Dhaka ০২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছার জোয়ার বিজয়নগর সীমান্তে ৯৭৫০ পিস ভারতীয় ইয়াবা উদ্ধার খানসামার বোর্ডেরহাটে সুদখোরদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন মায়ের জানাজায় বাঁধা-পুলিশের উপস্থিতি তে মুক্তি যশোর সীমান্তে চোরাচালানী মালামাল জব্দ অপরাধীর কোনো দল বা গ্রুপ নেই, কাউকেই ছাড় নয়”: কোতোয়ালি ওসি সাতক্ষীরায় ঐতিহ্যের সাক্ষী মৃত জামগাছ, দুর্ঘটনার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন পৌরবাসী সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ‘পুশইন’ ঠেকাতে বিজিবি’র টহল জোরদার কলারোয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, সমস্যা সমাধানের আশ্বাস

বেড়া ক্লু লেস হত্যা মামলার মূল রহস্য উন্মোচন ও তিন আসামি গ্রেফতার

বেড়া উপজেলায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধারকৃত গলা কাটা অটোরিকশা চালক ফজলুল হক (৪৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে বেড়া মডেল থানা পুলিশ। নিহতের স্ত্রী মোছাঃ জোছনা খাতুন তার সাবেক স্বামী ও সাবেক স্বামীর সহযোগীকে নিয়ে পরকীয়া ও পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

অদ্য সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে বিশেষ অভিযানে মামলার প্রধান আসামীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নিহতের স্ত্রী মোছাঃ জোছনা খাতুন (৪৪), জোছনার সাবেক স্বামী ও মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ মানিক (৪৭) এবং মানিকের সহযোগী মোঃ খোকন প্রামানিক (৪২)।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ফজলুল হক। পরদিন সকালে বেড়া থানাধীন বড় বরশিলা এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার গলাকাটা মরদেহ এবং পাশেই নিহতের চালিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বেড়া থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার (মামলা নং-০৩) সুত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ  বীরগঞ্জে শালবাগান থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ লালবুর রহমান পিপিএম জানান, প্রায় ২০-২৫ বছর আগে ফজলুল হকের সাথে জোছনা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে। তবে কয়েক বছর আগে জোছনা লটারির টিকিট বিক্রির সময় মানিকের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং ফজলুলকে তালাক দিয়ে মানিককে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে ২টি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মানিককে তালাক দিয়ে পুনরায় ফজলুলের সংসারে ফিরে আসেন জোছনা।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মানিক বিভিন্ন সময় ফজলুলকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ফজলুলের কাছে ফিরে আসলেও জোছনা মোবাইল ফোনে গোপনে মানিকের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যায়। সম্প্রতি এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলে জোছনা ও মানিক মিলে ফজলুলকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনায় যুক্ত হয় ফজলুলের সাথে পূর্বের শত্রুতা থাকা মানিকের বন্ধু খোকন।

আরও পড়ুনঃ  খানসামার বোর্ডেরহাটে সুদখোরদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৯ মার্চ রাতে নির্জন বিলের মাঠে জোছনা ও খোকনের সহায়তায় মানিক ধারালো লোহার দা দিয়ে ফজলুলের গলায় কোপ দিয়ে তাকে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ ধানক্ষেতে ফেলে তারা পালিয়ে যায়।
বেড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শ্রী নিতাই চন্দ্র সরকার জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ে এই ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতারকৃত তিন আসামীকে আজ সোমবার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  যশোরের মণিরামপুরে বৃদ্ধের জমি দখলচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

 

এত স্বল্প সময়ের মধ্যে ক্লু-লেস এই দুর্ধর্ষ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারের জন্য বেড়া থানা ওসি শ্রী নিতাই চন্দ্র সরকার ও তদন্ত অফিসার লালবুর রহমান সহ বেড়া থানা পুলিশের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার জন্য সাধারণ মানুষের প্রশংসায় প্রশংসিত হচ্ছে। আগামীতেও পুলিশের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকবে, এটাই সবার প্রত্যাশা।

জনপ্রিয় পোস্ট

সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা

বেড়া ক্লু লেস হত্যা মামলার মূল রহস্য উন্মোচন ও তিন আসামি গ্রেফতার

আপডেটের সময়: ০৯:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

বেড়া উপজেলায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধারকৃত গলা কাটা অটোরিকশা চালক ফজলুল হক (৪৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে বেড়া মডেল থানা পুলিশ। নিহতের স্ত্রী মোছাঃ জোছনা খাতুন তার সাবেক স্বামী ও সাবেক স্বামীর সহযোগীকে নিয়ে পরকীয়া ও পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

অদ্য সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে বিশেষ অভিযানে মামলার প্রধান আসামীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নিহতের স্ত্রী মোছাঃ জোছনা খাতুন (৪৪), জোছনার সাবেক স্বামী ও মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ মানিক (৪৭) এবং মানিকের সহযোগী মোঃ খোকন প্রামানিক (৪২)।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ফজলুল হক। পরদিন সকালে বেড়া থানাধীন বড় বরশিলা এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার গলাকাটা মরদেহ এবং পাশেই নিহতের চালিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বেড়া থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার (মামলা নং-০৩) সুত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ  খানসামার বোর্ডেরহাটে সুদখোরদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ লালবুর রহমান পিপিএম জানান, প্রায় ২০-২৫ বছর আগে ফজলুল হকের সাথে জোছনা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে। তবে কয়েক বছর আগে জোছনা লটারির টিকিট বিক্রির সময় মানিকের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং ফজলুলকে তালাক দিয়ে মানিককে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে ২টি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মানিককে তালাক দিয়ে পুনরায় ফজলুলের সংসারে ফিরে আসেন জোছনা।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মানিক বিভিন্ন সময় ফজলুলকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ফজলুলের কাছে ফিরে আসলেও জোছনা মোবাইল ফোনে গোপনে মানিকের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যায়। সম্প্রতি এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলে জোছনা ও মানিক মিলে ফজলুলকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনায় যুক্ত হয় ফজলুলের সাথে পূর্বের শত্রুতা থাকা মানিকের বন্ধু খোকন।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির দোয়া মাহফিল ও খাদ্য বিতরণ

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৯ মার্চ রাতে নির্জন বিলের মাঠে জোছনা ও খোকনের সহায়তায় মানিক ধারালো লোহার দা দিয়ে ফজলুলের গলায় কোপ দিয়ে তাকে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ ধানক্ষেতে ফেলে তারা পালিয়ে যায়।
বেড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শ্রী নিতাই চন্দ্র সরকার জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ে এই ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতারকৃত তিন আসামীকে আজ সোমবার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রশাসনের অভিযানে ৬ হাউসবোট কে জরিমানা ১৪টি সাউন্ড বক্স জব্দ।

 

এত স্বল্প সময়ের মধ্যে ক্লু-লেস এই দুর্ধর্ষ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারের জন্য বেড়া থানা ওসি শ্রী নিতাই চন্দ্র সরকার ও তদন্ত অফিসার লালবুর রহমান সহ বেড়া থানা পুলিশের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার জন্য সাধারণ মানুষের প্রশংসায় প্রশংসিত হচ্ছে। আগামীতেও পুলিশের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকবে, এটাই সবার প্রত্যাশা।