Dhaka ১২:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বীরগঞ্জে প্রতারক চক্রের অপতৎপরতায় তোলপাড়।

বীরগঞ্জে প্রতারক চক্রের অপতৎপরতায় তোলপাড়।

 

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে প্রতারণা মামলাকে কেন্দ্র করে একের পর এক বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনমনে ধোঁয়াশা তৈরির অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে চক্রটি।

প্রতারণা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, ফজলার রহমান ও শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নতুন করে নানা কৌশলে ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া এবং ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসা এই চক্র এখন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের “নির্দোষ” প্রমাণের অপচেষ্টায় লিপ্ত। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে প্রচার চালালেও এলাকাবাসীর মাঝে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা।

আরও পড়ুনঃ  বীরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান: কারাদণ্ড ৩ গ্রেফতার ১

এদিকে পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাদের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের মুখে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে বহুল আলোচিত প্রবাদ— “অতি চালাকের গলায় দড়ি”।

কারণ, দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা নানা তথ্য ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। মুখোশ উন্মোচনের আতঙ্কে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। ইতোমধ্যে পল্টিবাজ হিসেবে পরিচিত শফিকুল ইসলামসহ চক্রটির অন্য সদস্য ও তাদের তল্পিবাহকদের পরিচয় নিয়েও এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

কে এই জাহিদ, ফজলার ও শফিকুল?

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও নানা অনিয়মের নেপথ্যে মূলহোতা জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে ফজলার রহমান ও সহোদর ভাই শফিকুল ইসলামের নাম।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, শিক্ষকতা ও ক্লিনিক ব্যবসার আড়ালে শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা গোপন কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসকে পুঁজি করে তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ  সাজিদা হত্যাকাণ্ডের আসামি বাদ দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আদালতে চলমান ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের সিআর মামলা নম্বর-২০৭ এর বাদী সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ শাহানাজ পারভীন জানান, তার ছেলে জিসান আল আহাদ পারভেজকে কোম্পানি ভিসায় অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর কথা বলে প্রতারক চক্রটি তার কাছ থেকে ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

আরও পড়ুনঃ  সাবেক ও বর্তমানদের মিলনমেলায় সেতুবন্ধন গড়তে চান

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিদেশে পাঠানোর নামে দীর্ঘদিন তালবাহানা করায় বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

বাদীর দাবি, মামলার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্তদের পক্ষে শফিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে তাকে হুমকি দেন। এ ঘটনায় গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে বীরগঞ্জ থানায় ১৬৪ নম্বর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম মামলা ও জিডির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ সাপেক্ষে এসআই খোকন চাকি গুরুত্বসহকারে বিষয়টি তদন্ত করছেন।

জনপ্রিয় পোস্ট

বীরগঞ্জে প্রতারক চক্রের অপতৎপরতায় তোলপাড়।

আপডেটের সময়: ০৯:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বীরগঞ্জে প্রতারক চক্রের অপতৎপরতায় তোলপাড়।

 

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে প্রতারণা মামলাকে কেন্দ্র করে একের পর এক বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনমনে ধোঁয়াশা তৈরির অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে চক্রটি।

প্রতারণা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, ফজলার রহমান ও শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নতুন করে নানা কৌশলে ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া এবং ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসা এই চক্র এখন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের “নির্দোষ” প্রমাণের অপচেষ্টায় লিপ্ত। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে প্রচার চালালেও এলাকাবাসীর মাঝে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে খাস জমি দখলের চেষ্টা ও ভূমিহীনদের উচ্ছেদের হুমকির অভিযোগ

এদিকে পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাদের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের মুখে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে বহুল আলোচিত প্রবাদ— “অতি চালাকের গলায় দড়ি”।

কারণ, দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা নানা তথ্য ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। মুখোশ উন্মোচনের আতঙ্কে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। ইতোমধ্যে পল্টিবাজ হিসেবে পরিচিত শফিকুল ইসলামসহ চক্রটির অন্য সদস্য ও তাদের তল্পিবাহকদের পরিচয় নিয়েও এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

কে এই জাহিদ, ফজলার ও শফিকুল?

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও নানা অনিয়মের নেপথ্যে মূলহোতা জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে ফজলার রহমান ও সহোদর ভাই শফিকুল ইসলামের নাম।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, শিক্ষকতা ও ক্লিনিক ব্যবসার আড়ালে শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা গোপন কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসকে পুঁজি করে তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ  খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী

তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আদালতে চলমান ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের সিআর মামলা নম্বর-২০৭ এর বাদী সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ শাহানাজ পারভীন জানান, তার ছেলে জিসান আল আহাদ পারভেজকে কোম্পানি ভিসায় অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর কথা বলে প্রতারক চক্রটি তার কাছ থেকে ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

আরও পড়ুনঃ  সাবেক ও বর্তমানদের মিলনমেলায় সেতুবন্ধন গড়তে চান

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিদেশে পাঠানোর নামে দীর্ঘদিন তালবাহানা করায় বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

বাদীর দাবি, মামলার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্তদের পক্ষে শফিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে তাকে হুমকি দেন। এ ঘটনায় গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে বীরগঞ্জ থানায় ১৬৪ নম্বর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম মামলা ও জিডির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ সাপেক্ষে এসআই খোকন চাকি গুরুত্বসহকারে বিষয়টি তদন্ত করছেন।