Dhaka ০২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছা-কয়রা সড়ক এখন মানুষ চলাচলের ভয়াবহ মরণ ফাঁদে পরিণত

পাইকগাছা-কয়রা সড়ক এখন মানুষ চলাচলের ভয়াবহ মরণ ফাঁদে পরিণত

‎খুলনার পাইকগাছা পৌর সদরের জিরো পয়েন্ট থেকে কয়রা সড়কের ব্যস্ততম অংশ এখন যেন এক ভয়াবহ – মৃত্যুফাঁদ। সড়কের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাথরের খোয়া, স্তূপ করে রাখা ইট-বালু আর রাস্তার একাংশ – দখল করে রাখা যানবাহনের কারণে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ।

 

একটু অসাবধানতা, সামান্য ব্রেক কিংবা এক মুহূর্তের ভারসাম্য হারালেই ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। অথচ এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি দিনের পর দিন চললেও যেন দেখার কেউ নেই। সরেজমিনে দেখা যায়, শিববাটি মৌজায় নির্মাণাধীন প্রধান – নতুন পৌর ভবনের পাশে পাইকগাছা-কয়রা সড়কের ধারে সড়ক উন্নয়ন কাজের পাথর ফেলে রাখা হয়েছে।

 

আরও পড়ুনঃ  ডিএপি সার কারখানায় উৎপাদন শুরু: ২১ দিনের বিরতির অবসান

সেই পাথরের বড় অংশ সড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়ে রাস্তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দখল করে রেখেছে। ফলে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। পাথরের খোয়ার উপর চাকা পিছলে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। শুধু তাই নয়, সড়কের বিভিন্ন অংশে বাড়ি নির্মাণের জন্যইট, বালু ও পাথর ফেলে রাখায় রাস্তা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

 

কোথাও কোথাও সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা। জিরো পয়েন্ট থেকে শিববাটি ব্রিজ পর্যন্ত পুরো এলাকায় যেন অব্যবস্থাপনার নগ্ন চিত্র। স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এটা এখন আর রাস্তা নেই, মানুষের জন্য মরণফাঁদ হয়ে গেছে। প্রতিদিন ছোট ছোট দুর্ঘটনা ঘটছে। বড় দুর্ঘটনা ঘটলে তখন হয়তো সবাই নড়েচড়ে বসবে। “কলেজ শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন বলেন, “প্রতিদিন কলেজে যেতে ভয় লাগে।

 

আরও পড়ুনঃ  সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামের বাবার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ, দৈনিক পূর্ব দিগন্ত বার্তা পরিবারের পক্ষ থেকে

মোটরসাইকেল বা ইজিবাইক একটু স্লিপ করলেই মানুষ পড়ে যাচ্ছে। রাতে অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে যায়। “মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম রনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তার উপর পাথর ছড়িয়ে আছে, আবার বাসও দাঁড়িয়ে থাকে। সামনে বড় গাড়ি এলে সাইড দিতে গিয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে চলতে হয়।

 

প্রশাসন কিবড় দুর্ঘটনার অপেক্ষা করছে?”ইজিবাইক চালক শফিকুল গাজী বলেন, “রাস্তার জায়গা এত কমে গেছে যে দুইটা গাড়ি ঠিকমতো পাশ কাটাতে পারে না। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটবে। “স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কার সিদ্দিকী বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়রা অঞ্চলের শত শত তরমুজবাহী ট্রাক দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়।

 

আরও পড়ুনঃ  গলায় ওড়না পেঁচিয়ে দাখিল পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

সন্ধ্যার পর ভারী যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এমন ব্যস্ত সড়কে পাথর-বালু ফেলে রাখা চরম দায়িত্বহীনতা। “এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের ওপর নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন-প্রাণহানি ঘটার পরই কি কেবল প্রশাসনের টনক নড়বে? সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ব্যস্ততম এই সড়কে সামান্য অবহেলাও কেড়ে নিতে পারে বহু নিরীহ মানুষের প্রাণ।

 

তাই দ্রুত সড়ক থেকে ইট, বালু ও পাথর অপসারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

জনপ্রিয় পোস্ট

পাইকগাছা-কয়রা সড়ক এখন মানুষ চলাচলের ভয়াবহ মরণ ফাঁদে পরিণত

আপডেটের সময়: ০৬:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

পাইকগাছা-কয়রা সড়ক এখন মানুষ চলাচলের ভয়াবহ মরণ ফাঁদে পরিণত

‎খুলনার পাইকগাছা পৌর সদরের জিরো পয়েন্ট থেকে কয়রা সড়কের ব্যস্ততম অংশ এখন যেন এক ভয়াবহ – মৃত্যুফাঁদ। সড়কের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাথরের খোয়া, স্তূপ করে রাখা ইট-বালু আর রাস্তার একাংশ – দখল করে রাখা যানবাহনের কারণে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ।

 

একটু অসাবধানতা, সামান্য ব্রেক কিংবা এক মুহূর্তের ভারসাম্য হারালেই ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। অথচ এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি দিনের পর দিন চললেও যেন দেখার কেউ নেই। সরেজমিনে দেখা যায়, শিববাটি মৌজায় নির্মাণাধীন প্রধান – নতুন পৌর ভবনের পাশে পাইকগাছা-কয়রা সড়কের ধারে সড়ক উন্নয়ন কাজের পাথর ফেলে রাখা হয়েছে।

 

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে ড্রেন-কালভার্ট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ কাজ শেষ না হতেই ভাঙন

সেই পাথরের বড় অংশ সড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়ে রাস্তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দখল করে রেখেছে। ফলে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। পাথরের খোয়ার উপর চাকা পিছলে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। শুধু তাই নয়, সড়কের বিভিন্ন অংশে বাড়ি নির্মাণের জন্যইট, বালু ও পাথর ফেলে রাখায় রাস্তা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

 

কোথাও কোথাও সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা। জিরো পয়েন্ট থেকে শিববাটি ব্রিজ পর্যন্ত পুরো এলাকায় যেন অব্যবস্থাপনার নগ্ন চিত্র। স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এটা এখন আর রাস্তা নেই, মানুষের জন্য মরণফাঁদ হয়ে গেছে। প্রতিদিন ছোট ছোট দুর্ঘটনা ঘটছে। বড় দুর্ঘটনা ঘটলে তখন হয়তো সবাই নড়েচড়ে বসবে। “কলেজ শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন বলেন, “প্রতিদিন কলেজে যেতে ভয় লাগে।

 

আরও পড়ুনঃ  গলায় ওড়না পেঁচিয়ে দাখিল পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

মোটরসাইকেল বা ইজিবাইক একটু স্লিপ করলেই মানুষ পড়ে যাচ্ছে। রাতে অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে যায়। “মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম রনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তার উপর পাথর ছড়িয়ে আছে, আবার বাসও দাঁড়িয়ে থাকে। সামনে বড় গাড়ি এলে সাইড দিতে গিয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে চলতে হয়।

 

প্রশাসন কিবড় দুর্ঘটনার অপেক্ষা করছে?”ইজিবাইক চালক শফিকুল গাজী বলেন, “রাস্তার জায়গা এত কমে গেছে যে দুইটা গাড়ি ঠিকমতো পাশ কাটাতে পারে না। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটবে। “স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কার সিদ্দিকী বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়রা অঞ্চলের শত শত তরমুজবাহী ট্রাক দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়।

 

আরও পড়ুনঃ  আগামী বর্ষায় ৮০ শতাংশ এলাকা জলমগ্নতা থেকে মুক্ত থাকবে: চসিক মেয়র।

সন্ধ্যার পর ভারী যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এমন ব্যস্ত সড়কে পাথর-বালু ফেলে রাখা চরম দায়িত্বহীনতা। “এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের ওপর নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন-প্রাণহানি ঘটার পরই কি কেবল প্রশাসনের টনক নড়বে? সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ব্যস্ততম এই সড়কে সামান্য অবহেলাও কেড়ে নিতে পারে বহু নিরীহ মানুষের প্রাণ।

 

তাই দ্রুত সড়ক থেকে ইট, বালু ও পাথর অপসারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।