Dhaka ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ রাজারহাটে অবৈধ মাছ শিকারে অভিযান, ৫০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, শুরু হচ্ছে ৭ দিনের বিশেষ অভিযান’ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস ইসলামের সঙ্গে নাগরিক অধিকার আন্দোলন, যশোরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ভিনিসিয়ুসের জন্য মোটা অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত আর্সেনাল! সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা পাবনায় সাড়ে ১৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১, মামলা দায়ের: স্বাস্থ্য মন্ত্রীর তালা হসপিটাল পরিদর্শন ডাক্তারকে বদলি ও নৈশ প্রহরী বরখাস্ত যশোরে বিজিবি’র অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক-১

ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে আকাশচুম্বী দাম গুদামঘরে মসলার পাহাড়।

ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে আকাশচুম্বী দাম গুদামঘরে মসলার পাহাড়।

কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে মসলার বাজারে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে আমদানিকারকদের গুদামে মসলার পাহাড় ও স্থিতিশীল পাইকারি বাজার, অন্যদিকে খুচরা দোকানে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে আকাশচুম্বী দাম। চট্টগ্রামের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কেবল তদারকির অভাবে খুচরা পর্যায়ে দামের লাগাম টানা যাচ্ছে না।

মজুদ ও আমদানিতে নেই উদ্বেগের রেখা
ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়া, চীন ও ভারতসহ প্রধান দেশগুলো থেকে নিয়মিত মসলা আসছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত দেশে প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার মেট্রিক টনের বেশি মসলা আমদানি হয়েছে। এমনকি লোহিত সাগরের অস্থিরতাও এই বাজারে প্রভাব ফেলতে পারেনি। ব্যবসায়ীদের দাবি, কোরবানির চাহিদার তুলনায় দেশে এলাচ, দারুচিনি ও জিরার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

খুচরা বাজারে মূল্যের ‘লঙ্কাকাণ্ড’
পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরা দরের পার্থক্য এখন চোখে পড়ার মতো। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়:

আরও পড়ুনঃ  যশোরে বিজিবি'র অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক-১

বিলাসী মসলায় দ্বিগুণ লাভ: পাইকারিতে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া জায়ফল খুচরা দোকানে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। গোলমরিচ ও দারুচিনির ক্ষেত্রেও একই চিত্র—দেখা যাচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি মুনাফা।

সাধারণ মসলার অস্বাভাবিক দর: পাইকারিতে যে রসুনের দাম সর্বোচ্চ ৬০ টাকা, তা খুচরায় ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা ও পেঁয়াজের দামেও রয়েছে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১০০ টাকার বড় ব্যবধান।

আরও পড়ুনঃ  মীর বাবরজান বরুণ স্মৃতি ফাউন্ডেশন ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে ঢালীপাড়া একাদশ জয়ী।

অসাধু প্রতিযোগিতা ও উচ্চ শুল্কের প্রভাব
আমদানিকারকদের অভিযোগ, উচ্চ শুল্ক হারের কারণে বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। জিরার ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক এবং এলাচে কেজিপ্রতি বড় অংকের ট্যাক্স দিতে হওয়ায় খরচ বাড়ছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু চক্র স্থলবন্দর দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আনছে, যা বৈধ ব্যবসায়ীদের সংকটে ফেলছে।

প্রয়োজন কঠোর বাজার মনিটরিং
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের মতে, পাইকারি বাজারে দাম কম থাকলেও প্রশাসনের নজরদারি কেবল তাদের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকে। অথচ খুচরা বাজারে কোনো তদারকি না থাকায় সাধারণ মানুষ ঈদের সুফল পাচ্ছে না। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ঈদের আগে মসলার বাজার সাধারণ ক্রেতাদের জন্য আরও বড় বোঝা হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  রাজারহাটে অবৈধ মাছ শিকারে অভিযান, ৫০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ

এক নজরে বাজার দর (কেজিপ্রতি):

এলাচ: পাইকারি ৪,০০০ – ৪,৩০০ টাকা – খুচরা ৫,০০০ টাকা।

হলুদ ও মরিচ: পাইকারি ১৮০-২৩০ টাকা – খুচরা ৩০০-৩৫০ টাকা।

পেঁয়াজ: পাইকারি ২০-২৮ টাকা – খুচরা ৪০-৫০ টাকা।

জনপ্রিয় পোস্ট

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ

ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে আকাশচুম্বী দাম গুদামঘরে মসলার পাহাড়।

আপডেটের সময়: ০১:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে আকাশচুম্বী দাম গুদামঘরে মসলার পাহাড়।

কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে মসলার বাজারে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে আমদানিকারকদের গুদামে মসলার পাহাড় ও স্থিতিশীল পাইকারি বাজার, অন্যদিকে খুচরা দোকানে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে আকাশচুম্বী দাম। চট্টগ্রামের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কেবল তদারকির অভাবে খুচরা পর্যায়ে দামের লাগাম টানা যাচ্ছে না।

মজুদ ও আমদানিতে নেই উদ্বেগের রেখা
ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়া, চীন ও ভারতসহ প্রধান দেশগুলো থেকে নিয়মিত মসলা আসছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত দেশে প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার মেট্রিক টনের বেশি মসলা আমদানি হয়েছে। এমনকি লোহিত সাগরের অস্থিরতাও এই বাজারে প্রভাব ফেলতে পারেনি। ব্যবসায়ীদের দাবি, কোরবানির চাহিদার তুলনায় দেশে এলাচ, দারুচিনি ও জিরার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

খুচরা বাজারে মূল্যের ‘লঙ্কাকাণ্ড’
পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরা দরের পার্থক্য এখন চোখে পড়ার মতো। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়:

আরও পড়ুনঃ  বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস ইসলামের সঙ্গে নাগরিক অধিকার আন্দোলন, যশোরের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বিলাসী মসলায় দ্বিগুণ লাভ: পাইকারিতে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া জায়ফল খুচরা দোকানে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। গোলমরিচ ও দারুচিনির ক্ষেত্রেও একই চিত্র—দেখা যাচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি মুনাফা।

সাধারণ মসলার অস্বাভাবিক দর: পাইকারিতে যে রসুনের দাম সর্বোচ্চ ৬০ টাকা, তা খুচরায় ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা ও পেঁয়াজের দামেও রয়েছে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১০০ টাকার বড় ব্যবধান।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে বিদেশী পিস্তলসহ সন্ত্রাসী আটক

অসাধু প্রতিযোগিতা ও উচ্চ শুল্কের প্রভাব
আমদানিকারকদের অভিযোগ, উচ্চ শুল্ক হারের কারণে বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। জিরার ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক এবং এলাচে কেজিপ্রতি বড় অংকের ট্যাক্স দিতে হওয়ায় খরচ বাড়ছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু চক্র স্থলবন্দর দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আনছে, যা বৈধ ব্যবসায়ীদের সংকটে ফেলছে।

প্রয়োজন কঠোর বাজার মনিটরিং
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের মতে, পাইকারি বাজারে দাম কম থাকলেও প্রশাসনের নজরদারি কেবল তাদের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকে। অথচ খুচরা বাজারে কোনো তদারকি না থাকায় সাধারণ মানুষ ঈদের সুফল পাচ্ছে না। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ঈদের আগে মসলার বাজার সাধারণ ক্রেতাদের জন্য আরও বড় বোঝা হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  চোটের কারণে 'দ্য হান্ড্রেড' থেকে ছিটকে গেলেন মোস্তাফিজ

এক নজরে বাজার দর (কেজিপ্রতি):

এলাচ: পাইকারি ৪,০০০ – ৪,৩০০ টাকা – খুচরা ৫,০০০ টাকা।

হলুদ ও মরিচ: পাইকারি ১৮০-২৩০ টাকা – খুচরা ৩০০-৩৫০ টাকা।

পেঁয়াজ: পাইকারি ২০-২৮ টাকা – খুচরা ৪০-৫০ টাকা।