রামিসার বিচার কি আবারও দীর্ঘ অপেক্ষার গল্প হবে?
গত দুই দিন ধরে রামিসা হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে ছিলাম। মানুষের চোখের জল, ক্ষোভ আর প্রতিবাদ দেখে মনে হয়েছিল—হয়তো এবার অন্তত একটি পরিবার ন্যায়বিচার পাবে। কিন্তু সময় যত যাচ্ছে, ততই ভয় হচ্ছে—রামিসার বাবা-মাও কি শেষ পর্যন্ত সেই দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকায় হারিয়ে যাবেন?
বাংলাদেশে এর আগেও অসংখ্য নৃশংস ঘটনার বিচার বছরের পর বছর ঝুলে থাকতে দেখেছি। কোথাও লাখো মানুষের প্রতিবাদ, কোথাও খুনির স্বীকারোক্তি—তবুও বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি সাধারণ মানুষের মনে হতাশা তৈরি করে। এখন বলা হচ্ছে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা হবে, এরপর আবার ঈদের দীর্ঘ ছুটি। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে—এত গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলায় দ্রুত ও দৃশ্যমান অগ্রগতি কি সম্ভব নয়?
শুধু রামিসা নয়, শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যার বিচার নিয়েও দেশ-বিদেশে অনেক মানুষ সোচ্চার হয়েছিল। কিন্তু আজও সেই বিচার কার্যকর না হওয়ায় মানুষের আস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে।
অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে বলতে হয়, আমরা সাধারণ মানুষ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যখন একটি নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে যায়, তখন শুধু একটি পরিবার নয়—পুরো দেশ আহত হয়।
আমরা প্রতিশোধ নয়, দ্রুত, স্বচ্ছ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। যেন ভবিষ্যতে আর কোনো বাবা-মাকে সন্তানের লাশ বুকে নিয়ে ন্যায়বিচারের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে না হয়।




















