Dhaka ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না এলপিজি বিপাকে সিএনজিচালকরা

দিনাজপুরের হিলিতে সরকার নির্ধারিত নতুন মূল্যে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকার দাম বাড়িয়ে নতুন দর নির্ধারণ করলেও স্থানীয় বাজারে সেই দামে গ্যাস মিলছে না। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন এলপিজি চালিত সিএনজিচালকরা।

 

গত ২ এপ্রিল সরকার প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করে, যা সেদিন সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে বাস্তবে হিলির খুচরা বাজারে কোম্পানিভেদে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকায়।

 

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বলেই খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। অন্যদিকে ভোক্তাদের অভিযোগ, হঠাৎ করে প্রায় ৪০০ টাকা মূল্যবৃদ্ধি তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে।

 

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সিএনজিচালকরা। গ্যাসের দাম বাড়লেও যাত্রীভাড়া অপরিবর্তিত থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন। আগে যেখানে হিলি-বিরামপুর রুটে প্রতিদিন প্রায় ২৫টি সিএনজি চলাচল করত, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১০ থেকে ১৫টিতে।

 

সিএনজিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, যাত্রী সংখ্যা কম থাকার পাশাপাশি গ্যাসের অতিরিক্ত দামের কারণে আয়-রোজগার প্রায় বন্ধের পথে। আগে যে সিলিন্ডার ১ হাজার ৫০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ টাকায়, ফলে প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৪০০ টাকা বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

 

আরেক চালক খলিলুর রহমান জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশি দামে গ্যাস কিনে গাড়ি চালিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে প্রতি লিটার গ্যাস ৬২ টাকা থাকলেও এখন তা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভাড়া না বাড়ালে গাড়ি চালানো বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়মিত বাজার তদারকির মাধ্যমে মূল্য নিয়ন্ত্রণের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

 

সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের আশা, দ্রুত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সমাধান হবে এবং সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অন্যথায় হিলি অঞ্চলের পরিবহন খাতে বড় ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃত্রিম সংকট রোধে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না এলপিজি বিপাকে সিএনজিচালকরা

আপডেটের সময়: ০৫:২৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরের হিলিতে সরকার নির্ধারিত নতুন মূল্যে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকার দাম বাড়িয়ে নতুন দর নির্ধারণ করলেও স্থানীয় বাজারে সেই দামে গ্যাস মিলছে না। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন এলপিজি চালিত সিএনজিচালকরা।

 

গত ২ এপ্রিল সরকার প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করে, যা সেদিন সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে বাস্তবে হিলির খুচরা বাজারে কোম্পানিভেদে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকায়।

 

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বলেই খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। অন্যদিকে ভোক্তাদের অভিযোগ, হঠাৎ করে প্রায় ৪০০ টাকা মূল্যবৃদ্ধি তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে।

 

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সিএনজিচালকরা। গ্যাসের দাম বাড়লেও যাত্রীভাড়া অপরিবর্তিত থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন। আগে যেখানে হিলি-বিরামপুর রুটে প্রতিদিন প্রায় ২৫টি সিএনজি চলাচল করত, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১০ থেকে ১৫টিতে।

 

সিএনজিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, যাত্রী সংখ্যা কম থাকার পাশাপাশি গ্যাসের অতিরিক্ত দামের কারণে আয়-রোজগার প্রায় বন্ধের পথে। আগে যে সিলিন্ডার ১ হাজার ৫০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ টাকায়, ফলে প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৪০০ টাকা বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

 

আরেক চালক খলিলুর রহমান জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশি দামে গ্যাস কিনে গাড়ি চালিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে প্রতি লিটার গ্যাস ৬২ টাকা থাকলেও এখন তা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভাড়া না বাড়ালে গাড়ি চালানো বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়মিত বাজার তদারকির মাধ্যমে মূল্য নিয়ন্ত্রণের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

 

সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের আশা, দ্রুত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সমাধান হবে এবং সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অন্যথায় হিলি অঞ্চলের পরিবহন খাতে বড় ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃত্রিম সংকট রোধে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।