Dhaka ১০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দোকানের বারান্দা দখলসহ নলতায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মেম্বার ও তার ছেলে মারপিট করার অভিযোগ

দোকানের বারান্দা দখলসহ নলতায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মেম্বার ও তার ছেলে মারপিট করার অভিযোগ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে তারই পরিষদের মেম্বারের রেকর্ডীয় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল, সরকারি অর্থে অবৈধভাবে রাস্তা নির্মাণ এবং প্রতিবাদ করায় ইউপি সদস্য ও তার পরিবারের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী গাজীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নলতা মৌজার জেএল নং-১০, এসএ খতিয়ান নং-৩৯৪ এর ৫২১ নং দাগে ১৬ শতকের মধ্যে তার খরিদকৃত ৪ শতক জমিতে দুইতলা মার্কেট নির্মাণ করে বৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন। ওই মার্কেটে ৫টি দোকান রয়েছে, যা অন্যের নিকট ভাড়া দেওয়া।

কিন্তু সম্প্রতি নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তার মার্কেটের পশ্চিম পাশের ৩ ফুট বারান্দা দখল করে সরকারি বরাদ্দের অর্থে ঢালাই রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আহম্মদ আলী গাজী গত ২৭ এপ্রিল কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

আরও পড়ুনঃ  বীরগঞ্জে প্রতারক চক্রের অপতৎপরতায় তোলপাড়।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদন্তের নির্দেশ দেন এবং সার্ভেয়ারকে সরেজমিনে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এমনকি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজেই মোবাইল ফোনে চেয়ারম্যানকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। কিন্তু প্রশাসনের সেই নির্দেশকে প্রকাশ্যেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান।

গত ৪ মে সকাল ১০টার দিকে চেয়ারম্যান নিজে ও তার লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জোরপূর্বক ভুক্তভোগীর জমির ওপর রাস্তার ঢালাই কাজ শুরু করেন। এ সময় ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী গাজী ও তার দুই ছেলে আমজাদ ও আকরাম বাধা দিলে শুরু হয় মারপিট। পার্শ্ববর্তী মিলনের দোকানের ভেতরে ঢুকিয়ে শাটার বন্ধ করে নির্মমভাবে চেয়ার দিয়ে মারপিট করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  নির্বাচনী ইশতেহারের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়ে সাতক্ষীরায় প্রেস ব্রিফিং

 

বিশেষ করে ইউপি সদস্যের ছোট ছেলে আকরামকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। বর্তমানে আকরাম কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনো চিকিৎসাধীন। তার কানে ৮ টি সেলাই দিতে হয়েছ। চেয়ারম্যান নিজেই মারপিট করেন এবং তার নির্দেশে পরিষদের দফাদার বাবু, তার ভাই হাফিজুল ইসলাম, মফিজুলসহ ৮-১০ জন সশস্ত্র লোক আহম্মদ আলী গাজী ও তার দুই ছেলের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়।

ঘটনার পর আহম্মদ আলী গাজী কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। একজন জনপ্রতিনিধি যদি এভাবে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারই ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারের উপর সন্ত্রাসী হামলা-দখল চালান, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?

আরও পড়ুনঃ  কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি।

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী গাজী বলেন, আমি একজন মেম্বার হয়েও নিরাপদ নই। আমার রেকর্ডীয় সম্পত্তি দখল করে জোর করে রাস্তা নির্মাণ করেছে এবং প্রতিবাদ করায় আমাদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। তিনি আরও বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, জনগনের রাস্তা আটকানোর কারণে জনগন গণধোলাই দিয়েছে। সরেজমিনে আসলে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

জানতে চাইলে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জুয়েল হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় পোস্ট

দোকানের বারান্দা দখলসহ নলতায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মেম্বার ও তার ছেলে মারপিট করার অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৮:৪৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

দোকানের বারান্দা দখলসহ নলতায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মেম্বার ও তার ছেলে মারপিট করার অভিযোগ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে তারই পরিষদের মেম্বারের রেকর্ডীয় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল, সরকারি অর্থে অবৈধভাবে রাস্তা নির্মাণ এবং প্রতিবাদ করায় ইউপি সদস্য ও তার পরিবারের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী গাজীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নলতা মৌজার জেএল নং-১০, এসএ খতিয়ান নং-৩৯৪ এর ৫২১ নং দাগে ১৬ শতকের মধ্যে তার খরিদকৃত ৪ শতক জমিতে দুইতলা মার্কেট নির্মাণ করে বৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন। ওই মার্কেটে ৫টি দোকান রয়েছে, যা অন্যের নিকট ভাড়া দেওয়া।

কিন্তু সম্প্রতি নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তার মার্কেটের পশ্চিম পাশের ৩ ফুট বারান্দা দখল করে সরকারি বরাদ্দের অর্থে ঢালাই রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আহম্মদ আলী গাজী গত ২৭ এপ্রিল কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

আরও পড়ুনঃ  রামগঞ্জ ব্লাড ডোনারস ক্লাবের যুগপুর্তি উপলক্ষে সেলাই মেশিন বিতরণ

অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদন্তের নির্দেশ দেন এবং সার্ভেয়ারকে সরেজমিনে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এমনকি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজেই মোবাইল ফোনে চেয়ারম্যানকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। কিন্তু প্রশাসনের সেই নির্দেশকে প্রকাশ্যেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান।

গত ৪ মে সকাল ১০টার দিকে চেয়ারম্যান নিজে ও তার লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জোরপূর্বক ভুক্তভোগীর জমির ওপর রাস্তার ঢালাই কাজ শুরু করেন। এ সময় ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী গাজী ও তার দুই ছেলে আমজাদ ও আকরাম বাধা দিলে শুরু হয় মারপিট। পার্শ্ববর্তী মিলনের দোকানের ভেতরে ঢুকিয়ে শাটার বন্ধ করে নির্মমভাবে চেয়ার দিয়ে মারপিট করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  হেরোইনসহ ভাই বোন গ্রেফতার ২

 

বিশেষ করে ইউপি সদস্যের ছোট ছেলে আকরামকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। বর্তমানে আকরাম কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনো চিকিৎসাধীন। তার কানে ৮ টি সেলাই দিতে হয়েছ। চেয়ারম্যান নিজেই মারপিট করেন এবং তার নির্দেশে পরিষদের দফাদার বাবু, তার ভাই হাফিজুল ইসলাম, মফিজুলসহ ৮-১০ জন সশস্ত্র লোক আহম্মদ আলী গাজী ও তার দুই ছেলের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়।

ঘটনার পর আহম্মদ আলী গাজী কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। একজন জনপ্রতিনিধি যদি এভাবে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারই ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারের উপর সন্ত্রাসী হামলা-দখল চালান, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?

আরও পড়ুনঃ  বীরগঞ্জে প্রতারক চক্রের অপতৎপরতায় তোলপাড়।

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী গাজী বলেন, আমি একজন মেম্বার হয়েও নিরাপদ নই। আমার রেকর্ডীয় সম্পত্তি দখল করে জোর করে রাস্তা নির্মাণ করেছে এবং প্রতিবাদ করায় আমাদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। তিনি আরও বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, জনগনের রাস্তা আটকানোর কারণে জনগন গণধোলাই দিয়েছে। সরেজমিনে আসলে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

জানতে চাইলে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জুয়েল হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।