গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের চর রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা পাশান আলির পুত্র বধু ৩০ মার্চ পুত্র সন্তান জন্মদেন। সদ্যজাত শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে চরের ডাক্তার বৈদ্য দিয়ে কিছুতেই ভালো হচ্ছিল না। উপায়ন্ত না পেয়ে গাইবান্ধা জেলা সদরে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যেতে হবে পাশান আলিকে। কিন্তু কোন যানবাহন নেই রতনপুর চরে। তাই তার পুত্রবধুকে একটি কাঠের চৌকিতে শোয়াইয়ে নিয়ে গেলেন ডাক্তারে কাছে।
পাশান আলি বলেন, বাড়ি থেকে সকালে পুত্র বধূকে চৌকিখাটে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলাম সাথে বাচ্চাও আছে। হাজিরহাট ঘাটে নৌকায় পার করলাম। সেইখাটে করে একাবারে ডাক্তার পর্যন্ত নিয়ে গেলাম।
ফুলছড়ি উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টি ইউনিয়নে শতাধিক চর রয়েছে। এই চরগুলো মুল ভূখন্ড থেকে একেবারে আলাদা। সেখানে নেই রাস্তা ঘাট বাজার হাসপাতাল। বলা যায় এই ছয ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত। একজন প্রসুতি বা ইমারজেন্সী রোগীর জরুরি প্রয়োজনে ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সেই হাসপাতালটি আবার মুল ভূখন্ডে অবস্থিত । এছাড়া যেতে হয় জেলা সদর হাসপাতালে। যা চরাঞ্চল থেকে দুরত্ব প্রায় অনেকাংশে ৩০ কিমিঃ অনেক সময় দেখা যায় ডেলিভারি ও ইমারজেন্সি রোগী মৃত্যু ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।
ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলের স্বাস্থ্য ব্যবস্হার বেহাল চিত্র নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রহুল আমিন বলেন, এ বিষয় ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলের চিকিৎসা ব্যবস্হা নিয়ে সরকারের কাছে আমরা বিশেষ প্রস্তাবনা করেছি যাতে করে এ সংকট নিরসনে আমরা চরাঞ্চলের মা ও শিশু রোগী ডেলিভারি ও ইমারজেন্সী রোগীর ক্ষেত্রে ভাসমান ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া যায় কিনা।
চরাঞ্চলের এই স্বাস্থ্য সংকট নিরসনে কার্যকরীপদক্ষেপ গ্রহনের দাবি এলাকাবাসীর।




















