Dhaka ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রতনপুরে দিনব্যাপী গনসংযোগ ও মতবিনিময় করেন এমপি রবিউল বাশার তালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত কালিগঞ্জের উত্তর শ্রীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চুরি থানায় অভিযোগ বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য আহ্বায়ক কমিটি চায় শ্যামনগর বিএনপির তৃণমূল শার্শার বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আসাদুজ্জামান আসাদ রাতের খাবারে চেতনানাশক,একই পরিবারের ৩ সদস্য হাসপাতালে বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ রাজারহাটে অবৈধ মাছ শিকারে অভিযান, ৫০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, শুরু হচ্ছে ৭ দিনের বিশেষ অভিযান’ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হামলা

চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হামলা, এনসিপি নেতাকর্মীসহ আহত বেশ কয়েকজন।

 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সের লাগামহীন ভাড়া নৈরাজ্য ও সাধারণ রোগী হয়রানির প্রতিবাদ করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালক ও মালিক সমিতির বিরুদ্ধে।

 

আজ রোববার দুপুরে চমেক হাসপাতাল এলাকায় উভয়পক্ষের মধ্যে এই দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে চকবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার প্রতিবাদে চমেক হাসপাতালের প্রধান ফটকে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে এনসিপি।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী যাওয়ার জন্য চমেক হাসপাতাল এলাকায় এক রোগী অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে গেলে চালকরা নির্ধারিত ৪,৫০০ টাকার পরিবর্তে ১২,০০০ টাকা দাবি করে। এমনকি বাইরে থেকে অন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স এনে রোগী নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও সিন্ডিকেটের চালকরা তাতে বাধা দেয়। উপায় না পেয়ে ওই যাত্রী ৫০০ টাকা অগ্রিম দিয়ে চমেক সমিতির গাড়িই বুক করতে বাধ্য হন এবং বিষয়টি উপস্থিত এনসিপি নেতাকর্মীদের জানান।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

এই অভিযোগের ভিত্তিতে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতাল এলাকার অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির নেতাদের কাছে বিষয়টি জানতে ও জবাবদিহি চাইতে যান। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। হামলায় এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের পর চমেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অ্যাম্বুলেন্স চালকরা এখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে অসহায় রোগীদের জিম্মি করে রেখেছে। ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি এখানকার নিত্যদিনের সমস্যা। আমরা এই বিষয়ে চমেক পরিচালকের সঙ্গেও কথা বলেছি।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জের উত্তর শ্রীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চুরি থানায় অভিযোগ

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “পুলিশের সামনেই আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় আমাদের যুগ্ম সদস্য সচিব আসগর আলী আসিফ ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন। এই অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের পেছনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ মদদ ও যোগসাজশ রয়েছে। আমরা এই ঘটনায় দ্রুত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. ইউসুফ। তিনি দাবি করেন, “নির্ধারিত তালিকার বাইরে আমরা কোনো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করি না। অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়ার টাকা সমিতির কল্যাণ ও গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের কাজেই খরচ করা হয়। প্রায় ১০ মাস আগে এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমান বাজারে জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমাদের কিছুটা বাড়তি ভাড়া নিতে হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি'র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ

চকবাজার থানা পুলিশ জানায়, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে চমেক হাসপাতাল এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

রতনপুরে দিনব্যাপী গনসংযোগ ও মতবিনিময় করেন এমপি রবিউল বাশার

চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হামলা

আপডেটের সময়: ০৮:২৬:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হামলা, এনসিপি নেতাকর্মীসহ আহত বেশ কয়েকজন।

 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সের লাগামহীন ভাড়া নৈরাজ্য ও সাধারণ রোগী হয়রানির প্রতিবাদ করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালক ও মালিক সমিতির বিরুদ্ধে।

 

আজ রোববার দুপুরে চমেক হাসপাতাল এলাকায় উভয়পক্ষের মধ্যে এই দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে চকবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার প্রতিবাদে চমেক হাসপাতালের প্রধান ফটকে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে এনসিপি।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী যাওয়ার জন্য চমেক হাসপাতাল এলাকায় এক রোগী অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে গেলে চালকরা নির্ধারিত ৪,৫০০ টাকার পরিবর্তে ১২,০০০ টাকা দাবি করে। এমনকি বাইরে থেকে অন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স এনে রোগী নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও সিন্ডিকেটের চালকরা তাতে বাধা দেয়। উপায় না পেয়ে ওই যাত্রী ৫০০ টাকা অগ্রিম দিয়ে চমেক সমিতির গাড়িই বুক করতে বাধ্য হন এবং বিষয়টি উপস্থিত এনসিপি নেতাকর্মীদের জানান।

আরও পড়ুনঃ  বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি'র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ

এই অভিযোগের ভিত্তিতে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতাল এলাকার অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির নেতাদের কাছে বিষয়টি জানতে ও জবাবদিহি চাইতে যান। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। হামলায় এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের পর চমেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অ্যাম্বুলেন্স চালকরা এখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে অসহায় রোগীদের জিম্মি করে রেখেছে। ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি এখানকার নিত্যদিনের সমস্যা। আমরা এই বিষয়ে চমেক পরিচালকের সঙ্গেও কথা বলেছি।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে বিদেশী পিস্তলসহ সন্ত্রাসী আটক

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “পুলিশের সামনেই আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় আমাদের যুগ্ম সদস্য সচিব আসগর আলী আসিফ ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন। এই অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের পেছনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ মদদ ও যোগসাজশ রয়েছে। আমরা এই ঘটনায় দ্রুত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. ইউসুফ। তিনি দাবি করেন, “নির্ধারিত তালিকার বাইরে আমরা কোনো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করি না। অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়ার টাকা সমিতির কল্যাণ ও গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের কাজেই খরচ করা হয়। প্রায় ১০ মাস আগে এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমান বাজারে জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমাদের কিছুটা বাড়তি ভাড়া নিতে হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  রতনপুরে দিনব্যাপী গনসংযোগ ও মতবিনিময় করেন এমপি রবিউল বাশার

চকবাজার থানা পুলিশ জানায়, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে চমেক হাসপাতাল এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।