Dhaka ০৭:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালিগঞ্জে মৎস্য ঘের নিয়ে বিরোধ দখলের হুমকির অভিযোগ

কালিগঞ্জে মৎস্য ঘের নিয়ে বিরোধ দখলের হুমকির অভিযোগ

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের তেলীখালী মৌজায় প্রায় ১৯ বিঘা মৎস্য ঘেরের জমি নিয়ে মালিকানা, দখল ও নামজারি (মিউটেশন) সংক্রান্ত বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একদিকে বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমি জবরদখলের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন জমির মালিক, অন্যদিকে একই সম্পত্তি নিয়ে চলমান আদালতের মামলা নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত নামজারি কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন মামলার এক পক্ষ।

সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১২ টার সময়ে সরেজমিনে গিয়ে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার তেলীখালী মৌজার জে.এল নং-১৩৯-এর আওতাধীন সিএস খতিয়ান নং-১৪২, এসএ খতিয়ান নং-৫২৭, এসএ দাগ নং-৬৪৭, বিএস খতিয়ান নং-৭৮৯, ৭২৫, ৭৯৬ ও ১৪৮০ এবং বিএস/এফআরএস দাগ নং-১৩৬৫-এর মোট ৭ দশমিক ৯২ একর জমির মধ্যে ২০২২ সালে বৈধভাবে ৬ দশমিক ৩০ একর জমি ক্রয় করেন মোছা. সালমা বেগম, মো. আবু জাফর গাজী, গোলাম রব্বানী, মোহর আলী গাজী ও আসাদুর রহমান।

জমির মালিকদের দাবি, ক্রয়ের পর থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখল করে সেখানে মৎস্য চাষ পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী মহল কথিত কাগজপত্র তৈরি, প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জমিটি দখলের চেষ্টা করছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পীর গাজন গ্রামের মৃত সোলায়মান গাজীর ছেলে এবং কার্টুনিয়া রাজবাড়ী ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল ওহাব গাজী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে বৈধভাবে ক্রয়কৃত সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  নিজের ভুলেই কোতোয়ালি থানার সামনে আটক ফুলপুরের আ’লীগ নেতা

অন্যদিকে, একই জমি নিয়ে চলমান আইনি বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরে সাতহালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. গোলাম রব্বানী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর দেওয়ানী মামলা নং-৩৪৪/২২-এর ডিক্রির ভিত্তিতে তিনি সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দখল ও ভোগদখলে রয়েছেন।

তবে ওই ডিক্রির বিরুদ্ধে মো. আব্দুল ওহাব গাজী ২০২৩ সালের ২২ মে কালিগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে মামলা নং-১৬৪/২৩ দায়ের করেন। পরবর্তীতে রহিমা খাতুন একই ডিক্রি বাতিলের দাবিতে ২০২৪ সালে মামলা নং-৩৬৪/২৪ দায়ের করেন। উভয় মামলাই বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরা শ্রমিক ইউনিয়নের দুই শীর্ষ নেতা রেজাউল ও মজনু বহিষ্কার

মো. গোলাম রব্বানীর দাবি, বিচারাধীন অবস্থায় জমির নামজারি, ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তরের মতো কার্যক্রম সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে জটিলতা আরও বাড়তে পারে। তাই আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমির নামজারি কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

আবেদনে উল্লেখিত তপশিল অনুযায়ী, তেলীখালী মৌজার সিএস খতিয়ান নং-১৪২, এসএ খতিয়ান নং-৫২৭ এবং বিএস খতিয়ান নং-৭৮৯, ৭২৫, ৭৯৬ ও ১৪৮০-এর অন্তর্ভুক্ত এসএ দাগ নং-৬৪৭ ও বিএস/এফআরএস দাগ নং-১৩৬৫-এর মোট ৭ দশমিক ৯২ একর জমিকে কেন্দ্র করেই এ বিরোধের সূত্রপাত।

আরও পড়ুনঃ  এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাত বিষয়ে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গোলাম রব্বানী বলেন, একই জমি নিয়ে দুটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের আগে যদি নামজারি বা হস্তান্তরের মতো কার্যক্রম সম্পন্ন হয়, তাহলে পরবর্তীতে আইনি জটিলতা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।

জানা গেছে, এ বিষয়ে দাখিল করা আবেদনপত্রের অনুলিপি কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং রতনপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও পাঠানো হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত রায় এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর পরবর্তী কার্যক্রম নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ জমি বিরোধের দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তি হলে এলাকায় বিরাজমান অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার অবসান ঘটবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

কালিগঞ্জে মৎস্য ঘের নিয়ে বিরোধ দখলের হুমকির অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৭:১৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

কালিগঞ্জে মৎস্য ঘের নিয়ে বিরোধ দখলের হুমকির অভিযোগ

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের তেলীখালী মৌজায় প্রায় ১৯ বিঘা মৎস্য ঘেরের জমি নিয়ে মালিকানা, দখল ও নামজারি (মিউটেশন) সংক্রান্ত বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একদিকে বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমি জবরদখলের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন জমির মালিক, অন্যদিকে একই সম্পত্তি নিয়ে চলমান আদালতের মামলা নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত নামজারি কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন মামলার এক পক্ষ।

সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১২ টার সময়ে সরেজমিনে গিয়ে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার তেলীখালী মৌজার জে.এল নং-১৩৯-এর আওতাধীন সিএস খতিয়ান নং-১৪২, এসএ খতিয়ান নং-৫২৭, এসএ দাগ নং-৬৪৭, বিএস খতিয়ান নং-৭৮৯, ৭২৫, ৭৯৬ ও ১৪৮০ এবং বিএস/এফআরএস দাগ নং-১৩৬৫-এর মোট ৭ দশমিক ৯২ একর জমির মধ্যে ২০২২ সালে বৈধভাবে ৬ দশমিক ৩০ একর জমি ক্রয় করেন মোছা. সালমা বেগম, মো. আবু জাফর গাজী, গোলাম রব্বানী, মোহর আলী গাজী ও আসাদুর রহমান।

জমির মালিকদের দাবি, ক্রয়ের পর থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখল করে সেখানে মৎস্য চাষ পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী মহল কথিত কাগজপত্র তৈরি, প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জমিটি দখলের চেষ্টা করছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পীর গাজন গ্রামের মৃত সোলায়মান গাজীর ছেলে এবং কার্টুনিয়া রাজবাড়ী ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল ওহাব গাজী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে বৈধভাবে ক্রয়কৃত সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কলারোয়ায় চলছে প্রভাবশালীদের ভবন নির্মাণ

অন্যদিকে, একই জমি নিয়ে চলমান আইনি বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরে সাতহালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. গোলাম রব্বানী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর দেওয়ানী মামলা নং-৩৪৪/২২-এর ডিক্রির ভিত্তিতে তিনি সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দখল ও ভোগদখলে রয়েছেন।

তবে ওই ডিক্রির বিরুদ্ধে মো. আব্দুল ওহাব গাজী ২০২৩ সালের ২২ মে কালিগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে মামলা নং-১৬৪/২৩ দায়ের করেন। পরবর্তীতে রহিমা খাতুন একই ডিক্রি বাতিলের দাবিতে ২০২৪ সালে মামলা নং-৩৬৪/২৪ দায়ের করেন। উভয় মামলাই বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বেনাপোলে বাংলা টিভির সাংবাদিকের ওপর হামলা

মো. গোলাম রব্বানীর দাবি, বিচারাধীন অবস্থায় জমির নামজারি, ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তরের মতো কার্যক্রম সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে জটিলতা আরও বাড়তে পারে। তাই আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমির নামজারি কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

আবেদনে উল্লেখিত তপশিল অনুযায়ী, তেলীখালী মৌজার সিএস খতিয়ান নং-১৪২, এসএ খতিয়ান নং-৫২৭ এবং বিএস খতিয়ান নং-৭৮৯, ৭২৫, ৭৯৬ ও ১৪৮০-এর অন্তর্ভুক্ত এসএ দাগ নং-৬৪৭ ও বিএস/এফআরএস দাগ নং-১৩৬৫-এর মোট ৭ দশমিক ৯২ একর জমিকে কেন্দ্র করেই এ বিরোধের সূত্রপাত।

আরও পড়ুনঃ  গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গোলাম রব্বানী বলেন, একই জমি নিয়ে দুটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের আগে যদি নামজারি বা হস্তান্তরের মতো কার্যক্রম সম্পন্ন হয়, তাহলে পরবর্তীতে আইনি জটিলতা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।

জানা গেছে, এ বিষয়ে দাখিল করা আবেদনপত্রের অনুলিপি কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং রতনপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও পাঠানো হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত রায় এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর পরবর্তী কার্যক্রম নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ জমি বিরোধের দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তি হলে এলাকায় বিরাজমান অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার অবসান ঘটবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।