বায়েজিদে দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে লড়ছে শিশু।
চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে ঘটে যাওয়া এই সহিংসতায় মো. রাজু নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, দুই পক্ষের এই লড়াইয়ের মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে রৌফাবাদ শহীদ মিনার এলাকায় হঠাৎ দুটি পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। মুহূর্তের মধ্যে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোলাগুলির একপর্যায়ে মো. রাজু নামের ওই যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
সহিংসতার এই ঘটনায় সবচাইতে মর্মান্তিক শিকার হয়েছে রেশমি আক্তার (১১) নামে এক স্কুলছাত্রী। সে স্থানীয় রিয়াজ আহমেদের মেয়ে। রেশমির ভাই ফয়সাল আহমেদ জানান, রাতে দোকানে সওদা করতে বের হয়েছিল রেশমি। ঠিক সেই সময় সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া একটি গুলি সরাসরি তার চোখে এসে লাগে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
“রৌফাবাদ এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
এই ঘটনার পর থেকে রৌফাবাদ ও তৎসংলগ্ন শহীদ মিনার এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।




















