Dhaka ০৮:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

মানি লন্ডারিং মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে।

পলাশ বাড়ী উপজেলায় হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস ওরফে তৌহিদ ইসলাম মানি লন্ডারিং মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে।

 

ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার, হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেফতার শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণীদাস ওরফে তৌহিদ ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কে এম রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, মামলায় মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট উপাদান নেই। তাদের বক্তব্য, হরিদাস একটি মন্দির পরিচালনা করেন এবং তার হিসাবে জমা হওয়া অর্থ ভক্তদের অনুদান।

শুনানিকালে বিচারকের অনুমতি নিয়ে হরিদাস চন্দ্র তরণীদাস বলেন, তিনি আগে কৃষিকাজ করতেন এবং বর্তমানে একটি মন্দির পরিচালনা করেন। তিনি দাবি করেন, মন্দির পরিচালনা করাই যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তবে তার কিছু করার নেই। বিচারক ভক্তদের দেওয়া অর্থ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেগুলো অনুদানের অর্থ।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা কারাগারের ফটকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তাব দিলেও রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে রোববার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

একই দিন বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ডিএসবি গাইবান্ধার তথ্য ও সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, হরিদাস চন্দ্র তরণীদাস ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার, হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অনুসন্ধানে তার নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাব ও চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এসব হিসাবে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা এবং ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৮ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব)

এজাহারে আরও বলা হয়, তার ব্যবসার প্রকৃতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি এসব হিসাবে নগদ অর্থ জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে মো. সুজন নামে এক ব্যক্তি ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তের একাধিক ব্যাংক হিসাবে মোট ২ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা জমা দেন, যা সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে হুন্ডির অর্থ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বৈধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই অর্থ ব্যবহার করে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের ও বেনামি নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলেও প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

মানি লন্ডারিং মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে।

আপডেটের সময়: ০৭:২৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

পলাশ বাড়ী উপজেলায় হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস ওরফে তৌহিদ ইসলাম মানি লন্ডারিং মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে।

 

ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার, হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেফতার শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণীদাস ওরফে তৌহিদ ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কে এম রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, মামলায় মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট উপাদান নেই। তাদের বক্তব্য, হরিদাস একটি মন্দির পরিচালনা করেন এবং তার হিসাবে জমা হওয়া অর্থ ভক্তদের অনুদান।

শুনানিকালে বিচারকের অনুমতি নিয়ে হরিদাস চন্দ্র তরণীদাস বলেন, তিনি আগে কৃষিকাজ করতেন এবং বর্তমানে একটি মন্দির পরিচালনা করেন। তিনি দাবি করেন, মন্দির পরিচালনা করাই যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তবে তার কিছু করার নেই। বিচারক ভক্তদের দেওয়া অর্থ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেগুলো অনুদানের অর্থ।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব)

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা কারাগারের ফটকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তাব দিলেও রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে রোববার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

একই দিন বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ডিএসবি গাইবান্ধার তথ্য ও সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, হরিদাস চন্দ্র তরণীদাস ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার, হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অনুসন্ধানে তার নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাব ও চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এসব হিসাবে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা এবং ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৮ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা

এজাহারে আরও বলা হয়, তার ব্যবসার প্রকৃতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি এসব হিসাবে নগদ অর্থ জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে মো. সুজন নামে এক ব্যক্তি ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তের একাধিক ব্যাংক হিসাবে মোট ২ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা জমা দেন, যা সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে হুন্ডির অর্থ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বৈধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই অর্থ ব্যবহার করে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের ও বেনামি নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলেও প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে।