Dhaka ০৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রাজধানীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত সাতক্ষীরায় ঘেরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড—ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার। রাজারহাটে অদ্বিতা সুধী কানন ফিলিং স্টেশনে বাইকে আগুন, ভুয়া শিরোনাম নিয়ে ক্ষোভ মালিকের বাক প্রতিবন্ধী নারীর বিয়ে ও দুই সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে তুমুল বিতর্ক নারী-নেতৃত্বাধীন জলবায়ু সহনশীলতা ও সুরক্ষা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগআঁচড়ায় ৫ ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা বিজয়নগরে ২৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারি গ্রেফতার সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন বিজয়নগরের নাদিয়া পাঠান পাপন বীরগঞ্জে শুরু হাম-রুবেলা টিকা, সুরক্ষায় শিশুরা

ট্রান্সশিপমেন্ট নিষেধাজ্ঞা থেকে স্বনির্ভরতার পথে বাংলাদেশের এয়ার কার্গো খাত

  • ডেক্স রিপোর্ট
  • আপডেটের সময়: ১২:০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 177

ইঞ্জি. আহসান ইসলাম

প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক
পাথফাইনডার এয়ার লাইন্স লিঃ

১. ট্রান্সশিপমেন্ট নিষেধাজ্ঞা: তাৎক্ষণিক প্রভাব

২০২৫ সালে ভারতের Central Board of Indirect Taxes and Customs (CBIC) হঠাৎ করে বাংলাদেশি পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়, যার ফলে ভারতীয় বিমানবন্দর হয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে কার্গো পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। ভারত “অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার” ও যানজটের কারণ দেখালেও এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক (RMG) খাত, যা সময়নির্ভর এয়ার কার্গোর উপর নির্ভরশীল, তারা বড় ধাক্কা খায়। খরচ বৃদ্ধি, সময় বিলম্ব এবং সরবরাহ চেইনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

২. সংকট থেকে সুযোগ: কৌশলগত পরিবর্তন

তবে আমরা স্থবির হয়ে থাকিনি। বরং সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই সংকটকে স্বনির্ভরতার সুযোগে রূপান্তর করেছে।

আরও পড়ুনঃ  ভূমি অধিকার নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা তাৎক্ষণিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা দেশের নিজস্ব আন্তর্জাতিক এয়ার কার্গো সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়।

৩. অবকাঠামো সম্প্রসারণ: নতুন দিগন্তের সূচনা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

ঢাকার এই প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অধিকাংশ এয়ার কার্গো পরিচালনা করে আসছে। নিষেধাজ্ঞার পর কার্গো ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে দ্রুত সম্প্রসারণ কার্যক্রম শুরু হয়।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

২০২৫ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক কার্গো অপারেশনে রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে এটি ইউরোপমুখী RMG রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ে হিসেবে কাজ করছে।

শাহ আমানতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আপগ্রেড করে ঢাকার জন্য একটি সেকেন্ডারি রিলিফ ভালভ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি বিশেষ করে Sea-to-Air মাল্টিমোডাল লজিস্টিকস সাপোর্টে বিশেষায়িত ভূমিকা রাখছে।

৪. তৃতীয় টার্মিনাল: সম্ভাব্য গেম চেঞ্জার

আরও পড়ুনঃ  রাজারহাটে অদ্বিতা সুধী কানন ফিলিং স্টেশনে বাইকে আগুন, ভুয়া শিরোনাম নিয়ে ক্ষোভ মালিকের

HSIA-তে তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়া বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে।

* কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বছরে ২০০,০০০ টন থেকে বেড়ে ধাপে ধাপে ৫০০,০০০ টনের বেশি হবে (২০২৬ সালের মধ্যে)।
* আধুনিক অটোমেটেড স্টোরেজ ও উন্নত স্ক্যানিং ব্যবস্থা চালু হবে।
* গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ ও সময় বিলম্ব কমে যাবে।
* বিদেশি ক্যারিয়ারদের কাছে HSIA একটি প্রতিযোগিতামূলক কার্গো হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

এই উন্নয়ন আন্তর্জাতিক কার্গো অপারেটরদের জন্য একটি নতুন আস্থার পরিবেশ তৈরি করবে।

৫. নতুন ক্যারিয়ার প্রবেশের সম্ভাবনা

বর্তমানে প্রায় ৬০০ টন সাপ্তাহিক গার্মেন্টস এয়ার কার্গো ভারতীয় রুট থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে। অর্থাৎ বাজার ইতিমধ্যেই বিদ্যমান।

এছাড়া একটি উল্লেখযোগ্য কার্গো ভ্যাকুয়াম তৈরি হয়েছে, যা বর্তমানে লিজড ফ্রেটার দিয়ে পূরণ করা হচ্ছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অবকাঠামোর সংস্কার HSIA-কে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক অপারেটরদের আকৃষ্ট করবে।

আরও পড়ুনঃ  হামের চিকিৎসা নিতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু মেডিকেলে উত্তেজনা

৬. এখন কি আন্তর্জাতিক কার্গো এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠার সঠিক সময়?

নিশ্চিতভাবেই — এখনই উপযুক্ত সময়।

তবে এই খাত অত্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর এবং কঠোর আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স ও রেগুলেশনের অধীন। তাই—

* টেকনো-কমার্শিয়ালি দক্ষ উদ্যোক্তা প্রয়োজন
* দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও ধৈর্য অপরিহার্য
* ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও পেশাদার ব্যবস্থাপনা দরকার

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই খাতকে উচ্চ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আন্তর্জাতিক এয়ার কার্গো শুধু একটি ব্যবসায়িক সুযোগ নয়— এটি আগামী ১০–২০ বছরের জন্য দেশের শীর্ষ অগ্রাধিকার খাতগুলোর একটি।

উপসংহার

ট্রান্সশিপমেন্ট নিষেধাজ্ঞা প্রথমে ধাক্কা দিলেও, সেটিই বাংলাদেশের এয়ার কার্গো খাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের সূচনা করেছে। সঠিক পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ খুব দ্রুত একটি আঞ্চলিক কার্গো হাবে পরিণত হতে পারে।

এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ — এখন প্রয়োজন সাহসী সিদ্ধান্ত ও সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি।

জনপ্রিয় পোস্ট

রাজধানীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত

ট্রান্সশিপমেন্ট নিষেধাজ্ঞা থেকে স্বনির্ভরতার পথে বাংলাদেশের এয়ার কার্গো খাত

আপডেটের সময়: ১২:০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইঞ্জি. আহসান ইসলাম

প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক
পাথফাইনডার এয়ার লাইন্স লিঃ

১. ট্রান্সশিপমেন্ট নিষেধাজ্ঞা: তাৎক্ষণিক প্রভাব

২০২৫ সালে ভারতের Central Board of Indirect Taxes and Customs (CBIC) হঠাৎ করে বাংলাদেশি পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়, যার ফলে ভারতীয় বিমানবন্দর হয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে কার্গো পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। ভারত “অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার” ও যানজটের কারণ দেখালেও এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক (RMG) খাত, যা সময়নির্ভর এয়ার কার্গোর উপর নির্ভরশীল, তারা বড় ধাক্কা খায়। খরচ বৃদ্ধি, সময় বিলম্ব এবং সরবরাহ চেইনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

২. সংকট থেকে সুযোগ: কৌশলগত পরিবর্তন

তবে আমরা স্থবির হয়ে থাকিনি। বরং সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই সংকটকে স্বনির্ভরতার সুযোগে রূপান্তর করেছে।

আরও পড়ুনঃ  মাদকবিরোধী বার্তায় গোলাপগঞ্জে নারী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা তাৎক্ষণিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা দেশের নিজস্ব আন্তর্জাতিক এয়ার কার্গো সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়।

৩. অবকাঠামো সম্প্রসারণ: নতুন দিগন্তের সূচনা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

ঢাকার এই প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অধিকাংশ এয়ার কার্গো পরিচালনা করে আসছে। নিষেধাজ্ঞার পর কার্গো ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে দ্রুত সম্প্রসারণ কার্যক্রম শুরু হয়।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

২০২৫ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক কার্গো অপারেশনে রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে এটি ইউরোপমুখী RMG রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ে হিসেবে কাজ করছে।

শাহ আমানতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আপগ্রেড করে ঢাকার জন্য একটি সেকেন্ডারি রিলিফ ভালভ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি বিশেষ করে Sea-to-Air মাল্টিমোডাল লজিস্টিকস সাপোর্টে বিশেষায়িত ভূমিকা রাখছে।

৪. তৃতীয় টার্মিনাল: সম্ভাব্য গেম চেঞ্জার

আরও পড়ুনঃ  ভূমি অধিকার নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

HSIA-তে তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়া বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে।

* কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বছরে ২০০,০০০ টন থেকে বেড়ে ধাপে ধাপে ৫০০,০০০ টনের বেশি হবে (২০২৬ সালের মধ্যে)।
* আধুনিক অটোমেটেড স্টোরেজ ও উন্নত স্ক্যানিং ব্যবস্থা চালু হবে।
* গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ ও সময় বিলম্ব কমে যাবে।
* বিদেশি ক্যারিয়ারদের কাছে HSIA একটি প্রতিযোগিতামূলক কার্গো হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

এই উন্নয়ন আন্তর্জাতিক কার্গো অপারেটরদের জন্য একটি নতুন আস্থার পরিবেশ তৈরি করবে।

৫. নতুন ক্যারিয়ার প্রবেশের সম্ভাবনা

বর্তমানে প্রায় ৬০০ টন সাপ্তাহিক গার্মেন্টস এয়ার কার্গো ভারতীয় রুট থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে। অর্থাৎ বাজার ইতিমধ্যেই বিদ্যমান।

এছাড়া একটি উল্লেখযোগ্য কার্গো ভ্যাকুয়াম তৈরি হয়েছে, যা বর্তমানে লিজড ফ্রেটার দিয়ে পূরণ করা হচ্ছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অবকাঠামোর সংস্কার HSIA-কে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক অপারেটরদের আকৃষ্ট করবে।

আরও পড়ুনঃ  ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন

৬. এখন কি আন্তর্জাতিক কার্গো এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠার সঠিক সময়?

নিশ্চিতভাবেই — এখনই উপযুক্ত সময়।

তবে এই খাত অত্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর এবং কঠোর আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স ও রেগুলেশনের অধীন। তাই—

* টেকনো-কমার্শিয়ালি দক্ষ উদ্যোক্তা প্রয়োজন
* দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও ধৈর্য অপরিহার্য
* ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও পেশাদার ব্যবস্থাপনা দরকার

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই খাতকে উচ্চ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আন্তর্জাতিক এয়ার কার্গো শুধু একটি ব্যবসায়িক সুযোগ নয়— এটি আগামী ১০–২০ বছরের জন্য দেশের শীর্ষ অগ্রাধিকার খাতগুলোর একটি।

উপসংহার

ট্রান্সশিপমেন্ট নিষেধাজ্ঞা প্রথমে ধাক্কা দিলেও, সেটিই বাংলাদেশের এয়ার কার্গো খাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের সূচনা করেছে। সঠিক পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ খুব দ্রুত একটি আঞ্চলিক কার্গো হাবে পরিণত হতে পারে।

এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ — এখন প্রয়োজন সাহসী সিদ্ধান্ত ও সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি।