Dhaka ০৪:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা,আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশু হাসপাতালে।

আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা,আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশু হাসপাতালে।

 

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নিজ ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূ ও তার কিশোরী মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে ৫ বছর বয়সী এক শিশু। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— স্থানীয় সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তাদের মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে তাদের ৫ বছর বয়সী ছেলে পিয়াস বড়ুয়া।

নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া চট্টগ্রাম নগরীর খাতুনগঞ্জ এলাকার একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত আছেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে সুজন বড়ুয়ার বাড়ি থেকে হঠাৎ চিৎকার ও গোঙানির শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। উৎসুক লোকজন ছুটে গিয়ে ঘরের দরজার সামনে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় এনি বড়ুয়া ও তার ছোট ছেলেকে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পড়শি সুরভী বড়ুয়া জানান,

“চিৎকার শুনে আমরা দ্রুত ওই বাড়িতে যাই। সেখানে মা ও ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাতে দেখে চমকে উঠি। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে মেয়ের মরদেহ দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দিই।”

স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই মারা যান মা এনি বড়ুয়া।

নেপথ্যে কি আর্থিক লেনদেন? স্বামীর বিস্ফোরক দাবি
খবর পেয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে রাতেই বাড়িতে ছুটে আসেন সুজন বড়ুয়া। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, চাকুরির সুবাদে ঘটনার সময় তিনি শহরেই অবস্থান করছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর্থিক বিরোধের ইঙ্গিত দিয়ে সুজন বড়ুয়া দাবি করেন, প্রতিবেশী লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র সাথে তার দীর্ঘদিন ধরে টাকা-পয়সা নিয়ে লেনদেন ছিল। এই শত্রুতার জেরে লিমনই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। এছাড়া মৃত্যুর কোল ঢলে পড়ার আগে তার স্ত্রী এনি বড়ুয়া ঘাতক হিসেবে লিমন বড়ুয়ার নাম উচ্চারণ করে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন,

“খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”

ওসি আরও জানান, জোড়া খুনের এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ইতিমধ্যে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা,আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশু হাসপাতালে।

আপডেটের সময়: ০৬:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা,আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশু হাসপাতালে।

 

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নিজ ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূ ও তার কিশোরী মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে ৫ বছর বয়সী এক শিশু। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— স্থানীয় সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তাদের মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে তাদের ৫ বছর বয়সী ছেলে পিয়াস বড়ুয়া।

নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া চট্টগ্রাম নগরীর খাতুনগঞ্জ এলাকার একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত আছেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে সুজন বড়ুয়ার বাড়ি থেকে হঠাৎ চিৎকার ও গোঙানির শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। উৎসুক লোকজন ছুটে গিয়ে ঘরের দরজার সামনে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় এনি বড়ুয়া ও তার ছোট ছেলেকে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পড়শি সুরভী বড়ুয়া জানান,

“চিৎকার শুনে আমরা দ্রুত ওই বাড়িতে যাই। সেখানে মা ও ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাতে দেখে চমকে উঠি। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে মেয়ের মরদেহ দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দিই।”

স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই মারা যান মা এনি বড়ুয়া।

নেপথ্যে কি আর্থিক লেনদেন? স্বামীর বিস্ফোরক দাবি
খবর পেয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে রাতেই বাড়িতে ছুটে আসেন সুজন বড়ুয়া। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, চাকুরির সুবাদে ঘটনার সময় তিনি শহরেই অবস্থান করছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর্থিক বিরোধের ইঙ্গিত দিয়ে সুজন বড়ুয়া দাবি করেন, প্রতিবেশী লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র সাথে তার দীর্ঘদিন ধরে টাকা-পয়সা নিয়ে লেনদেন ছিল। এই শত্রুতার জেরে লিমনই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। এছাড়া মৃত্যুর কোল ঢলে পড়ার আগে তার স্ত্রী এনি বড়ুয়া ঘাতক হিসেবে লিমন বড়ুয়ার নাম উচ্চারণ করে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন,

“খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”

ওসি আরও জানান, জোড়া খুনের এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ইতিমধ্যে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।