আপডেটের সময়:
০৮:৩৩:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
17
পাইকগাছার ১০ ইউনিয়ন ও পৌরসভাজুড়ে মাদকের থাবা
হাট-বাজারকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট, ইয়াবা-গাঁজা-ফেনসিডিলে বিপথে তরুণ সমাজ,পুলিশ ছাড়া সবাই জানে পাইকগাছায় মদক কোথায় কোথায় বিক্রি হয়।
খুলনার উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছা বর্তমানে ভয়াবহ মাদক আগ্রাসনের মুখে পড়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন অলিগলি, হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড, নদীঘাট ও নির্জন এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য এখন প্রকাশ্যেই কেনাবেচা হচ্ছে।
চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাজারের আড়াল ও নির্জন স্থানগুলো মাদক কারবারিদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাইকগাছার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই কোনো না কোনো হাট-বাজার বা গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাদক বেচাকেনার অভিযোগ রয়েছে। ফলে দিন দিন ঝুঁকির মুখে পড়ছে কিশোর ও তরুণ সমাজ। পাইকগাছা পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষায় এটি এখন অনেকটাই “ওপেন সিক্রেট”। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে জিরো পয়েন্ট, বাসস্ট্যান্ড এলাকা, রিস্কির মোড় (সরকারি কলেজের পেছন), পুরাতন পরিবহন কাউন্টার, , শিববাটি ব্রিজের নিচ, শিবসা ঘাট এবং ওয়াপদা পাড়া। ইব্রাহিম পার্ক এর পিছনে
কপিলমুনি ইউনিয়ন: উপজেলার বৃহত্তম বাণিজ্যিক কেন্দ্র কপিলমুনিতে মাদকের বিস্তার সবচেয়ে উদ্বেগজনক বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাছ কাঁটা এলাকা, নাছিরপুর নিকারীপাড়া, কালীবাড়ী ঘাট, কপোতক্ষ নদীর পাড়, প্রতাপকাটী ও ইউনুছ মোড় এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজার বেচাকেনার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি পুলিশের অভিযানে এখান থেকে ইয়াবাসহ কয়েকজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
চাঁদখালী গরুর হাট এলাকাকে কেন্দ্র করে মাদক সিন্ডিকেটের আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে হাসান ওরফে কিং নামে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
গড়ুইখালী ইউনিয়ন: আল-আমীন মোড় এলাকায় মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় কয়েকজন স্থানীয় যুবক হামলার শিকার হন। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারি হৃদয় গাইনকে পরে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ও গড়ইখালী শান্তা লঞ্চ ঘাট এলাকায় চালনা হতে মাদক এর চালান আসে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, সোলাদানা ইউনিয়ন: সোলাদানা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গাঁজাসহ একাধিক মাদক বিক্রেতাকে আটক ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এরপরও স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারকেন্দ্রিক মাদক বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
পাইকগাছা মটর স্টান্ড, শিশুতোলা , সোলাদানা বাজার, চারবান্দা স্কুলের পিছনে হাত বাড়াইলেই মাদক পাওয়া যায়, রাড়ুলী ইউনিয়ন: ভাটপাড়া এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে প্রায়ই গাঁজা ও অন্যান্য মাদকসহ কারবারিদের আটক করা হচ্ছে। এলাকাটি এখনও মাদক পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। তা-ছাড়া কাঠিপাড়ায় বাংলা মদ উৎপাদন কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত।
হরিঢালী ইউনিয়ন: নগরশ্রীরামপুর ও মৌখালী বাজার হয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে মাদক প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ইয়াবাসহ এক নারী মাদক কারবারিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গদাইপুর ইউনিয়ন: স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের কয়েকটি বাজার ও নির্জন স্থানে সন্ধ্যার পর মাদক কেনাবেচা চলে। যেমন- বলিয়া ব্রিজের নিচে টাম্পা বলে মাদক এর নাম পরিচিত হয়ে গেছে। বলিয়া ফার্ম, চৌ রাস্তার মোড়, পুরাইকাটী, ঘোষাল বাজার, মানিকতলা বাজার মাদক বেচা কেনার মেইন স্পার্ট । স্থানীয়রা প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
লতা ইউনিয়ন: নদীতীরবর্তী এলাকা ও ওয়াপদা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন কয়েকটি নির্জন স্থানে সন্ধ্যার পর ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ছোট ছোট বাজারের কিছু চায়ের দোকানকেও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। দেলুটি ইউনিয়ন: প্রত্যন্ত গ্রামীণ সড়ক, নদীপথ ও বাজারকেন্দ্রিক এলাকায় মাদক কারবারিরা সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা নিয়মিত অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।
লস্কর ইউনিয়ন: লস্কর ইউনিয়নের বিভিন্ন ছোট বাজার ও নদী তীরবর্তী এলাকায় চায়ের দোকানের আড়ালে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এমনকি স্থানীয়দের মতে পাইকগাছার 10 ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে মাদক রাজ্য বলা হয় লস্কর ইউনিয়নকে। মন্টির ক্লাব এর পিছনে, খড়িয়া – লস্কর নির্মানাধীন ব্রিজ, গজালিয়া চৌরস্তার মোড়, শিবাড়ী পার্কের সামনে, লক্ষীখোলা কলেজ এর পাশে মাদক এর রাজ্য বলা হয়। সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ে বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদকের সহজলভ্যতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিশোর ও তরুণ সমাজ। অনেক পরিবারে অশান্তি বাড়ছে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে এবং বিভিন্ন অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পাইকগাছা থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত ঝটিকা অভিযান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল উদ্ধার এবং একাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা হলেও অভিযোগ রয়েছে, শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে মাদক বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয়দের মতে, শুধু পুলিশি অভিযান দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।
উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রতিটি হাট-বাজারে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে পাইকগাছাকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে।