Dhaka ০২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বেনাপোল পৌরবাসীর উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরে বিএনপির নির্বাচনী মতবিনিময় সভা কুড়িগ্রামে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬-এর উদ্বোধন টুঙ্গিপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ,পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু গোপালগঞ্জের ৬ জনকে অবৈধ ভাবে ভারতে যাওয়ার পথে কালিগঞ্জে আটক  গোপালগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ নারী কারবারি আটক বিমানবন্দর এলাকায় থাকতেন চালক সেজে, গোপালগঞ্জে অস্ত্র ও নগদ টাকাসহ গ্রেপ্তার ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য :- বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের নানা ভাই বাহিনীর ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ সাতক্ষীরায় এক বিদ্যালয়ের ১৩ ছাত্রীর গোপনে বাল্যবিয়ে, ফেরানোর উদ্যোগ

বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতি ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, অনিয়মের অভিযোগে উদ্বেগ

বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতি ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, অনিয়মের অভিযোগে উদ্বেগ

 

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউস-এ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা, কিন্তু অর্থবছর শেষে আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় কমেছে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ২ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন পণ্য। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০৯ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আমদানি কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি এবং শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তন রাজস্ব ঘাটতির অন্যতম কারণ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওজনস্কেলে কারচুপি, মিথ্যা ঘোষণা, ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানি, শেড থেকে পণ্য আত্মসাৎ এবং ভুয়া এন্ট্রি পাস ব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুনঃ  বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের নানা ভাই বাহিনীর ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ

জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত শুল্ক ফাঁকি, পণ্য আত্মসাৎ ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামাসহ ৫৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই সময়ে নয়টি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কয়েকজন কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে— একই ভারতীয় খালি ট্রাকের দুই ধরনের ওজন রেকর্ড, বেকিং পাউডারের ঘোষণার আড়ালে কোটি টাকার শাড়ি ও থ্রি-পিস আত্মসাৎ, ইরেজার ও পেনসিল ঘোষণার আড়ালে উচ্চ শুল্কের পণ্য জব্দ এবং কেমিক্যাল জোন থেকে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। এসব ঘটনায় কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক তদন্ত শুরু করেছে।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জের যুবকের প্রেমে টানে কুড়িগ্রামের মুসলিম তরুণী মহারাজপুরে

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির নেতারা বলছেন, শেডের ভেতরে পণ্য আত্মসাৎ বা শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটলে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের ভূমিকাও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা না নিলে একই ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে না।

এ বিষয়ে শামীম হোসেন বলেন, “ওজনযন্ত্রে কারচুপি বা অন্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জের যুবকের প্রেমে টানে কুড়িগ্রামের মুসলিম তরুণী মহারাজপুরে

ফাইজুর রহমান বলেন, “সরকারের রাজস্ব সুরক্ষায় কাস্টমস সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। ওজনস্কেলে কারচুপি, মিথ্যা ঘোষণা বা শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তে প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, বেনাপোল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আহরণ কেন্দ্র। তাই রাজস্ব ঘাটতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

জনপ্রিয় পোস্ট

বেনাপোল পৌরবাসীর উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার

বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতি ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, অনিয়মের অভিযোগে উদ্বেগ

আপডেটের সময়: ১০:৪৮:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতি ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, অনিয়মের অভিযোগে উদ্বেগ

 

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউস-এ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা, কিন্তু অর্থবছর শেষে আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় কমেছে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ২ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন পণ্য। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০৯ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আমদানি কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি এবং শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তন রাজস্ব ঘাটতির অন্যতম কারণ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওজনস্কেলে কারচুপি, মিথ্যা ঘোষণা, ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানি, শেড থেকে পণ্য আত্মসাৎ এবং ভুয়া এন্ট্রি পাস ব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জের যুবকের প্রেমে টানে কুড়িগ্রামের মুসলিম তরুণী মহারাজপুরে

জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত শুল্ক ফাঁকি, পণ্য আত্মসাৎ ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামাসহ ৫৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই সময়ে নয়টি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কয়েকজন কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে— একই ভারতীয় খালি ট্রাকের দুই ধরনের ওজন রেকর্ড, বেকিং পাউডারের ঘোষণার আড়ালে কোটি টাকার শাড়ি ও থ্রি-পিস আত্মসাৎ, ইরেজার ও পেনসিল ঘোষণার আড়ালে উচ্চ শুল্কের পণ্য জব্দ এবং কেমিক্যাল জোন থেকে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। এসব ঘটনায় কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক তদন্ত শুরু করেছে।

আরও পড়ুনঃ  বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের নানা ভাই বাহিনীর ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির নেতারা বলছেন, শেডের ভেতরে পণ্য আত্মসাৎ বা শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটলে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের ভূমিকাও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা না নিলে একই ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে না।

এ বিষয়ে শামীম হোসেন বলেন, “ওজনযন্ত্রে কারচুপি বা অন্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের নানা ভাই বাহিনীর ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ

ফাইজুর রহমান বলেন, “সরকারের রাজস্ব সুরক্ষায় কাস্টমস সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। ওজনস্কেলে কারচুপি, মিথ্যা ঘোষণা বা শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তে প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, বেনাপোল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আহরণ কেন্দ্র। তাই রাজস্ব ঘাটতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।