Dhaka ১০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
যশোরের মণিরামপুরে বৃদ্ধের জমি দখলচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ দীর্ঘ বিরতি শেষে টেনিস কোর্টে ফিরছেন সেরেনা উইলিয়ামস! জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে সাতক্ষীরায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির দোয়া মাহফিল ও খাদ্য বিতরণ যশোর সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানী মালামালসহ আটক-১ বীরগঞ্জে শালবাগান থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ মে মাসে এনসিটির নতুন রেকর্ড: এক মাসে সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিং। ডিবি পুলিশের তৎপরতায় হারানো পাসপোর্ট, ল্যাপটপ ও ব্যাগ উদ্ধার সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল এসো.’র অ্যাডহক কমিটিকে শ্যামনগর ফুটবল একাডেমির অভিনন্দন

ভালোবাসা দিবসে গদখালী ফুলবাজারে ধস, ক্ষতির শঙ্কায় চাষিরা

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর যশোরের ঝিকরগাছার গদখালী ফুলবাজারে বেচাকেনার উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। কিন্তু এ বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পরিবহন সীমাবদ্ধতার প্রভাবে সেই চিত্রে ভাটা পড়েছে। বাজারে ফুলের সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা কম থাকায় দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।

শুক্রবার সকালে সরেজমিন গদখালী ফুলবাজার ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ফুলচাষিদের ভিড় থাকলেও পাইকারি ক্রেতার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। ফলে উৎপাদিত ফুল কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, গত বছর ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে যেখানে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছিল, সেখানে চলতি বছর বিক্রি ৫ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ফুলবাড়ীতে দেহ ব্যবসার অভিযোগে ৭ জনের কারাদণ্ড

ফুলচাষি শওকত আলী বলেন, বাজারে ফুলের জোগান যথেষ্ট থাকলেও ক্রেতা সংকটের কারণে দাম পড়ে গেছে। পানিসারা গ্রামের চাষি রিজাক জানান, তিনি গোলাপ প্রতি পিস ৭-৮ টাকা এবং গ্লাডিওলাস ৬-১২ টাকায় বিক্রি করেছেন, যা এক সপ্তাহ আগেও প্রায় দ্বিগুণ ছিল।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রজনীগন্ধা প্রতি পিস ৩-৫ টাকা, জারবেরা ৬-৮ টাকা, গাঁদা ফুল প্রতি হাজার ২০০-৩০০ টাকা, জিপসী প্রতি আটি ৪০-৫০ টাকা এবং চন্দ্রমল্লিকা ১০০ পিস ১৫০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ ফুলের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

আরও পড়ুনঃ  শহিদ জিয়ার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান।

চাষিদের অভিযোগ, নির্বাচনী পরিস্থিতির কারণে অনেক স্থানে যানবাহন চলাচলে সীমাবদ্ধতা ছিল। ফলে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা বাজারে আসতে পারেননি। এতে সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিক্রিতে।

ঝিকরগাছা ফুলচাষি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর বলেন, নির্বাচনের প্রভাব ফুলবাজারে স্পষ্ট। পাইকারি ক্রেতা কম থাকায় প্রতিযোগিতা তৈরি হয়নি, যার ফল হিসেবে দাম কমেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অনেক চাষি উৎপাদন ব্যয় তুলতে হিমশিম খাবেন।

অন্যদিকে যশোর জেলা ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচন ও রমজান সামনে থাকায় বাজারে প্রত্যাশিত চাহিদা তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে চাষিদের সম্ভাব্য আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে সু-সন্তান পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম জানান, উপজেলায় প্রায় ৬২৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ হয়েছে। উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়ায় চাষিদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত গদখালীর বাজার পরিস্থিতি ঘিরে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত বাজার স্থিতিশীল না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

যশোরের মণিরামপুরে বৃদ্ধের জমি দখলচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

ভালোবাসা দিবসে গদখালী ফুলবাজারে ধস, ক্ষতির শঙ্কায় চাষিরা

আপডেটের সময়: ০২:১৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর যশোরের ঝিকরগাছার গদখালী ফুলবাজারে বেচাকেনার উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। কিন্তু এ বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পরিবহন সীমাবদ্ধতার প্রভাবে সেই চিত্রে ভাটা পড়েছে। বাজারে ফুলের সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা কম থাকায় দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।

শুক্রবার সকালে সরেজমিন গদখালী ফুলবাজার ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ফুলচাষিদের ভিড় থাকলেও পাইকারি ক্রেতার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। ফলে উৎপাদিত ফুল কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, গত বছর ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে যেখানে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছিল, সেখানে চলতি বছর বিক্রি ৫ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  শার্শার উলাশী ফোরকানিয়া মাদ্রাসায় ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

ফুলচাষি শওকত আলী বলেন, বাজারে ফুলের জোগান যথেষ্ট থাকলেও ক্রেতা সংকটের কারণে দাম পড়ে গেছে। পানিসারা গ্রামের চাষি রিজাক জানান, তিনি গোলাপ প্রতি পিস ৭-৮ টাকা এবং গ্লাডিওলাস ৬-১২ টাকায় বিক্রি করেছেন, যা এক সপ্তাহ আগেও প্রায় দ্বিগুণ ছিল।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রজনীগন্ধা প্রতি পিস ৩-৫ টাকা, জারবেরা ৬-৮ টাকা, গাঁদা ফুল প্রতি হাজার ২০০-৩০০ টাকা, জিপসী প্রতি আটি ৪০-৫০ টাকা এবং চন্দ্রমল্লিকা ১০০ পিস ১৫০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ ফুলের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

আরও পড়ুনঃ  টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রশাসনের অভিযানে ৬ হাউসবোট কে জরিমানা ১৪টি সাউন্ড বক্স জব্দ।

চাষিদের অভিযোগ, নির্বাচনী পরিস্থিতির কারণে অনেক স্থানে যানবাহন চলাচলে সীমাবদ্ধতা ছিল। ফলে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা বাজারে আসতে পারেননি। এতে সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিক্রিতে।

ঝিকরগাছা ফুলচাষি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর বলেন, নির্বাচনের প্রভাব ফুলবাজারে স্পষ্ট। পাইকারি ক্রেতা কম থাকায় প্রতিযোগিতা তৈরি হয়নি, যার ফল হিসেবে দাম কমেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অনেক চাষি উৎপাদন ব্যয় তুলতে হিমশিম খাবেন।

অন্যদিকে যশোর জেলা ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচন ও রমজান সামনে থাকায় বাজারে প্রত্যাশিত চাহিদা তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে চাষিদের সম্ভাব্য আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আরও পড়ুনঃ  যশোরের মণিরামপুরে বৃদ্ধের জমি দখলচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম জানান, উপজেলায় প্রায় ৬২৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ হয়েছে। উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়ায় চাষিদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত গদখালীর বাজার পরিস্থিতি ঘিরে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত বাজার স্থিতিশীল না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।