Dhaka ০৮:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করলা চুরির অভিযোগে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

করলা চুরির অভিযোগে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

 

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে করলা (সবজি) চুরির অভিযোগে এক নারীকে গাছে বেঁধে লাঠি পেটার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের (বংশিপাড়া) দাঁততভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার বিকেলে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নির্যাতনের শিকার ওই নারী।

 

স্থানীয়রা জানান, দাঁততভাঙ্গা এলাকার কৃষক ফরহাদ হোসেনের জমি থেকে করলা (সবজি) চাষ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে ওই খেত থেকে করলা (সবজি) চুরির সময় ছালেহা খাতুন (৪৫) নামের এক নারীকে আটক করেন জমির মালিক। পরে গাছের সাথে বেঁধে রাখা অবস্থায় মারপিট করা হয় ওই নারীকে। তবে ঘটনাটিকে চুরির শাস্তি হিসেবে দেখলেও অধিকাংশই এটিকে অমানবিক ও আইনবহির্ভূত নির্যাতন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তারা।

 

আরও পড়ুনঃ  পীর শামীম হত্যা, মামলা করতে আগ্রহী নয় পরিবার

নির্যাতনের শিকার ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘ফরহাদ হোসেনসহ আরও পাঁচ-ছয়জন মিলে আমাকে রশি দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রেখে আমার স্বামীকে খবর দেন। এ সময় আমাকে বেঁধে রাখা অবস্থায় আশপাশের লোকজনদের ডেকে জএনে চুরি অপবাদ দেন ও ঘটনাস্থলে আমার স্বামী আসার পর তাকেও ওই মিথ্যা চুরি অপবাদ দিয়ে মারধর করতে বলেন তারা।

 

ওই নারী আরও বলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে মারতে না চাইলেও আমার স্বামীকে মারপিট করার জন্য বাধ্য করেছেন তারা। তাই এ ঘটনার তদন্ত করে আমি ও আমার স্বামীর মানহানী করার জন্য তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ভুক্তভোগি ওই নারী।

 

আরও পড়ুনঃ  মনোনয়ন প্রত্যাশী জিনাত আরা ১৭ এপ্রিল সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ

নির্যাতনের শিকার ওই নারীর স্বামী বদিউজ্জামান বলেন, ‘আমি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের সামন থেকে আমাকে জোর করে অটোভ্যানে তুলে নিয়ে আসেন। এসে দেখি গাছ বাগানে আমার স্ত্রীকে মারধর করে গাছে সাথে বেঁধে রেখেছে। আমার সামনেও কয়েকজন মারধর করেন। এ সময় আমাকেও মারধর করতে বলেন সবজি খেতের মালিক ফরহাদ হোসেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে দুইটা চড় মারেন ও আমাকে বাঁধার জন্য এগিয়ে আসেন তার লোকজন। এতে নিরূপায় হয়ে আমার স্ত্রীকে কয়েকটি আঘাত করি।

আরও পড়ুনঃ  উপজেলায় সাঁওতালদের সংঘর্ষ নারীসহ আহত ৪

 

এ ঘটনাটি নিয়ে কথা হয় সবজি খেতের মালিক ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ছালেহা নামের ওই নারী প্রতিনিয়ত এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটান। মঙ্গলবার আমার খেত থেকে করলা (সবজি) চুরির সময় হাতেনাতে তাকে আটক করা হয়। পরে দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের সামনে থেকে ডেকে নিয়ে আসা হয়। এ সময় বলা হয়, তুই এখন তোর বউয়ের বিচার করে নিয়ে যা। পরে ওই নারীর স্বামী তাকে মারধর করে নিয়ে যান।

 

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় পোস্ট

করলা চুরির অভিযোগে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

আপডেটের সময়: ১১:৪৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

করলা চুরির অভিযোগে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

 

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে করলা (সবজি) চুরির অভিযোগে এক নারীকে গাছে বেঁধে লাঠি পেটার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের (বংশিপাড়া) দাঁততভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার বিকেলে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নির্যাতনের শিকার ওই নারী।

 

স্থানীয়রা জানান, দাঁততভাঙ্গা এলাকার কৃষক ফরহাদ হোসেনের জমি থেকে করলা (সবজি) চাষ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে ওই খেত থেকে করলা (সবজি) চুরির সময় ছালেহা খাতুন (৪৫) নামের এক নারীকে আটক করেন জমির মালিক। পরে গাছের সাথে বেঁধে রাখা অবস্থায় মারপিট করা হয় ওই নারীকে। তবে ঘটনাটিকে চুরির শাস্তি হিসেবে দেখলেও অধিকাংশই এটিকে অমানবিক ও আইনবহির্ভূত নির্যাতন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তারা।

 

আরও পড়ুনঃ  গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

নির্যাতনের শিকার ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘ফরহাদ হোসেনসহ আরও পাঁচ-ছয়জন মিলে আমাকে রশি দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রেখে আমার স্বামীকে খবর দেন। এ সময় আমাকে বেঁধে রাখা অবস্থায় আশপাশের লোকজনদের ডেকে জএনে চুরি অপবাদ দেন ও ঘটনাস্থলে আমার স্বামী আসার পর তাকেও ওই মিথ্যা চুরি অপবাদ দিয়ে মারধর করতে বলেন তারা।

 

ওই নারী আরও বলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে মারতে না চাইলেও আমার স্বামীকে মারপিট করার জন্য বাধ্য করেছেন তারা। তাই এ ঘটনার তদন্ত করে আমি ও আমার স্বামীর মানহানী করার জন্য তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ভুক্তভোগি ওই নারী।

 

আরও পড়ুনঃ  পীর শামীম হত্যা, মামলা করতে আগ্রহী নয় পরিবার

নির্যাতনের শিকার ওই নারীর স্বামী বদিউজ্জামান বলেন, ‘আমি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের সামন থেকে আমাকে জোর করে অটোভ্যানে তুলে নিয়ে আসেন। এসে দেখি গাছ বাগানে আমার স্ত্রীকে মারধর করে গাছে সাথে বেঁধে রেখেছে। আমার সামনেও কয়েকজন মারধর করেন। এ সময় আমাকেও মারধর করতে বলেন সবজি খেতের মালিক ফরহাদ হোসেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে দুইটা চড় মারেন ও আমাকে বাঁধার জন্য এগিয়ে আসেন তার লোকজন। এতে নিরূপায় হয়ে আমার স্ত্রীকে কয়েকটি আঘাত করি।

আরও পড়ুনঃ  মনোনয়ন প্রত্যাশী জিনাত আরা ১৭ এপ্রিল সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ

 

এ ঘটনাটি নিয়ে কথা হয় সবজি খেতের মালিক ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ছালেহা নামের ওই নারী প্রতিনিয়ত এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটান। মঙ্গলবার আমার খেত থেকে করলা (সবজি) চুরির সময় হাতেনাতে তাকে আটক করা হয়। পরে দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের সামনে থেকে ডেকে নিয়ে আসা হয়। এ সময় বলা হয়, তুই এখন তোর বউয়ের বিচার করে নিয়ে যা। পরে ওই নারীর স্বামী তাকে মারধর করে নিয়ে যান।

 

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।