Dhaka ০৭:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

মেঘ দেখলেই দুশ্চিন্তায় সাতক্ষীরার কৃষক

সাতক্ষীরার আকাশে মেঘ জমলেই এখন কৃষকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কখনো তীব্র রোদ, কখনো হালকা বৃষ্টি, আবার হঠাৎ কালবৈশাখীর দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা, প্রকৃতির এই অনিশ্চিত আচরণ উপকূলীয় এই জেলার কৃষকদের মনে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

বর্তমানে জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বোরো ধানের থোড় ফেটে শীষ বের হতে শুরু করেছে। বাতাসে দুলতে থাকা সবুজ ধানের ক্ষেত যেন কৃষকের স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। তবে হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ার আঘাতে সেই স্বপ্ন ম্লান হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

একই অবস্থা আম বাগানগুলোতেও। গাছে গাছে ঝুলছে আমের গুটি, যা দেখে চাষিরা আশাবাদী হলেও আবহাওয়ার অস্থিরতা তাদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে শিলাবৃষ্টি ও পোকার আক্রমণ নিয়ে চাষিদের মধ্যে শঙ্কা বিরাজ করছে।

 

আরও পড়ুনঃ  অভয়নগরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। গত মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় ৭৯ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল।

এবারের বিশেষ ইতিবাচক দিক হলো লবণসহিষ্ণু ধানের চাষ বৃদ্ধি। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার কারণে একসময় কৃষিকাজ ব্যাহত হলেও বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে লবণসহিষ্ণু জাতের ধান চাষ হচ্ছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় চার হাজার হেক্টর বেশি।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) সাতক্ষীরা কার্যালয়ের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সাজ্জাদুর রহমান জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ব্রি-৬৭, ৯৭, ৯৯সহ ১৪টি লবণসহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এসব জাত ১২ থেকে ১৪ ডিএস পর্যন্ত লবণ সহ্য করতে পারে এবং প্রতি বিঘায় ২৬-২৭ মণ পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এছাড়া ব্রি-১১৭ ও ১১৩ জাত দ্রুত কৃষকের হাতে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ধানের পাশাপাশি সাতক্ষীরার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আম চাষ। এ বছর জেলায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টরের বেশি জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৭১ হাজার টন। অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো মুকুল আসায় চাষিরা বড় ধরনের লাভের আশা করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার আমের মুকুল ও গুটি বেশ ভালো। আমাদের লক্ষ্য সাতক্ষীরার বিখ্যাত হিমসাগর ও আম্রপালি আম আবারও বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা। তবে শেষ সময়ে আবহাওয়ার বৈরিতা ও পোকার আক্রমণ কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করছে।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় আবাসিক হাফেজি মাদ্রাসায় এতিম জমজ বোনকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ : পরিচালক বললেন মিথ্যা

জেলার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সদর উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, সরকারের সার ও কীটনাশকের ভর্তুকি আমাদের সাহস জুগিয়েছে। তবে খাল-বিল সংস্কার না হওয়ায় সেচব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। পাশাপাশি ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও আমরা চিন্তিত।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় 'প্রেরণা' এনজিও'র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

এদিকে কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরিদর্শন, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করছে। কৃষক আলফাজ উদ্দীন, আইয়ুব আলী, আনোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান ও শামসুর রহমানসহ অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় বোরো ধান ও আমের বাম্পার ফলন হবে।

সবশেষে বলা যায়, প্রকৃতির বৈরিতা জয় করতে পারলে কৃষকের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম সার্থক হবে, গোলাভরা ধান আর ঝুড়িভরা আমেই পূর্ণতা পাবে তাদের স্বপ্ন।

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

মেঘ দেখলেই দুশ্চিন্তায় সাতক্ষীরার কৃষক

আপডেটের সময়: ০৮:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

সাতক্ষীরার আকাশে মেঘ জমলেই এখন কৃষকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কখনো তীব্র রোদ, কখনো হালকা বৃষ্টি, আবার হঠাৎ কালবৈশাখীর দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা, প্রকৃতির এই অনিশ্চিত আচরণ উপকূলীয় এই জেলার কৃষকদের মনে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

বর্তমানে জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বোরো ধানের থোড় ফেটে শীষ বের হতে শুরু করেছে। বাতাসে দুলতে থাকা সবুজ ধানের ক্ষেত যেন কৃষকের স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। তবে হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ার আঘাতে সেই স্বপ্ন ম্লান হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

একই অবস্থা আম বাগানগুলোতেও। গাছে গাছে ঝুলছে আমের গুটি, যা দেখে চাষিরা আশাবাদী হলেও আবহাওয়ার অস্থিরতা তাদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে শিলাবৃষ্টি ও পোকার আক্রমণ নিয়ে চাষিদের মধ্যে শঙ্কা বিরাজ করছে।

 

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় পরিবার কেন্দ্রিক বালিকা মাদ্রাসার কমিটি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। গত মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় ৭৯ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল।

এবারের বিশেষ ইতিবাচক দিক হলো লবণসহিষ্ণু ধানের চাষ বৃদ্ধি। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার কারণে একসময় কৃষিকাজ ব্যাহত হলেও বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে লবণসহিষ্ণু জাতের ধান চাষ হচ্ছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় চার হাজার হেক্টর বেশি।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) সাতক্ষীরা কার্যালয়ের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সাজ্জাদুর রহমান জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ব্রি-৬৭, ৯৭, ৯৯সহ ১৪টি লবণসহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এসব জাত ১২ থেকে ১৪ ডিএস পর্যন্ত লবণ সহ্য করতে পারে এবং প্রতি বিঘায় ২৬-২৭ মণ পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এছাড়া ব্রি-১১৭ ও ১১৩ জাত দ্রুত কৃষকের হাতে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ধানের পাশাপাশি সাতক্ষীরার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আম চাষ। এ বছর জেলায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টরের বেশি জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৭১ হাজার টন। অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো মুকুল আসায় চাষিরা বড় ধরনের লাভের আশা করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার আমের মুকুল ও গুটি বেশ ভালো। আমাদের লক্ষ্য সাতক্ষীরার বিখ্যাত হিমসাগর ও আম্রপালি আম আবারও বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা। তবে শেষ সময়ে আবহাওয়ার বৈরিতা ও পোকার আক্রমণ কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করছে।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় আবাসিক হাফেজি মাদ্রাসায় এতিম জমজ বোনকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ : পরিচালক বললেন মিথ্যা

জেলার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সদর উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, সরকারের সার ও কীটনাশকের ভর্তুকি আমাদের সাহস জুগিয়েছে। তবে খাল-বিল সংস্কার না হওয়ায় সেচব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। পাশাপাশি ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও আমরা চিন্তিত।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় ফাজিল (স্নাতক) পরীক্ষা নকল মুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

এদিকে কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরিদর্শন, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করছে। কৃষক আলফাজ উদ্দীন, আইয়ুব আলী, আনোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান ও শামসুর রহমানসহ অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় বোরো ধান ও আমের বাম্পার ফলন হবে।

সবশেষে বলা যায়, প্রকৃতির বৈরিতা জয় করতে পারলে কৃষকের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম সার্থক হবে, গোলাভরা ধান আর ঝুড়িভরা আমেই পূর্ণতা পাবে তাদের স্বপ্ন।