সাতক্ষীরার শ্বাশুড়ি হত্যাচেষ্টা মামলার একমাত্র আসামী ধরাছোঁয়ার বাইরে
সাতক্ষীরার দেবহাটায় শ্বাশুড়িকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার একমাত্র আসামী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। দেড় মাস আগে মামলা রেকর্ড হলেও আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছেন ভুক্তভোগী নার্গিস খাতুনের বৃদ্ধ পিতা-মাতা নুর ইসলাম সানা (৭৮) ও আদুরীনেছা (৭০)। অভিযোগ উঠেছে, মামলা তুলে নিতে আসামিপক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, জেলার কাশিপুর গ্রামের আইজুদ্দীন মোড়লের ছেলে আসাদুল ইসলাম (৩৮) গত ১ জানুয়ারি ইসলামি শরীয়ত মোতাবেক দেবহাটা উপজেলার নাজিরের ঘের গ্রামের নুর ইসলাম সানার মেয়ে নার্গিস খাতুন (৩৬)-কে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের খাদিজা খাতুন নামে একটি কন্যা সন্তান এবং ঘটনার সময় নার্গিস ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
জানা গেছে- ঘটনার আগের দিন অন্তঃস্বত্তা অবস্থায় নার্গিসকে বেদম মারপিট করায় খবর পেয়ে তার বাবা-মা মেয়েকে নিতে গেলে আসাদুল তাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করে এবং মারধরের চেষ্টা চালিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।
পরে নার্গিসকে আবারো মারপিট করলে মেয়েকে সাথে নিয়ে সন্ধ্যায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে রাতে বাপের বাড়ী চলে আসলে ক্ষিপ্ত হয়ে আসাদুল রাতেই নাজিরের ঘের গ্রামে অর্থ্যাৎ শ্বশুর বাড়ীতে গিয়ে শ্বাশুড়ি আদুরিনেছাকে সামনে পেয়ে চেতনানাশক স্প্রে করে অজ্ঞান করে চাকু দ্বারা উপূর্যপুরি আঘাত করে চোখ, মুখমন্ডলসহ অন্যান্য স্থানে মারাত্বক জখম করে। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা চালায়। আদুরীনেছাকে প্রথমে সখীপুর হাসপাতালে পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় সাতক্ষীরা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়।
এই বিষয়ে থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহন না করে আদালতে যাওয়ার কথা বলা হয়। পরে আদালতে মামলার আবেদন করা হলে বিজ্ঞ আদালত দেবহাটা থানার ওসিকে আদেশ দিলেও বিভিন্ন অজুহাতে ২০ দিন পরে গিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়। যার মামলা নং- সিআর ৮৭/২৬ (কোর্ট এফআইআর নির্দেশে) ধারা ৪৪৭/৩২৩/৩২৮/৩২৬/৩২৫।
এদিকে মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ দেড় মাস পার হলেও একমাত্র আসামী আসাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো তিনি বাইরে থেকে ভুক্তভোগী নার্গিস খাতুন ও তার পিতা নুর ইসলাম সানাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
আরও জানা যায়, ঘটনার সময় অন্তঃসত্ত্বা থাকা নার্গিস খাতুন পরবর্তীতে একটি সন্তানের জন্ম দিলেও ওই সন্তানের কোনো খোঁজখবর নেয়নি আসামী। বর্তমানে শিশুটির বয়স প্রায় দেড় মাস।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এসআই তুহিন বাওয়ালী দেবহাটা থানা থেকে বদলি হওয়ায় তদন্তে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল আলিম বলেন, মামলায় একজন আসামী এবং তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। আসামী হুমকি দিলে বাদীকে আমার কাছে পাঠালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, আসামী আসাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী নার্গিস খাতুনের পিতা নুর ইসলাম সানা বলেন, আমরা জীবনের ভয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। আমার স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা করেছে, এখন আমাদেরও মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। মামলা করার পরও দেড় মাস পার হয়ে গেল,
কিন্তু আসামী গ্রেপ্তার হলো না। আমরা প্রশাসনের কাছে আমাদের নিরাপত্তা ও আসামীর দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানাচ্ছি।




















