স্বাস্থ্যসেবায় স্বয়ংসম্পূর্ণ উত্তরখান-দক্ষিণখান: মিটছে দীর্ঘদিনের উত্তরা নির্ভরতা ।
আধুনিক যন্ত্রপাতি আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতিতে উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকা এখন স্বাস্থ্যসেবায় হয়ে উঠেছে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এলাকার পাড়া-মহল্লায় মানসম্মত ক্লিনিক ও ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ‘উত্তরা নির্ভরতা’ এখন অনেকটাই শেষ।
এক সময় সামান্য প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা কিংবা বিশেষজ্ঞ পরামর্শের জন্য এই এলাকার মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট ঠেলে উত্তরা আজমপুর কিংবা রাজলক্ষ্মী যেতে হতো। বর্তমানে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন; হৃদরোগ, শিশু রোগ ও গাইনিসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এখন নিয়মিত এই এলাকার চেম্বারগুলোতে বসছেন। বাড়ির পাশেই ২৪ ঘণ্টা ইমার্জেন্সি সার্ভিস, উন্নত ল্যাব সুবিধা এবং সুলভ মূল্যে প্যাথলজি সেবা পাওয়ায় সময় ও অর্থ দুই-ই সাশ্রয় হচ্ছে বাসিন্দাদের। এতে বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-আয়ের মানুষের চিকিৎসা পাওয়া অনেক সহজ হয়ে উঠেছে।
এলাকার একজন সাধারণ বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে গভীর রাতে বা জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে নিয়ে মূল শহরে পৌঁছানো ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। রাস্তার যানজট ও দূরত্বের কারণে অনেক সময় রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ত। তিনি তার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আগে সামান্য সমস্যার জন্যও রিকশা নিয়ে উত্তরা দৌড়াতে হতো, ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে বসে থাকাই ছিল বড় কষ্ট। এখন ঘরের কাছেই ভালো ডাক্তার আর আধুনিক টেস্টের সুবিধা হওয়ায় সেই দুশ্চিন্তা অনেক কমেছে।”
আবার দক্ষিণখান এলাকার এক গৃহিণী বলেন, “আগে গাইনি ডাক্তার দেখাইতে উত্তরা গিয়া সিরিয়াল দিয়া সারাদিন বইসা থাকতাম। এখন ওই বড় হাসপাতালের ডাক্তাররাই এই এলাকায় চেম্বার করেন। বাসার কাছে হওয়াতে যাতায়াত খরচ যেমন বাঁচছে, ক্লিনিকে ভিড় কম থাকায় ডাক্তারকেও সময় নিয়ে সব বলা যায়।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে এই স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ এবং সেবার মানোন্নয়ন জরুরি মুহূর্তে সংকটাপন্ন রোগীর জীবন বাঁচাতে বিশাল ভূমিকা রাখছে। তারা মনে করেন, পরিকল্পিত রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে এবং সরকারি তদারকি বৃদ্ধি পেলে এই দুই এলাকা ভবিষ্যতে উন্নত নাগরিক সুবিধার এক অনন্য মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
স্বাস্থ্যসেবায় স্বয়ংসম্পূর্ণ উত্তরখান-দক্ষিণখান: মিটছে দীর্ঘদিনের উত্তরা নির্ভরতা
























