কর্মসংস্থানের দাবিতে এলএসপিদের সংবাদ সম্মেলন
৭ জুনের মধ্যে সমাধান না হলে আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারি
“করুণা চাই না, কর্মসংস্থান চাই—খামারিদের পাশে থাকতে চাই” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ এলএসপি ঐক্য পরিবার কেন্দ্রীয় কমিটি।
আজ আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সংগঠনটির সদস্য সচিব মোঃ শরীফ হোসেন। এসময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত প্রায় ৪২০০ জন লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার (এলএসপি) প্রতিনিধি, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত প্রায় ৭ বছর ধরে এলএসপিরা মাঠপর্যায়ে নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, খামারিদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রাণিসম্পদের বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। ক্ষুরা রোগ (FMD), লাম্পি স্কিন ডিজিজ (LSD), পিপিআর (PPR), অ্যানথ্রাক্সসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে দ্রুত ও কার্যকর সেবা প্রদানের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে সুরক্ষা দিতে তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন বলে দাবি করা হয়।
বক্তারা বলেন, এলএসপিদের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার খামারিকে নিয়ে ৬ হাজার ৫০০টি উৎপাদনকারী দল (PG) গঠন করা হয়েছে। এসব দলের সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান ও সঞ্চয় কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে প্রায় ১৩০ কোটি টাকার সঞ্চয় জমা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এলএসপিরাই সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছেন। তবুও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদের স্থায়ী কর্মসংস্থানের বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এলএসপি নেতারা জানান, স্থায়ী কর্মসংস্থানের দাবিতে তারা ইতোমধ্যে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার স্মারকলিপি দিয়েছেন ও বৈঠক করেছেন। এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাবে একাধিক সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।
তারা অভিযোগ করেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে দুই দফা সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে হাজারো এলএসপি পরিবার চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী ৭ জুন ২০২৬ সালের মধ্যে ইউনিয়নভিত্তিক স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করা হলে এলএসপিদের মতামতের ভিত্তিতে আমরণ অনশন, ঘেরাও কর্মসূচিসহ কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
শেষে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, “আমাদের বেকারত্বের দিকে ঠেলে না দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুন। কর্মসংস্থান নিশ্চিত হলে বাঁচবে খামারি, বাঁচবে দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।










