প্রাচীন স্থাপত্য ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের নিরব সাক্ষী কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার পুরাতন শিববাড়ি কোটেশ্বর মন্দির আজও চলমান সংস্কার কাজের অপেক্ষায়। অর্থের অভাবে মন্দিরের বহু কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও সনাতনী ধর্মাবলম্বী বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে মন্দির কমিটি। একইসাথে সনাতনী তরুণ প্রজন্মের স্বেচ্ছাশ্রমে চলছে মন্দির প্রাঙ্গণের আংশিক মেরামত।
১৬ শুক্রবার জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে মন্দিরের চারপাশের বাউন্ডারি ওয়ালের নিচের ফাঁকা অংশ বন্ধ করার কাজ করে সেচ্ছাসেবীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অজয় সরকার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উপজেলা আহ্বায়ক সুশীল সরকার, উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য “সচিব রতন কুমার রায়”, পল্লব চন্দ্র রায়, পূণর্ব রায়, অন্তর রায় ও মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক পরেশ চন্দ্র রায়সহ স্থানীয় গুণীজন।
মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক পরেশ চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের বলেন, “পুরাতন কমিটির অনেকেই পরলোকগমন করেছেন কিংবা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। বর্তমানে কোন সক্রিয় কমিটি না থাকায় মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খুব শীঘ্রই আমরা একটি নতুন ও কার্যকর কমিটি গঠন করব। এজন্য উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।”
মন্দির কমিটির অন্যতম সদস্য পল্লব চন্দ্র রায় বলেন, “এই মন্দিরটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি আমাদের এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্যের অংশ। সরকারি তহবিল থেকে যদি বিশেষ বরাদ্দ পাওয়া যায়, তাহলে মূল কাঠামো সংস্কার সম্ভব। পাশাপাশি সামর্থ্যবান সনাতনী পরিবারগুলো যদি এগিয়ে আসেন, তবে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।”
সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অজয় সরকার তরুণদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “তরুণরা যখন ঐতিহ্য রক্ষায় এগিয়ে আসে, তখন আশা জাগে। তবে শুধু স্বেচ্ছাশ্রমে পুরো মন্দিরের সংস্কার সম্ভব নয়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং স্থানীয় বিত্তবানদের আর্থিক সহায়তা একান্ত জরুরি”
রাজারহাটের কোটেশ্বর মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, এটি ঐতিহাসিক স্মারকও। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দ্রুত নতুন কমিটি গঠন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিত্তবানদের এগিয়ে আসা—এই তিনটির সমন্বয়েই রক্ষা পেতে পারে কোটেশ্বর মন্দিরের প্রাচীন মহিমা। অন্যথায় কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে পারে এক অপূর্ব সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার।




















