৬ কোটি টাকার কুশ জব্দ সাতক্ষীরায়
সাতক্ষীরায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় ৬ কোটি টাকার নতুন ধরনের মাদক ‘কুশ’ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় ১২ কেজি কুশ, একটি মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোনসহ এক যুবককে আটক করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামতের মোট আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর ব্যাটালিয়ন সদর থেকে পরিচালিত একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার মাধবকাঠি বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। দীর্ঘ সময় নজরদারির পর সাতক্ষীরা শহর থেকে ঝাউডাঙ্গা বাজারের দিকে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন এক যুবককে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে ওই যুবকের কাছে থাকা ব্যাগ থেকে ১২ কেজি ‘কুশ’ নামের মাদক উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তি কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামের বাসিন্দা মো. তারিকুজ্জামান (২৪) বলে জানিয়েছে বিজিবি। অভিযানের সময় তার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ১২ কেজি কুশের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ কোটি টাকা। এছাড়া জব্দ করা মোটরসাইকেলের মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোনের মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া আলামতের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, ‘কুশ’ মূলত মারিজুয়ানা গাছের ফুল বা কুঁড়ি থেকে প্রস্তুত এক ধরনের উচ্চমাত্রার মাদক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এতে অতিরিক্ত টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল (THC) মিশিয়ে লিকুইড, পাউডার কিংবা ট্যাবলেট আকারে সিনথেটিক মাদক হিসেবে বাজারজাত করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের মাদক দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পাচারের চেষ্টা বাড়ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা।
সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, ভারতের সঙ্গে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের ৫৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।














