Dhaka ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

সঞ্জিব হত্যার মামলা দায়ের এজাহারভুক্ত এক আসামি গ্রেপ্তার

কালিগঞ্জে সঞ্জিব হত্যার মামলা দায়ের এজাহারভুক্ত এক আসামি গ্রেপ্তার

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের ঠেকরা-রহিমপুর গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী সঞ্জিব কুমার সরকার (৩৪) হত্যা মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে নেপাল চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ। এদিকে, মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত তাপস সরকার ওরফে ডালিম সরকারসহ অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। ঘটনার পর থেকে পরিবারে বিরাজ করছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

নিহতের বাবা গোপাল চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে বুধবার (১ জুলাই) রাতে কালিগঞ্জ থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১/১৪০। মামলাটি পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে। এজাহারে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যা এবং হত্যার পর আলামত গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন আনন্দ সরকার (৫০), তাপস সরকার ওরফে ডালিম সরকার (২৭), শাওন সরকার (১৯) এবং নেপাল চন্দ্র সরকার (৫২)। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে নেপাল চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা

থানা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় সঞ্জিব সরকার তার বাবার সঙ্গে মাছের ঘেরে পানি তুলতে যান। রাতের দিকে তার বাবা বাড়ি ফিরে এলেও সঞ্জিব ঘেরেই থেকে যান। পরদিন বুধবার (১ জুলাই) ভোরে গোপাল চন্দ্র সরকার ঘেরে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

 

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয় এবং ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহত সঞ্জিব সরকার গোপাল চন্দ্র সরকার ও মায়া রানী সরকারের ছেলে। তিনি পেশায় মাছের ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী প্রিয়া মণ্ডল এবং ১০ মাস বয়সী এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাছের ঘের ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিত ভাবে সঞ্জিব সরকারকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, নিহতের বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. আব্দুর রহিমের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

সঞ্জিব হত্যার মামলা দায়ের এজাহারভুক্ত এক আসামি গ্রেপ্তার

আপডেটের সময়: ০৮:৪৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

কালিগঞ্জে সঞ্জিব হত্যার মামলা দায়ের এজাহারভুক্ত এক আসামি গ্রেপ্তার

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের ঠেকরা-রহিমপুর গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী সঞ্জিব কুমার সরকার (৩৪) হত্যা মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে নেপাল চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ। এদিকে, মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত তাপস সরকার ওরফে ডালিম সরকারসহ অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। ঘটনার পর থেকে পরিবারে বিরাজ করছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

নিহতের বাবা গোপাল চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে বুধবার (১ জুলাই) রাতে কালিগঞ্জ থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১/১৪০। মামলাটি পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে। এজাহারে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যা এবং হত্যার পর আলামত গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন আনন্দ সরকার (৫০), তাপস সরকার ওরফে ডালিম সরকার (২৭), শাওন সরকার (১৯) এবং নেপাল চন্দ্র সরকার (৫২)। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে নেপাল চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

থানা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় সঞ্জিব সরকার তার বাবার সঙ্গে মাছের ঘেরে পানি তুলতে যান। রাতের দিকে তার বাবা বাড়ি ফিরে এলেও সঞ্জিব ঘেরেই থেকে যান। পরদিন বুধবার (১ জুলাই) ভোরে গোপাল চন্দ্র সরকার ঘেরে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

 

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয় এবং ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহত সঞ্জিব সরকার গোপাল চন্দ্র সরকার ও মায়া রানী সরকারের ছেলে। তিনি পেশায় মাছের ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী প্রিয়া মণ্ডল এবং ১০ মাস বয়সী এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাছের ঘের ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিত ভাবে সঞ্জিব সরকারকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, নিহতের বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. আব্দুর রহিমের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।