Dhaka ০৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফলোআপ.. রৌমারীতে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা

ফলোআপ..
রৌমারীতে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা

 

 

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে করলা চুরির অভিযোগে এক নারীকে গাছে বেঁধে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বুধবার রাতে ভুক্তভোগি ওই নারী রৌমারী থানায় সাতজনের নামে মামলা করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের বংশিপাড়া এলাকায় সবজি চুরির অভিযোগে ভুক্তভোগি নারীকে গাছে বেঁধে মারধর করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরদিন বুধবার বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন নির্যাতনের শিকার ওই নারী ।

 

স্থানীয়রা জানান, দাঁততভাঙ্গা এলাকার কৃষক ফরহাদ হোসেনের জমি থেকে করলা (সবজি) চাষ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে ওই খেত থেকে করলা (সবজি) চুরির সময় ছালেহা খাতুন (৪৫) নামের এক নারীকে আটক করেন জমির মালিক। পরে গাছের সাথে বেঁধে রাখা অবস্থায় মারপিট করা হয় ওই নারীকে। তবে ঘটনাটিকে চুরির শাস্তি হিসেবে দেখলেও অধিকাংশই এটিকে অমানবিক ও আইনবহির্ভূত নির্যাতন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  ধ*র্ষ*ণ মামলায় ৩ নম্বর: আসামি গ্রে*প্তা*র।

 

নির্যাতনের শিকার ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘ফরহাদ হোসেনসহ আরও পাঁচ-ছয়জন মিলে আমাকে রশি দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রেখে আমার স্বামীকে খবর দেন। এ সময় আমাকে বেঁধে রাখা অবস্থায় আশপাশের লোকজনদের ডেকে এনে চুরি অপবাদ দেন ও ঘটনাস্থলে আমার স্বামী আসার পর তাকেও ওই মিথ্যা চুরি অপবাদ দিয়ে মারধর করতে বলেন তারা।

ওই নারী আরও বলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে মারতে না চাইলেও আমার স্বামীকে মারপিট করার জন্য বাধ্য করেছেন তারা। তাই এ ঘটনার তদন্ত করে আমি ও আমার স্বামীর মানহানী করার জন্য তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ভুক্তভোগি ওই নারী।

আরও পড়ুনঃ  প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা শুরুর দিনেই অনুপস্থিত ৩ হাজারের বেশি

 

নির্যাতনের শিকার ওই নারীর স্বামী বদিউজ্জামান বলেন, ‘আমি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের সামন থেকে আমাকে জোর করে অটোভ্যানে তুলে নিয়ে আসেন। এসে দেখি গাছ বাগানে আমার স্ত্রীকে মারধর করে গাছে সাথে বেঁধে রেখেছে। আমার সামনেও কয়েকজন মারধর করেন। এ সময় আমাকেও মারধর করতে বলেন সবজি খেতের মালিক ফরহাদ হোসেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে দুইটা চড় মারেন ও আমাকে বাঁধার জন্য এগিয়ে আসেন তার লোকজন। এতে নিরূপায় হয়ে আমার স্ত্রীকে কয়েকটি আঘাত করি।

 

আরও পড়ুনঃ  মান্দায় ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন

এ ঘটনাটি নিয়ে কথা হয় সবজি খেতের মালিক ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ছালেহা নামের ওই নারী প্রতিনিয়ত এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটান। মঙ্গলবার আমার খেত থেকে করলা (সবজি) চুরির সময় হাতেনাতে তাকে আটক করা হয়। পরে দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের সামনে থেকে ডেকে নিয়ে আসা হয়। এ সময় বলা হয়, তুই এখন তোর বউয়ের বিচার করে নিয়ে যা। পরে ওই নারীর স্বামী তাকে মারধর করে নিয়ে যান।

 

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী জানান, ওই ঘটনায় সাতজনের নামে মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

ফলোআপ.. রৌমারীতে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা

আপডেটের সময়: ০৫:৩৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ফলোআপ..
রৌমারীতে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা

 

 

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে করলা চুরির অভিযোগে এক নারীকে গাছে বেঁধে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বুধবার রাতে ভুক্তভোগি ওই নারী রৌমারী থানায় সাতজনের নামে মামলা করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের বংশিপাড়া এলাকায় সবজি চুরির অভিযোগে ভুক্তভোগি নারীকে গাছে বেঁধে মারধর করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরদিন বুধবার বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন নির্যাতনের শিকার ওই নারী ।

 

স্থানীয়রা জানান, দাঁততভাঙ্গা এলাকার কৃষক ফরহাদ হোসেনের জমি থেকে করলা (সবজি) চাষ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে ওই খেত থেকে করলা (সবজি) চুরির সময় ছালেহা খাতুন (৪৫) নামের এক নারীকে আটক করেন জমির মালিক। পরে গাছের সাথে বেঁধে রাখা অবস্থায় মারপিট করা হয় ওই নারীকে। তবে ঘটনাটিকে চুরির শাস্তি হিসেবে দেখলেও অধিকাংশই এটিকে অমানবিক ও আইনবহির্ভূত নির্যাতন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  করলা চুরির অভিযোগে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

 

নির্যাতনের শিকার ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘ফরহাদ হোসেনসহ আরও পাঁচ-ছয়জন মিলে আমাকে রশি দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রেখে আমার স্বামীকে খবর দেন। এ সময় আমাকে বেঁধে রাখা অবস্থায় আশপাশের লোকজনদের ডেকে এনে চুরি অপবাদ দেন ও ঘটনাস্থলে আমার স্বামী আসার পর তাকেও ওই মিথ্যা চুরি অপবাদ দিয়ে মারধর করতে বলেন তারা।

ওই নারী আরও বলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে মারতে না চাইলেও আমার স্বামীকে মারপিট করার জন্য বাধ্য করেছেন তারা। তাই এ ঘটনার তদন্ত করে আমি ও আমার স্বামীর মানহানী করার জন্য তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ভুক্তভোগি ওই নারী।

আরও পড়ুনঃ  মনোনয়ন প্রত্যাশী জিনাত আরা ১৭ এপ্রিল সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ

 

নির্যাতনের শিকার ওই নারীর স্বামী বদিউজ্জামান বলেন, ‘আমি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের সামন থেকে আমাকে জোর করে অটোভ্যানে তুলে নিয়ে আসেন। এসে দেখি গাছ বাগানে আমার স্ত্রীকে মারধর করে গাছে সাথে বেঁধে রেখেছে। আমার সামনেও কয়েকজন মারধর করেন। এ সময় আমাকেও মারধর করতে বলেন সবজি খেতের মালিক ফরহাদ হোসেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে দুইটা চড় মারেন ও আমাকে বাঁধার জন্য এগিয়ে আসেন তার লোকজন। এতে নিরূপায় হয়ে আমার স্ত্রীকে কয়েকটি আঘাত করি।

 

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছা নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে সাংবাদিকদের গুরুত্বপুর্ণ মতবিনিময়

এ ঘটনাটি নিয়ে কথা হয় সবজি খেতের মালিক ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ছালেহা নামের ওই নারী প্রতিনিয়ত এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটান। মঙ্গলবার আমার খেত থেকে করলা (সবজি) চুরির সময় হাতেনাতে তাকে আটক করা হয়। পরে দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের সামনে থেকে ডেকে নিয়ে আসা হয়। এ সময় বলা হয়, তুই এখন তোর বউয়ের বিচার করে নিয়ে যা। পরে ওই নারীর স্বামী তাকে মারধর করে নিয়ে যান।

 

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী জানান, ওই ঘটনায় সাতজনের নামে মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।