সাকিফ শামীম, এফএসিএইচই, এফএলএমআই
অর্থনীতিবিদ; ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড গ্রুপ
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী, এফবিসিসিআই
বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে আছে। এলডিসি উত্তরণ এবং ২০৪১ সালের উন্নত দেশের লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন প্রবৃদ্ধির শক্তি কোথা থেকে আসবে—এই প্রশ্ন এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই জায়গায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং স্টার্টআপ খাতকে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির বড় ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশে প্রায় ৯৯ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই এসএমই, যা বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করে এবং জিডিপিতে বড় অবদান রাখে। একই সঙ্গে গত এক দশকে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমও দ্রুত বেড়েছে, যার ফলে প্রযুক্তি, ই–কমার্স, লজিস্টিকস ও অন্যান্য খাতে নতুন উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে এই সম্ভাবনার পথ পুরোপুরি সহজ নয়। সবচেয়ে বড় বাধা হলো অর্থায়ন পাওয়া। উচ্চ সুদের হার, কঠিন জামানত শর্ত এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে অনেক নতুন উদ্যোক্তা প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে পারেন না। তাই ভেঞ্চার ডেট, ক্লাস্টার ফান্ড, ক্রাউডফান্ডিং এবং এসএমই বোর্ডের মতো বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা জরুরি। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানো এবং রপ্তানি খাতে নতুন উদ্যোক্তাদের যুক্ত করাও সময়ের দাবি।
এই পরিবর্তনের যাত্রায় এফবিসিসিআই বড় ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে নয়, বরং একটি শক্তিশালী নীতি-পরামর্শক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তারা গবেষণা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং নীতি প্রস্তাবনার মাধ্যমে সরকার ও উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য একটি শক্তিশালী মেন্টরশিপ নেটওয়ার্ক তৈরি করাও খুব প্রয়োজন। অভিজ্ঞ শিল্পপতি ও উদ্যোক্তাদের দিকনির্দেশনা নতুন স্টার্টআপকে সঠিক ব্যবসায়িক কৌশল, সুশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।
সঠিক নীতি সহায়তা, সহজ অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কার্যকর মেন্টরশিপ একসাথে কাজ করলে এসএমই ও স্টার্টআপ খাত সত্যিই দেশের অর্থনীতির নতুন প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হয়ে উঠতে পারে। আর এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারে এফবিসিসিআই, যদি তারা উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারে।




















