Dhaka ০৪:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশজুড়ে একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-টু’ উদ্বোধন কালিগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজান -২ এর উদ্বোধন বাগআঁচড়ায় বিএনপির প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত ঝিকরগাছায় বেতনা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় কাভার্ড ভ্যানের চালক নিহত ঝিকরগাছায় ক্যান্সার আক্রান্ত সোহেলের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৬ লক্ষ টাকা সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি- বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক চৌগাছায় এসআরবি’র অভিযানে ভারতীয় উইন্সেরেক্স সিরাপসহ আটক-২ সাদুল্লাপুর ঘাঘট নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে স্থানীয় এমপি সাংবাদিক আলিফ ফকির হ/ত্যা/র বিচারের দাবিতে নেত্রকোনায় দুই শতাধিক সাংবাদিকের মা/ন/ব/ব/ন্ধ/ন

সার্কুলার মডেল বাস্তবায়নে কে নেতৃত্ব দিবে? রাষ্ট্র, শিল্প নাকি নাগরিক সমাজ* সাকিফ শামীম এমডি ল্যাব এইড ক্যান্সার হাসপাতাল

সার্কুলার ইকোনমি বা বৃত্তাকার অর্থনীতি বর্তমান জলবায়ু সংকট ও সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের বাস্তবতায় লিনিয়ার ইকোনমির একটি কার্যকর বিকল্প। এর মূল দর্শন হলো রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেলের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা এবং পণ্যের জীবনচক্র দীর্ঘায়িত করা। তবে এই রূপান্তর কোনো একক পক্ষের মাধ্যমে সম্ভব নয়; এর জন্য রাষ্ট্র, শিল্পখাত ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

রাষ্ট্রকে এখানে নীতিনির্ধারক ও পথপ্রদর্শকের ভূমিকা নিতে হবে। কার্যকর আইন, প্রণোদনা, গ্রিন ট্যাক্স সুবিধা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাধ্যতামূলক করা এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যে শুল্ক ছাড়ের মাধ্যমে রাষ্ট্র একটি সহায়ক ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি সোভেরেন গ্রিন বন্ড ও কার্বন ক্রেডিট মার্কেট চালুর মাধ্যমে টেকসই অবকাঠামো ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগে অর্থায়নের ভিত্তি শক্ত করা জরুরি।

শিল্পখাত হলো সার্কুলার মডেলের মূল চালিকাশক্তি। উৎপাদন পর্যায় থেকেই টেকসই, পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী পণ্যের ওপর জোর দিতে হবে। উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানো এবং মুনাফার পাশাপাশি পরিবেশগত দায়িত্ব গ্রহণ করলেই শিল্পখাত এই রূপান্তরকে বাস্তব রূপ দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ওয়েস্ট-টেক, সার্কুলার সাপ্লাই চেইন ও ক্লিন এনার্জি ভিত্তিক স্টার্টআপগুলোর জন্য বড় পরিসরে সুযোগ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থায়নের দিক থেকে ইক্যুইটি ফাইন্যান্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন, যাতে উদ্যোক্তারা ঋণের চাপ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ভাবনে কাজ করতে পারেন। একই সঙ্গে কার্বন, গ্রিন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সার্টিফিকেট কেনাবেচার জন্য একটি স্বচ্ছ ক্রেডিট এক্সচেঞ্জ হাউজ সার্কুলার অর্থনীতিকে আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

একজন দায়িত্বশীল নাগরিক এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের প্রতিনিধি হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন পরিবেশের সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে চলে। সার্কুলার ইকোনমি কেবল একটি অর্থনৈতিক তত্ত্ব নয়, এটি একটি সুন্দর ও সুস্থ পৃথিবীর বেঁচে থাকার দর্শন। রাষ্ট্র, শিল্প এবং নাগরিক সমাজ—আমরা সবাই যখন এক সুরে কথা বলব, তখনই শুরু হবে এক নতুন এবং টেকসই পৃথিবীর যাত্রা।

জনপ্রিয় পোস্ট

দেশজুড়ে একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-টু’ উদ্বোধন

সার্কুলার মডেল বাস্তবায়নে কে নেতৃত্ব দিবে? রাষ্ট্র, শিল্প নাকি নাগরিক সমাজ* সাকিফ শামীম এমডি ল্যাব এইড ক্যান্সার হাসপাতাল

আপডেটের সময়: ০৩:২৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

সার্কুলার ইকোনমি বা বৃত্তাকার অর্থনীতি বর্তমান জলবায়ু সংকট ও সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের বাস্তবতায় লিনিয়ার ইকোনমির একটি কার্যকর বিকল্প। এর মূল দর্শন হলো রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেলের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা এবং পণ্যের জীবনচক্র দীর্ঘায়িত করা। তবে এই রূপান্তর কোনো একক পক্ষের মাধ্যমে সম্ভব নয়; এর জন্য রাষ্ট্র, শিল্পখাত ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

রাষ্ট্রকে এখানে নীতিনির্ধারক ও পথপ্রদর্শকের ভূমিকা নিতে হবে। কার্যকর আইন, প্রণোদনা, গ্রিন ট্যাক্স সুবিধা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাধ্যতামূলক করা এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যে শুল্ক ছাড়ের মাধ্যমে রাষ্ট্র একটি সহায়ক ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি সোভেরেন গ্রিন বন্ড ও কার্বন ক্রেডিট মার্কেট চালুর মাধ্যমে টেকসই অবকাঠামো ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগে অর্থায়নের ভিত্তি শক্ত করা জরুরি।

শিল্পখাত হলো সার্কুলার মডেলের মূল চালিকাশক্তি। উৎপাদন পর্যায় থেকেই টেকসই, পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী পণ্যের ওপর জোর দিতে হবে। উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানো এবং মুনাফার পাশাপাশি পরিবেশগত দায়িত্ব গ্রহণ করলেই শিল্পখাত এই রূপান্তরকে বাস্তব রূপ দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ওয়েস্ট-টেক, সার্কুলার সাপ্লাই চেইন ও ক্লিন এনার্জি ভিত্তিক স্টার্টআপগুলোর জন্য বড় পরিসরে সুযোগ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থায়নের দিক থেকে ইক্যুইটি ফাইন্যান্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন, যাতে উদ্যোক্তারা ঋণের চাপ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ভাবনে কাজ করতে পারেন। একই সঙ্গে কার্বন, গ্রিন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সার্টিফিকেট কেনাবেচার জন্য একটি স্বচ্ছ ক্রেডিট এক্সচেঞ্জ হাউজ সার্কুলার অর্থনীতিকে আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

একজন দায়িত্বশীল নাগরিক এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের প্রতিনিধি হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন পরিবেশের সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে চলে। সার্কুলার ইকোনমি কেবল একটি অর্থনৈতিক তত্ত্ব নয়, এটি একটি সুন্দর ও সুস্থ পৃথিবীর বেঁচে থাকার দর্শন। রাষ্ট্র, শিল্প এবং নাগরিক সমাজ—আমরা সবাই যখন এক সুরে কথা বলব, তখনই শুরু হবে এক নতুন এবং টেকসই পৃথিবীর যাত্রা।