Dhaka ০১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

মৃত্যুর মুখ থেকে মাত্র ৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে যেভাবে বেঁচে ফিরলেন

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির মুহূর্তে মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন কুষ্টিয়ার খোকসার যুবক খাইরুল ইসলাম খাঁ (২৬)। তবে নদী সাঁতরে তীরে ওঠার পর এক তথাকথিত উদ্ধারকারীর হাতে নিজের মুঠোফোনটি খুইয়েছেন তিনি। মোবাইল ফোন হারালেও ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরতে পেরে আল্লাহ্ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করছেন খাইরুল।

ঈদের ছুটি শেষে বুধবার (২৫ মার্চ) কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাসে করে কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন খাইরুল। তিনি খোকসা উপজেলার আমবাড়ীয়া গ্রামের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে। চাকরি করেন ঢাকার একটি টেক্সটাইল মিলের মেশিনম্যান পদে।

মৃত্যুর দুয়ার থেকে বেঁচে ফেরা খাইরুল বলেন, বাসটিতে তার আসন নম্বর ছিল বি-২। দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে খোকসা স্ট্যান্ড থেকে বাসটি ছাড়ার সময় প্রতিটি আসন পূর্ণ ছিল। দৌলতদিয়া ঘাটে বাসটি ফেরিতে উঠতে গিয়ে হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। ওই সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে নিজের সিটে বসে থাকা খাইরুল বাসের দরজা দিয়ে নদীতে ছিটকে পড়েন।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় পরিবার কেন্দ্রিক বালিকা মাদ্রাসার কমিটি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

তিনি বলেন, কীভাবে যে নদীতে ছিটকে পড়লাম বলতে পারি না। শুধু এটুকু মনে আছে- মাত্র ৫ সেকেন্ডের মধ্যে সব ওলটপালট হয়ে গেল। সাঁতরে তীরে ওঠার পর এক লোক সাহায্য করার নাম করে আমার ফোনটি নিয়ে আর ফেরত দেয়নি।

খাইরুল ইসলাম জানান, তার পাশের সিটের যাত্রী সাদা টি-শার্ট পরা যুবকটিও খোকসা স্ট্যান্ড থেকে আগেই বাসে উঠে বসেছিলেন। তাদের বাসটি ফেরি ঘাটে পৌঁছানোর পর পাশের সিটের যুবক নেমে যান। কয়েক মিনিট পর আবার সিটে ফিরে আসেন। খাইরুল তাকে বসতে দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান। ঠিক তখনই তাদের বাসটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগলে তিনি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে নদীতে পড়ে যান। তার দেখা বাসটিতে থাকা হাতেগোনা কয়েকজন যাত্রী নদী সাঁতরে ফেরি ও পন্টুনে উঠে জীবন বাঁচাতে পেরেছেন।

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

খাইরুল জানায়, দুর্ঘটনার পর তার পাশের আসনের যুবকটির সঙ্গে আর দেখা হয়নি। তিনি জানান, বাসের প্রতিটি সিট যাত্রীতে ঠাসা ছিলো। প্রত্যেক নারী যাত্রীর সাথে শিশু ছিল। ছিটে বসে থাকা কমপক্ষে ৪০ জন নারী ও শিশু যাত্রী ডুবে যাওয়া বাসের মধ্যে আটকা পড়েছিল। বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন।

সৌহার্দ্য পরিবহনের খোকসার কাউন্টারের মাস্টার রাকিব বিশ্বাস জানান, বি-১ ও ২ নম্বর আসনের যাত্রীরা খোকসা স্ট্যান্ডের কাউন্টারের যাত্রী ছিলো। তাদের একজন জীবিত ফিরেছে। অজ্ঞাত পরিচয়ের আর এক বৃদ্ধ যাত্রীও উঠেছিল। ওই বৃদ্ধ ও বি-১ আসনের যাত্রী রাজিবের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

রাকিব বিশ্বাসের দাবি, চালককে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ঘটনার সময় তিনি চালকের আসনেই ছিলেন। বেঁচে ফেরা ফারুকের সঙ্গে তিনিও কথা বলে তা নিশ্চিত হয়েছেন। চালক আরমানের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাস ফেরিতে ওঠার আগে সুপারভাইজার সিরিয়ালের জন্য নেমেছিল আর হেলপার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের বাড়িও রাজবাড়ী জেলায়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়ার শহরের মজমপুর এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), খোকসা উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), একই উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩) ও শমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকার (১৩) মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

মৃত্যুর মুখ থেকে মাত্র ৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে যেভাবে বেঁচে ফিরলেন

আপডেটের সময়: ০৭:৫০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির মুহূর্তে মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন কুষ্টিয়ার খোকসার যুবক খাইরুল ইসলাম খাঁ (২৬)। তবে নদী সাঁতরে তীরে ওঠার পর এক তথাকথিত উদ্ধারকারীর হাতে নিজের মুঠোফোনটি খুইয়েছেন তিনি। মোবাইল ফোন হারালেও ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরতে পেরে আল্লাহ্ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করছেন খাইরুল।

ঈদের ছুটি শেষে বুধবার (২৫ মার্চ) কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাসে করে কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন খাইরুল। তিনি খোকসা উপজেলার আমবাড়ীয়া গ্রামের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে। চাকরি করেন ঢাকার একটি টেক্সটাইল মিলের মেশিনম্যান পদে।

মৃত্যুর দুয়ার থেকে বেঁচে ফেরা খাইরুল বলেন, বাসটিতে তার আসন নম্বর ছিল বি-২। দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে খোকসা স্ট্যান্ড থেকে বাসটি ছাড়ার সময় প্রতিটি আসন পূর্ণ ছিল। দৌলতদিয়া ঘাটে বাসটি ফেরিতে উঠতে গিয়ে হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। ওই সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে নিজের সিটে বসে থাকা খাইরুল বাসের দরজা দিয়ে নদীতে ছিটকে পড়েন।

আরও পড়ুনঃ  সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

তিনি বলেন, কীভাবে যে নদীতে ছিটকে পড়লাম বলতে পারি না। শুধু এটুকু মনে আছে- মাত্র ৫ সেকেন্ডের মধ্যে সব ওলটপালট হয়ে গেল। সাঁতরে তীরে ওঠার পর এক লোক সাহায্য করার নাম করে আমার ফোনটি নিয়ে আর ফেরত দেয়নি।

খাইরুল ইসলাম জানান, তার পাশের সিটের যাত্রী সাদা টি-শার্ট পরা যুবকটিও খোকসা স্ট্যান্ড থেকে আগেই বাসে উঠে বসেছিলেন। তাদের বাসটি ফেরি ঘাটে পৌঁছানোর পর পাশের সিটের যুবক নেমে যান। কয়েক মিনিট পর আবার সিটে ফিরে আসেন। খাইরুল তাকে বসতে দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান। ঠিক তখনই তাদের বাসটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগলে তিনি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে নদীতে পড়ে যান। তার দেখা বাসটিতে থাকা হাতেগোনা কয়েকজন যাত্রী নদী সাঁতরে ফেরি ও পন্টুনে উঠে জীবন বাঁচাতে পেরেছেন।

আরও পড়ুনঃ  মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

খাইরুল জানায়, দুর্ঘটনার পর তার পাশের আসনের যুবকটির সঙ্গে আর দেখা হয়নি। তিনি জানান, বাসের প্রতিটি সিট যাত্রীতে ঠাসা ছিলো। প্রত্যেক নারী যাত্রীর সাথে শিশু ছিল। ছিটে বসে থাকা কমপক্ষে ৪০ জন নারী ও শিশু যাত্রী ডুবে যাওয়া বাসের মধ্যে আটকা পড়েছিল। বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন।

সৌহার্দ্য পরিবহনের খোকসার কাউন্টারের মাস্টার রাকিব বিশ্বাস জানান, বি-১ ও ২ নম্বর আসনের যাত্রীরা খোকসা স্ট্যান্ডের কাউন্টারের যাত্রী ছিলো। তাদের একজন জীবিত ফিরেছে। অজ্ঞাত পরিচয়ের আর এক বৃদ্ধ যাত্রীও উঠেছিল। ওই বৃদ্ধ ও বি-১ আসনের যাত্রী রাজিবের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ  খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে

রাকিব বিশ্বাসের দাবি, চালককে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ঘটনার সময় তিনি চালকের আসনেই ছিলেন। বেঁচে ফেরা ফারুকের সঙ্গে তিনিও কথা বলে তা নিশ্চিত হয়েছেন। চালক আরমানের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাস ফেরিতে ওঠার আগে সুপারভাইজার সিরিয়ালের জন্য নেমেছিল আর হেলপার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের বাড়িও রাজবাড়ী জেলায়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়ার শহরের মজমপুর এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), খোকসা উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), একই উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩) ও শমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকার (১৩) মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।