Dhaka ০৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওবিই কারিকুলাম বাস্তবায়নে ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন রামগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা ওবায়েদুল হকের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত রামগঞ্জ কে একটি আধুনিক রামগঞ্জ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই এম পি সন্তানকে নিয়ে বাঁচতে চান একরামুল, চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৬ লাখ টাকা গোপালগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে স্বামী নিহত, স্ত্রী হাসপাতালে বেনাপোলে ৪৩ বোতল বিদেশি মদসহ চোরাচালান পণ্য জব্দ যশোরে ডিবির পৃথক অভিযানে ৪ মাদক ব্যবসায়ী আটক শ্যামনগর বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষ্যে র‍্যালি, নদী, খাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান কালিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

রাজধানীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত

রাজধানীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত

 

রাজধানীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য বাইকার ও গাড়িচালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকেও অনেক সময় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত তেল। এই দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তায় দৈনন্দিন কাজ ও জীবিকা নির্বাহে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ বাইকার-চালকরা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকেই জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুললেও শত শত বাইকার এই আশায় লাইন ধরে আছেন যে, হয়তো দুপুরের পর সরবরাহ শুরু হবে। ডিপো থেকে জ্বালানি তেল আসতে দেরি হওয়ায় তেল সংগ্রহে তাদের ভোগান্তি বেড়েছে আরও দ্বিগুণ।

 

রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ের ‘পথের বন্ধু ফিলিং স্টেশন’, মগবাজারের ‘মঈন মোটর ফিলিং স্টেশন’ এবং ঐতিহাসিক কিউ.জি সামদানিসহ রমনা ও মগবাজার এলাকার পাম্পগুলোতে ছিল যানবাহনের দীর্ঘ সারি।

 

মতিঝিলের মেঘনা পেট্রোল পাম্পের দীর্ঘ লাইনে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল চালক সজীব আহমেদ (২৮)। চার দিন আগে বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে প্রায় ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাননি। পরে অন্য আরেক পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে বাসায় ফিরেছেন। এবার পাম্পে তেল আসার আগেই তেলের জন্য সিরিয়াল দিয়েছেন।

 

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় পরকীয়া করে অন্যের স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ মেম্বারের বিরুদ্ধে

বাংলা ট্রিবিউনকে সজীব বলেন, “আমি ১০ বছর ধরে মোটরসাইকেল চালাই। তেলের জন্য এত কষ্ট আমাকে জীবনেও করতে হয়নি। রাত জেগে পাম্পে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তবুও তেল পাইনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল নিতে হচ্ছে। সরকার বলছে, তেলের সংকট নাই। অথচ সব পাম্পেই দীর্ঘ লাইন, ঠিকমতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তীব্র গরমের কারণে জীবন বের হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। কবে এই ভোগান্তির অবসান হবে আল্লাহ জানেন।

 

আরেক বাইকার রাহাত মিনহাজ (২৬) বলেন, “গত সপ্তাহে ১৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করে সংসদ এলাকার একটা পাম্প থেকে তেল নিয়েছিলাম। তেল সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে এখন আর আগের মতো বাইক চালাই না। একেবারে জরুরি না হলে বাইক বের করি না। কারণ বাইকের তেল শেষ হলে নেওয়া যে কি কষ্টকর তা বলে বোঝানো যাবে না। আজ অলরেডি সাড়ে তিন ঘণ্টা আগে লাইন ধরলাম। জানি না কখন তেল নিয়ে বাসায় ফিরতে পারবো।

 

আরও পড়ুনঃ  বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকর করতে সাতক্ষীরায় পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি সম্মেলন

সংকটময় এই পরিস্থিতিতে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ভিআইপি’ সংস্কৃতি। অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ মানুষ ১০-১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রশাসনের পরিচয় দিয়ে অনেকে মুহূর্তেই তেল নিয়ে যাচ্ছেন। এমন সব অভিযোগে হট্টগোলে জড়িয়ে যাচ্ছে চালক ও পেট্রোল পাম্পের কর্মীরা।

 

পাম্পে তেল নিতে আসাদের সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেকে সচিবের পরিচয় দিয়ে লাইনে না দাঁড়িয়ে তেল নিয়ে যাচ্ছে। অনেকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তেল নিচ্ছে। অনেকে আবার ফোনে অন্য কাউকে কথা বলিয়ে তেল নিচ্ছেন। এতে ভোগান্তি বাড়ছে বলে জানান তেল নিতে আসা চালকরা।

 

মগবাজারের মঈন মোটর ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা রাব্বি নামের একজন বাইকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ১০-১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল পাই আবার কখনও বা পাই না। অথচ অনেকে ক্ষমতা দেখিয়ে মুহূর্তের মধ্যে লাইনে না দাঁড়িয়েই তেল নিয়ে যায়। অনেকে আবার পাম্পের কর্মীদের ১০০-২০০ টাকা বাড়তি দিয়ে সিস্টেমে তেল নিয়ে নেয়। যার ফলে আমাদের আরও দীর্ঘ সময় লাইনে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরার বাবুলিয়া জেএস হাইস্কুলে কমিটি বাতিলের চাপ, প্রধান শিক্ষককে হুমকির অভিযোগ

 

পেট্রোল পাম্প মালিকদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। ডিপো থেকে সময়মতো তেল না আসায় তারা গ্রাহকদের সামাল দিতে পারছেন না। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির চেয়েও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অসাধু চক্রের কারসাজি এবং ব্যক্তিগতভাবে তেল মজুত করার প্রবণতা। তদারকি না বাড়ালে এই সংকট থেকে দ্রুত মুক্তি মিলবে না বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

রাজধানীর এই জ্বালানি অস্থিরতা কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও সুনির্দিষ্ট আশার বাণী শোনাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কেবল বাড়ছেই।

জনপ্রিয় পোস্ট

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওবিই কারিকুলাম বাস্তবায়নে ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

রাজধানীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত

আপডেটের সময়: ১১:১৯:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত

 

রাজধানীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য বাইকার ও গাড়িচালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকেও অনেক সময় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত তেল। এই দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তায় দৈনন্দিন কাজ ও জীবিকা নির্বাহে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ বাইকার-চালকরা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকেই জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুললেও শত শত বাইকার এই আশায় লাইন ধরে আছেন যে, হয়তো দুপুরের পর সরবরাহ শুরু হবে। ডিপো থেকে জ্বালানি তেল আসতে দেরি হওয়ায় তেল সংগ্রহে তাদের ভোগান্তি বেড়েছে আরও দ্বিগুণ।

 

রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ের ‘পথের বন্ধু ফিলিং স্টেশন’, মগবাজারের ‘মঈন মোটর ফিলিং স্টেশন’ এবং ঐতিহাসিক কিউ.জি সামদানিসহ রমনা ও মগবাজার এলাকার পাম্পগুলোতে ছিল যানবাহনের দীর্ঘ সারি।

 

মতিঝিলের মেঘনা পেট্রোল পাম্পের দীর্ঘ লাইনে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল চালক সজীব আহমেদ (২৮)। চার দিন আগে বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে প্রায় ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাননি। পরে অন্য আরেক পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে বাসায় ফিরেছেন। এবার পাম্পে তেল আসার আগেই তেলের জন্য সিরিয়াল দিয়েছেন।

 

আরও পড়ুনঃ  সন্তানদের জন্য বাঁচতে চান মিলন নামের এক অসহায় পিতা

বাংলা ট্রিবিউনকে সজীব বলেন, “আমি ১০ বছর ধরে মোটরসাইকেল চালাই। তেলের জন্য এত কষ্ট আমাকে জীবনেও করতে হয়নি। রাত জেগে পাম্পে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তবুও তেল পাইনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল নিতে হচ্ছে। সরকার বলছে, তেলের সংকট নাই। অথচ সব পাম্পেই দীর্ঘ লাইন, ঠিকমতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তীব্র গরমের কারণে জীবন বের হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। কবে এই ভোগান্তির অবসান হবে আল্লাহ জানেন।

 

আরেক বাইকার রাহাত মিনহাজ (২৬) বলেন, “গত সপ্তাহে ১৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করে সংসদ এলাকার একটা পাম্প থেকে তেল নিয়েছিলাম। তেল সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে এখন আর আগের মতো বাইক চালাই না। একেবারে জরুরি না হলে বাইক বের করি না। কারণ বাইকের তেল শেষ হলে নেওয়া যে কি কষ্টকর তা বলে বোঝানো যাবে না। আজ অলরেডি সাড়ে তিন ঘণ্টা আগে লাইন ধরলাম। জানি না কখন তেল নিয়ে বাসায় ফিরতে পারবো।

 

আরও পড়ুনঃ  সারাদেশে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বাগআঁচড়ায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

সংকটময় এই পরিস্থিতিতে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ভিআইপি’ সংস্কৃতি। অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ মানুষ ১০-১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রশাসনের পরিচয় দিয়ে অনেকে মুহূর্তেই তেল নিয়ে যাচ্ছেন। এমন সব অভিযোগে হট্টগোলে জড়িয়ে যাচ্ছে চালক ও পেট্রোল পাম্পের কর্মীরা।

 

পাম্পে তেল নিতে আসাদের সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেকে সচিবের পরিচয় দিয়ে লাইনে না দাঁড়িয়ে তেল নিয়ে যাচ্ছে। অনেকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তেল নিচ্ছে। অনেকে আবার ফোনে অন্য কাউকে কথা বলিয়ে তেল নিচ্ছেন। এতে ভোগান্তি বাড়ছে বলে জানান তেল নিতে আসা চালকরা।

 

মগবাজারের মঈন মোটর ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা রাব্বি নামের একজন বাইকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ১০-১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল পাই আবার কখনও বা পাই না। অথচ অনেকে ক্ষমতা দেখিয়ে মুহূর্তের মধ্যে লাইনে না দাঁড়িয়েই তেল নিয়ে যায়। অনেকে আবার পাম্পের কর্মীদের ১০০-২০০ টাকা বাড়তি দিয়ে সিস্টেমে তেল নিয়ে নেয়। যার ফলে আমাদের আরও দীর্ঘ সময় লাইনে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় পরকীয়া করে অন্যের স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ মেম্বারের বিরুদ্ধে

 

পেট্রোল পাম্প মালিকদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। ডিপো থেকে সময়মতো তেল না আসায় তারা গ্রাহকদের সামাল দিতে পারছেন না। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির চেয়েও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অসাধু চক্রের কারসাজি এবং ব্যক্তিগতভাবে তেল মজুত করার প্রবণতা। তদারকি না বাড়ালে এই সংকট থেকে দ্রুত মুক্তি মিলবে না বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

রাজধানীর এই জ্বালানি অস্থিরতা কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও সুনির্দিষ্ট আশার বাণী শোনাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কেবল বাড়ছেই।