য গেম চেঞ্জার

আরও পড়ুনঃ  গোবিপ্রবিতে আন্তঃবিভাগ ভলিবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ শুরু

HSIA-তে তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়া বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে।

* কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বছরে ২০০,০০০ টন থেকে বেড়ে ধাপে ধাপে ৫০০,০০০ টনের বেশি হবে (২০২৬ সালের মধ্যে)।
* আধুনিক অটোমেটেড স্টোরেজ ও উন্নত স্ক্যানিং ব্যবস্থা চালু হবে।
* গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ ও সময় বিলম্ব কমে যাবে।
* বিদেশি ক্যারিয়ারদের কাছে HSIA একটি প্রতিযোগিতামূলক কার্গো হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

এই উন্নয়ন আন্তর্জাতিক কার্গো অপারেটরদের জন্য একটি নতুন আস্থার পরিবেশ তৈরি করবে।

৫. নতুন ক্যারিয়ার প্রবেশের সম্ভাবনা

বর্তমানে প্রায় ৬০০ টন সাপ্তাহিক গার্মেন্টস এয়ার কার্গো ভারতীয় রুট থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে। অর্থাৎ বাজার ইতিমধ্যেই বিদ্যমান।

এছাড়া একটি উল্লেখযোগ্য কার্গো ভ্যাকুয়াম তৈরি হয়েছে, যা বর্তমানে লিজড ফ্রেটার দিয়ে পূরণ করা হচ্ছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অবকাঠামোর সংস্কার HSIA-কে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক অপারেটরদের আকৃষ্ট করবে।

আরও পড়ুনঃ  আওয়ামী যুবলীগের নৈরাজ্য ও আগুণসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুকসুদপুরে বিক্ষোভ মিছিল

৬. এখন কি আন্তর্জাতিক কার্গো এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠার সঠিক সময়?

নিশ্চিতভাবেই — এখনই উপযুক্ত সময়।

তবে এই খাত অত্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর এবং কঠোর আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স ও রেগুলেশনের অধীন। তাই—

* টেকনো-কমার্শিয়ালি দক্ষ উদ্যোক্তা প্রয়োজন
* দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও ধৈর্য অপরিহার্য
* ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও পেশাদার ব্যবস্থাপনা দরকার

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই খাতকে উচ্চ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আন্তর্জাতিক এয়ার কার্গো শুধু একটি ব্যবসায়িক সুযোগ নয়— এটি আগামী ১০–২০ বছরের জন্য দেশের শীর্ষ অগ্রাধিকার খাতগুলোর একটি।

উপসংহার

ট্রান্সশিপমেন্ট নিষেধাজ্ঞা প্রথমে ধাক্কা দিলেও, সেটিই বাংলাদেশের এয়ার কার্গো খাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের সূচনা করেছে। সঠিক পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ খুব দ্রুত একটি আঞ্চলিক কার্গো হাবে পরিণত হতে পারে।

এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ — এখন প্রয়োজন সাহসী সিদ্ধান্ত ও সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি।