Dhaka ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ রাজারহাটে অবৈধ মাছ শিকারে অভিযান, ৫০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, শুরু হচ্ছে ৭ দিনের বিশেষ অভিযান’ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস ইসলামের সঙ্গে নাগরিক অধিকার আন্দোলন, যশোরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ভিনিসিয়ুসের জন্য মোটা অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত আর্সেনাল! সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা পাবনায় সাড়ে ১৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১, মামলা দায়ের: স্বাস্থ্য মন্ত্রীর তালা হসপিটাল পরিদর্শন ডাক্তারকে বদলি ও নৈশ প্রহরী বরখাস্ত যশোরে বিজিবি’র অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক-১

রেকর্ডে ধান ৭২১ মেট্রিক টন, গুদামে আছে ১৯০: কুড়িগ্রামে দুদকের অভিযানে ফাঁস হলো খাদ্য গুদাম কেলেঙ্কারির চিত্র।

খাদ্য নিরাপত্তার সাথে জড়িত গুদামগুলোতে সংঘটিত ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন খাদ্য গুদামে গত ১১ জানুয়ারি সারা দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে কমিশন ৫২১ মেট্রিক টন ধানের বেমালুম অন্তর্ধান ও সাড়ে ৩৫ মেট্রিক টনের বেশি চালের ঘাটতি পেয়েছে। এছাড়াও মজুদকৃত বিপুল পরিমাণ চাল পোকায় ধরা ও মানবখাদ্যের অযোগ্য অবস্থায় পাওয়া গেছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক মোঃ সাবদারুল ইসলাম সরেজমিনে সাংবাদিকদের সামনে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিম্নমানের চাল ক্রয়, নতুন বস্তার পরিবর্তে পুরাতন বস্তা সংগ্রহ এবং গুদামের খাদ্যশস্য অন্যত্র বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে বিদেশী পিস্তলসহ সন্ত্রাসী আটক

অভিযানে কুড়িগ্রামের ৮টি গুদাম পরীক্ষা করে ৪টি গুদামে মোট ১,১৭৬ বস্তা চালের ঘাটতি ধরা পড়ে। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যায় ৭ নম্বর ধান গুদামে। সেখানে রেকর্ড অনুযায়ী ৭২১ মেট্রিক টন ধান থাকার কথা থাকলেও দুদক কর্মকর্তাদের গণনায় মিলেছে মাত্র ১৯০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ, ৫২১ মেট্রিক টন ধান কোনো প্রকার নথি বা গ্রহণযোগ্য দলিল ছাড়াই গুদাম থেকে উধাও হয়ে গেছে।

একটি চালের গুদাম পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সেখানকার বেশিরভাগ চালই পোকায় আক্রান্ত এবং মানুষের খাওয়ার জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চালের এই শোচনীয় অবস্থা স্বীকার করেছেন বলে জানান সাবদারুল ইসলাম।

আরও পড়ুনঃ  বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি'র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ

ধান কম থাকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুদককে জানান, তারা ‘অফিস আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে’ মিল মালিকদের কাছে ধান সরবরাহ করেছেন। কিন্তু এই সরবরাহের পক্ষে তারা কোনো রেজিস্টার, রেকর্ড বই বা প্রামাণিক দলিল দেখাতে ব্যর্থ হন। এ ঘটনায় খাদ্য শস্য হস্তান্তরের ক্ষেত্রে চরম দায়িত্বহীনতা ও আইনী প্রক্রিয়া উপেক্ষার ইঙ্গিত মিলেছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক বলেন, “খাদ্য গুদামে এই ধরনের অনিয়ম রাষ্ট্রীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। আমরা সংশ্লিষ্ট সকল রেকর্ড ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের জন্য সুপারিশ করবো।”

আরও পড়ুনঃ  গাইবান্ধায় বসুন্ধরা শুভ সংঘের সেলাই মেশিন বিতরণ

দুদক এই অভিযানের প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করবে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

খাদ্য ঘাটতি ও নিম্নমানের খাদ্য মজুদের এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, সাম্প্রতিক এ সময়ে রাষ্ট্রীয় গুদামের খাদ্য সংকট আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয় পোস্ট

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ

রেকর্ডে ধান ৭২১ মেট্রিক টন, গুদামে আছে ১৯০: কুড়িগ্রামে দুদকের অভিযানে ফাঁস হলো খাদ্য গুদাম কেলেঙ্কারির চিত্র।

আপডেটের সময়: ০২:৪৭:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

খাদ্য নিরাপত্তার সাথে জড়িত গুদামগুলোতে সংঘটিত ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন খাদ্য গুদামে গত ১১ জানুয়ারি সারা দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে কমিশন ৫২১ মেট্রিক টন ধানের বেমালুম অন্তর্ধান ও সাড়ে ৩৫ মেট্রিক টনের বেশি চালের ঘাটতি পেয়েছে। এছাড়াও মজুদকৃত বিপুল পরিমাণ চাল পোকায় ধরা ও মানবখাদ্যের অযোগ্য অবস্থায় পাওয়া গেছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক মোঃ সাবদারুল ইসলাম সরেজমিনে সাংবাদিকদের সামনে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিম্নমানের চাল ক্রয়, নতুন বস্তার পরিবর্তে পুরাতন বস্তা সংগ্রহ এবং গুদামের খাদ্যশস্য অন্যত্র বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  নওগাঁয় যুবক অপহরণ, নির্যাতন; ফাঁকা চেকে সই, স্ত্রীর কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ

অভিযানে কুড়িগ্রামের ৮টি গুদাম পরীক্ষা করে ৪টি গুদামে মোট ১,১৭৬ বস্তা চালের ঘাটতি ধরা পড়ে। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যায় ৭ নম্বর ধান গুদামে। সেখানে রেকর্ড অনুযায়ী ৭২১ মেট্রিক টন ধান থাকার কথা থাকলেও দুদক কর্মকর্তাদের গণনায় মিলেছে মাত্র ১৯০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ, ৫২১ মেট্রিক টন ধান কোনো প্রকার নথি বা গ্রহণযোগ্য দলিল ছাড়াই গুদাম থেকে উধাও হয়ে গেছে।

একটি চালের গুদাম পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সেখানকার বেশিরভাগ চালই পোকায় আক্রান্ত এবং মানুষের খাওয়ার জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চালের এই শোচনীয় অবস্থা স্বীকার করেছেন বলে জানান সাবদারুল ইসলাম।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে বিদেশী পিস্তলসহ সন্ত্রাসী আটক

ধান কম থাকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুদককে জানান, তারা ‘অফিস আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে’ মিল মালিকদের কাছে ধান সরবরাহ করেছেন। কিন্তু এই সরবরাহের পক্ষে তারা কোনো রেজিস্টার, রেকর্ড বই বা প্রামাণিক দলিল দেখাতে ব্যর্থ হন। এ ঘটনায় খাদ্য শস্য হস্তান্তরের ক্ষেত্রে চরম দায়িত্বহীনতা ও আইনী প্রক্রিয়া উপেক্ষার ইঙ্গিত মিলেছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক বলেন, “খাদ্য গুদামে এই ধরনের অনিয়ম রাষ্ট্রীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। আমরা সংশ্লিষ্ট সকল রেকর্ড ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের জন্য সুপারিশ করবো।”

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় ২ আসামীসহ সাড়ে ২৩ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

দুদক এই অভিযানের প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করবে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

খাদ্য ঘাটতি ও নিম্নমানের খাদ্য মজুদের এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, সাম্প্রতিক এ সময়ে রাষ্ট্রীয় গুদামের খাদ্য সংকট আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।