ঝিকরগাছার প্রবীণ সংবাদপত্র পরিবেশক স্বপন চক্রবর্তীর ৬ষ্ঠ তিরোধান দিবস পালিত
যশোরের ঝিকরগাছার জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রের প্রবীণ পরিবেশক স্বর্গীয় স্বপন চক্রবর্তীর ৬ষ্ঠ তিরোধান দিবস বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। ২০২০ সালের এই দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি পরলোকগমন করেন।
প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ঝিকরগাছা উপজেলায় জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা পাঠকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেন। দীর্ঘ ৪৩ বছরের কর্মজীবনে সংবাদপত্র বিতরণকে তিনি শুধু পেশা হিসেবে নয়, সমাজে তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করতেন।
ভোরের আলো ফোটার আগেই সংবাদপত্র সংগ্রহ করে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া ছিল তাঁর প্রতিদিনের নিয়মিত কাজ। দায়িত্বশীলতা, সময়ানুবর্তিতা এবং বিনয়ী আচরণের কারণে সাংবাদিক, পাঠক ও সংবাদপত্র সংশ্লিষ্ট মহলে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত ও আস্থাভাজন একজন মানুষ। ঝিকরগাছায় সংবাদপত্র বিতরণ ব্যবস্থাকে সুসংগঠিত করতে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
স্বপন চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া দায়িত্ব পালন করে আসছেন ছেলে সজল কুমার চক্রবর্তী তনু। বাবার প্রতিষ্ঠিত সুনাম ও বিশ্বাস ধরে রেখে তিনি বর্তমানে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদপত্রের পরিবেশনার কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচালনা করছেন।
তিরোধান দিবস উপলক্ষে পারিবারিক উদ্যোগে তাঁর নিজ বাসভবনে আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় প্রার্থনা এবং প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়। এতে আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
স্বপন চক্রবর্তীর ছেলে সজল কুমার চক্রবর্তী তনু বলেন, “বাবা তাঁর পুরো জীবনটাই সংবাদপত্রের সঙ্গে কাটিয়েছেন। পাঠকের হাতে সময়মতো পত্রিকা পৌঁছে দেওয়াকেই তিনি নিজের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব মনে করতেন। তাঁর আদর্শ, সততা ও কর্মনিষ্ঠা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। বাবার দেখানো পথ অনুসরণ করে তাঁর অর্জিত সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করছি। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য সকলের কাছে প্রার্থনা ও আশীর্বাদ কামনা করছি।
এদিকে তিরোধান দিবস উপলক্ষে ঝিকরগাছার সাংবাদিক, সংবাদপত্র পরিবেশক, পাঠক, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বপন চক্রবর্তীকে স্মরণ করেন। তাঁরা তাঁর নিষ্ঠা, সততা ও সংবাদপত্রের প্রতি আজীবন নিবেদিত অবদানের কথা স্মরণ করে বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।




















