Dhaka ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ রাজারহাটে অবৈধ মাছ শিকারে অভিযান, ৫০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, শুরু হচ্ছে ৭ দিনের বিশেষ অভিযান’ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস ইসলামের সঙ্গে নাগরিক অধিকার আন্দোলন, যশোরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ভিনিসিয়ুসের জন্য মোটা অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত আর্সেনাল! সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা পাবনায় সাড়ে ১৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১, মামলা দায়ের: স্বাস্থ্য মন্ত্রীর তালা হসপিটাল পরিদর্শন ডাক্তারকে বদলি ও নৈশ প্রহরী বরখাস্ত যশোরে বিজিবি’র অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক-১

গণভোটের দোহাই দিয়ে বদলির এক সপ্তাহ পরও কর্মস্থল ছাড়েননি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

সরকারি বদলির আদেশ প্রকাশ্যে অমান্য করে আগের কর্মস্থলেই বহাল রয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল আহমেদ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে তিনি গণভোট ও নতুন কাউকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এমন অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জারি করা বদলির আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানছেন না ডা. কামাল আহমেদ। বরং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে তিনি আগের কর্মস্থল পীরগঞ্জেই অবস্থান করছেন।
এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি নির্দেশ অমান্য করেও একজন কর্মকর্তা কীভাবে দায়িত্বে বহাল থাকেন? বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এ বি এম আবু হানিফ স্বাক্ষরিত গত ১২ জানুয়ারির আদেশে ডা. কামাল আহমেদকে পার্শ্ববর্তী উপজেলা রানীশংকৈল স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে বদলি করা হয়। আদেশে স্পষ্টভাবে বলা ছিল, ৫কর্মদিবসের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে ৬ কর্মদিবসে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য করা হবে
তবে আদেশ জারির এক সপ্তাহ পার হলেও মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পর্যন্ত তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। বরং পীরগঞ্জেই অবস্থান করে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যা সরকারি বিধি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  উপকূলের তৃষ্ণা মেটাতে এক তরুণের দীর্ঘ আন্দোলন

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বাড়ি ও কর্মস্থল পীরগঞ্জে হওয়ায় ডা. কামাল আহমেদ নিজ বাড়িতে কেয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অফিস সময়েই ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও কর্মচারীরা রোগীদের সেখানে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের হয়রানিমূলক আচরণ করা হয়।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ডা. কামালের ‘অন্যায় নির্দেশ’ মানতে অস্বীকৃতি জানানোয় হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ আরমিনা আকতারকে গত বছরের ১ ডিসেম্বর হয়রানিমূলক বদলি করা হয়। পরে ২৩ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য বিভাগ সেই বদলির আদেশ বাতিল করে তাকে আগের কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেয়। তবে নির্দেশ পাওয়ার পরও ডা. কামাল আহমেদ তার যোগদানপত্র গ্রহণ করেননি। ফলে আরমিনা আকতার সিভিল সার্জন কার্যালয় ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘুরেও কাজে যোগ দিতে পারছেন না।

আরও পড়ুনঃ  নাভারণ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন

এ ছাড়াও ডা. কামাল আহমেদের বিরুদ্ধে অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ না হয়েও প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি ও অনুমোদনহীন ক্লিনিকে সিজারসহ অপারেশন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক মহল ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে ডা. কামাল আহমেদ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দেওয়া কিছু দায়িত্ব এখনো চলমান রয়েছে। সেসব দায়িত্ব পালন করতেই তিনি বর্তমানে কর্মস্থলে অবস্থান করছেন।

তিনি আরও বলেন, আমার ওপর অর্পিত কাজগুলো শেষ হলেই আমি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেব। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত নেই। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি আমাকে গণভোট সংক্রান্ত কোনো দায়িত্ব দেয়, সেটিও আমাকে পালন করতে হবে। এটি আমার চাকরিরই একটি অংশ। তবে যেকোনো সময় আমি চলে যাব।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তাছবীর হোসেন বলেন, যেহেতু সরকারি কর্মকর্তারা বর্তমানে ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন, তাই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বদলির আদেশপত্রেও ভোট-সংক্রান্ত দায়িত্ব থাকলে পরবর্তী সময়ে যোগদানের সুযোগ রাখা হয়েছে। ডা. কামাল আহমেদ বর্তমানে গণভোটের প্রচার ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে রয়েছেন। সে কারণেই হয়তো তিনি এখনো নতুন কর্মস্থলে যেতে পারেননি।

আরও পড়ুনঃ  বীরগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার

তিনি আরও বলেন, গণভোট উপলক্ষে তিনি কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিটি বিভাগ নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করছে। তিনি বদলি হয়েছেন—এটি সত্য, তবে পীরগঞ্জে এখনো নতুন কোনো কর্মকর্তা যোগদান করেননি। নতুন কেউ এলে তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করে চলে যাবেন। তাছাড়া আমরা এখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করছি। বদলির আদেশপত্রেও উল্লেখ আছে, প্রয়োজনে ভোট কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তিনি যোগদান করতে পারবেন।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. আনিসুর রহমান বলেন, বদলির আদেশ বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার জন্য বাধ্যতামূলক। তবে কোনো কর্মকর্তা যদি নির্বাচন বা গণভোট সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন, সেক্ষেত্রে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি সমন্বয় করে দেখা হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসরাত ফারজানা বলেন, বদলির আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। নির্বাচন বা গণভোট সংশ্লিষ্ট কোনো দায়িত্ব থাকলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় পোস্ট

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ

গণভোটের দোহাই দিয়ে বদলির এক সপ্তাহ পরও কর্মস্থল ছাড়েননি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

আপডেটের সময়: ০৭:০৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারি বদলির আদেশ প্রকাশ্যে অমান্য করে আগের কর্মস্থলেই বহাল রয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল আহমেদ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে তিনি গণভোট ও নতুন কাউকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এমন অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জারি করা বদলির আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানছেন না ডা. কামাল আহমেদ। বরং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে তিনি আগের কর্মস্থল পীরগঞ্জেই অবস্থান করছেন।
এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি নির্দেশ অমান্য করেও একজন কর্মকর্তা কীভাবে দায়িত্বে বহাল থাকেন? বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এ বি এম আবু হানিফ স্বাক্ষরিত গত ১২ জানুয়ারির আদেশে ডা. কামাল আহমেদকে পার্শ্ববর্তী উপজেলা রানীশংকৈল স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে বদলি করা হয়। আদেশে স্পষ্টভাবে বলা ছিল, ৫কর্মদিবসের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে ৬ কর্মদিবসে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য করা হবে
তবে আদেশ জারির এক সপ্তাহ পার হলেও মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পর্যন্ত তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। বরং পীরগঞ্জেই অবস্থান করে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যা সরকারি বিধি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  গাইবান্ধায় বসুন্ধরা শুভ সংঘের সেলাই মেশিন বিতরণ

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বাড়ি ও কর্মস্থল পীরগঞ্জে হওয়ায় ডা. কামাল আহমেদ নিজ বাড়িতে কেয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অফিস সময়েই ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও কর্মচারীরা রোগীদের সেখানে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের হয়রানিমূলক আচরণ করা হয়।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ডা. কামালের ‘অন্যায় নির্দেশ’ মানতে অস্বীকৃতি জানানোয় হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ আরমিনা আকতারকে গত বছরের ১ ডিসেম্বর হয়রানিমূলক বদলি করা হয়। পরে ২৩ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য বিভাগ সেই বদলির আদেশ বাতিল করে তাকে আগের কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেয়। তবে নির্দেশ পাওয়ার পরও ডা. কামাল আহমেদ তার যোগদানপত্র গ্রহণ করেননি। ফলে আরমিনা আকতার সিভিল সার্জন কার্যালয় ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘুরেও কাজে যোগ দিতে পারছেন না।

আরও পড়ুনঃ  উপকূলের তৃষ্ণা মেটাতে এক তরুণের দীর্ঘ আন্দোলন

এ ছাড়াও ডা. কামাল আহমেদের বিরুদ্ধে অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ না হয়েও প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি ও অনুমোদনহীন ক্লিনিকে সিজারসহ অপারেশন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক মহল ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে ডা. কামাল আহমেদ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দেওয়া কিছু দায়িত্ব এখনো চলমান রয়েছে। সেসব দায়িত্ব পালন করতেই তিনি বর্তমানে কর্মস্থলে অবস্থান করছেন।

তিনি আরও বলেন, আমার ওপর অর্পিত কাজগুলো শেষ হলেই আমি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেব। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত নেই। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি আমাকে গণভোট সংক্রান্ত কোনো দায়িত্ব দেয়, সেটিও আমাকে পালন করতে হবে। এটি আমার চাকরিরই একটি অংশ। তবে যেকোনো সময় আমি চলে যাব।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তাছবীর হোসেন বলেন, যেহেতু সরকারি কর্মকর্তারা বর্তমানে ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন, তাই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বদলির আদেশপত্রেও ভোট-সংক্রান্ত দায়িত্ব থাকলে পরবর্তী সময়ে যোগদানের সুযোগ রাখা হয়েছে। ডা. কামাল আহমেদ বর্তমানে গণভোটের প্রচার ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে রয়েছেন। সে কারণেই হয়তো তিনি এখনো নতুন কর্মস্থলে যেতে পারেননি।

আরও পড়ুনঃ  রাজারহাটে অবৈধ মাছ শিকারে অভিযান, ৫০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ

তিনি আরও বলেন, গণভোট উপলক্ষে তিনি কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিটি বিভাগ নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করছে। তিনি বদলি হয়েছেন—এটি সত্য, তবে পীরগঞ্জে এখনো নতুন কোনো কর্মকর্তা যোগদান করেননি। নতুন কেউ এলে তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করে চলে যাবেন। তাছাড়া আমরা এখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করছি। বদলির আদেশপত্রেও উল্লেখ আছে, প্রয়োজনে ভোট কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তিনি যোগদান করতে পারবেন।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. আনিসুর রহমান বলেন, বদলির আদেশ বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার জন্য বাধ্যতামূলক। তবে কোনো কর্মকর্তা যদি নির্বাচন বা গণভোট সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন, সেক্ষেত্রে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি সমন্বয় করে দেখা হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসরাত ফারজানা বলেন, বদলির আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। নির্বাচন বা গণভোট সংশ্লিষ্ট কোনো দায়িত্ব থাকলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।