Dhaka ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

কালিগঞ্জে মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিমের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে তোলপাড়

কালিগঞ্জে মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিমের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে তোলপাড়

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের একটি মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিমের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে নিয়ে অনৈতিক আচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর নিরাপত্তা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে গত দুই দিনে অন্তত ২৬ জন ছাত্রীকে মাদ্রাসা থেকে নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছেন তাদের অভিভাবকরা।

 

ঘটনাকে ঘিরে অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার ধলবাড়িয়া হাটখোলা সংলগ্ন বাগান এলাকায় অবস্থিত ধলবাড়িয়া দারুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে একজন মুহতামিম, চারজন আলেমা শিক্ষিকা এবং বিভিন্ন বয়সী মোট ৫১ জন ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব)

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৫ জুন গভীর রাতে মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদ এক ছাত্রীকে ডেকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। এ সময় তার বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনাটি কয়েকজন ছাত্রী প্রত্যক্ষ করার পর বিষয়টি দ্রুত মাদ্রাসার ভেতরে এবং পরে অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং একের পর এক তারা সন্তানদের মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে যেতে শুরু করেন।

স্থানীয় একাধিক অভিভাবক, যার মধ্যে আল মামুন ও আবুল হোসেন রয়েছেন, দাবি করেন ঘটনার পর থেকে তারা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। একই ভাবে স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, কাইয়ুমসহ আরও অনেকে অভিযোগ করেন, মাদ্রাসাটিকে ঘিরে অতীতেও নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার গুঞ্জন শোনা গেলেও সেগুলো কখনো প্রকাশ্যে আসেনি। সাম্প্রতিক অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রব জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্তের পক্ষে ও বিপক্ষে বিভিন্ন মতামত উঠে আসে। তবে অভিযোগ প্রকাশের পর প্রায় ২৬ থেকে ৩০ জন ছাত্রীকে তাদের অভিভাবকরা মাদ্রাসা থেকে নিয়ে গেছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদ সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে, ৫১ জন ছাত্রীর মধ্যে ২৬ জন গত দুই দিনে মাদ্রাসা ছেড়ে চলে গেছে। তবে তিনি বলেন, মাদ্রাসার যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকটি বিবেচনা করে সংবাদ প্রকাশ করবেন।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় 'প্রেরণা' এনজিও'র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

কালিগঞ্জে মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিমের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে তোলপাড়

আপডেটের সময়: ০৮:৪৩:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

কালিগঞ্জে মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিমের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে তোলপাড়

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের একটি মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিমের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে নিয়ে অনৈতিক আচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর নিরাপত্তা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে গত দুই দিনে অন্তত ২৬ জন ছাত্রীকে মাদ্রাসা থেকে নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছেন তাদের অভিভাবকরা।

 

ঘটনাকে ঘিরে অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার ধলবাড়িয়া হাটখোলা সংলগ্ন বাগান এলাকায় অবস্থিত ধলবাড়িয়া দারুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে একজন মুহতামিম, চারজন আলেমা শিক্ষিকা এবং বিভিন্ন বয়সী মোট ৫১ জন ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৫ জুন গভীর রাতে মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদ এক ছাত্রীকে ডেকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। এ সময় তার বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনাটি কয়েকজন ছাত্রী প্রত্যক্ষ করার পর বিষয়টি দ্রুত মাদ্রাসার ভেতরে এবং পরে অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং একের পর এক তারা সন্তানদের মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে যেতে শুরু করেন।

স্থানীয় একাধিক অভিভাবক, যার মধ্যে আল মামুন ও আবুল হোসেন রয়েছেন, দাবি করেন ঘটনার পর থেকে তারা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। একই ভাবে স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, কাইয়ুমসহ আরও অনেকে অভিযোগ করেন, মাদ্রাসাটিকে ঘিরে অতীতেও নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার গুঞ্জন শোনা গেলেও সেগুলো কখনো প্রকাশ্যে আসেনি। সাম্প্রতিক অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় পরিবার কেন্দ্রিক বালিকা মাদ্রাসার কমিটি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রব জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্তের পক্ষে ও বিপক্ষে বিভিন্ন মতামত উঠে আসে। তবে অভিযোগ প্রকাশের পর প্রায় ২৬ থেকে ৩০ জন ছাত্রীকে তাদের অভিভাবকরা মাদ্রাসা থেকে নিয়ে গেছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদ সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে, ৫১ জন ছাত্রীর মধ্যে ২৬ জন গত দুই দিনে মাদ্রাসা ছেড়ে চলে গেছে। তবে তিনি বলেন, মাদ্রাসার যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকটি বিবেচনা করে সংবাদ প্রকাশ করবেন।

আরও পড়ুনঃ  সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।