Dhaka ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে কোহলির নতুন মাইলফলক! কিশোর অপরাধবিরোধী অভিযানে চট্টগ্রামে আটক ৪৪৫ গাজীপুরের আশপাশে হঠাৎ এলপিজি গ্যাসের সংকট, বেড়েছে দাম সারাদেশে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বাগআঁচড়ায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল গোপালগঞ্জে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত গোপালগঞ্জ মধুমতী খাল থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী ওবায়দুল্লাহ আটক সাতক্ষীরায় পরকীয়া করে অন্যের স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ মেম্বারের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জে স্বর্ণের দোকানে লকার ভেঙে সোনা-রুপা ও নগদ টাকা চুরি

সাতক্ষীরায় পরকীয়া করে অন্যের স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ মেম্বারের বিরুদ্ধে

সাতক্ষীরায় পরকীয়া করে অন্যের স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ মেম্বারের বিরুদ্ধে

 

সাতক্ষীরার ভোমরা ইউনিয়নের নবাতকাটি গ্রামে এক গৃহবধূকে টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী অর্জুন সরকার তার স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

অভিযোগকারী অর্জুন সরকার ভোমরা স্থলবন্দরের কর্মচারী এবং পাশাপাশি নিজস্ব ঘেরের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার স্ত্রী লাবনী সরকার (২৬)। তাদের ১১ বছরের একমাত্র সন্তান অর্ক সরকার। লাবনী সরকার দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ এলাকার পত্নীতলা গ্রামের বাসিন্দা ঠাকুরপদ সরকারের মেয়ে।

অর্জুন সরকারের অভিযোগ, টিকটকের মাধ্যমে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুর সঙ্গে তার স্ত্রী লাবনী সরকারের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে দেবপ্রসাদ সরকার তার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জ মধুমতী খাল থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার :

অর্জুন সরকার জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার লাবনী তার ১১ বছরের ছেলে অর্ককে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়িতে যান। পরে শনিবার অর্ককে নবাতকাটি গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন লাবনী। এ সময় ছেলেকে তিনি বলেন, ‘বাবা, তুমি আজ বাড়ি যাও। আমি কয়েকদিন পরে আসব।’

তবে স্বামীর অভিযোগ, বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় লাবনী নগদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা, আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের হার, এক ভরি ওজনের দুটি রুলি, পায়ের নূপুর ও স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে তার ছেলে অর্কের বক্তব্যের একটি ভিডিও রেকর্ডিং প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অর্জুন সরকার বলেন, স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকে তাদের সংসারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তার ১১ বছরের ছেলে মাকে ফিরে পাওয়ার জন্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তিনি জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দেবপ্রসাদ সরকারকে আসামি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।

অর্জুন সরকারের ভাষ্য, ‘আমার ছোট শিশুটির মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আমার স্ত্রীকে যে কোনো মূল্যে ফিরে পেতে চাই। আমি চাই, আমার সন্তান তার মাকে ফিরে পাক।’

আরও পড়ুনঃ  মালয়েশিয়ায় মাটিধসে নিহত শরিফুল ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে

এদিকে অর্ক সরকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছে। তার দাবি, মায়ের সঙ্গে মামাবাড়ি যাওয়ার পর তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছে।

অর্জুন সরকার আরও অভিযোগ করেন, লাবনী তার মা-বাবার পরামর্শে তাকে সর্বস্বান্ত করে সবকিছু নিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে তিনি তার স্ত্রীর ছোট বোন সুস্মিতা সরকারের সংসার ভেঙে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার বিষয়েও অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা প্রতিবেদকের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  ইখলাসের ক্লু-লেস হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও ০২ জন আসামী গ্রেফতার।

অর্জুন সরকার জানান, গত শনিবারের পর লাবনীর সঙ্গে তার দুই- তিনবার ফোনে কথা হয়েছে। তার দাবি, লাবনী তাকে জানিয়েছেন যে তিনি দেবপ্রসাদ সরকারকে বিয়ে করতে চান। স্বামী ও ছেলে তাকে ফিরিয়ে আনতে গেলে তাদের যাওয়ার খবর পেয়ে লাবনী সামনে আসেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে লাবনী সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি – অর্জূন আমাকে মারপিট করতো। প্রচুর নির্যাতন করতো। আমি ৩/৪ মাস আগে বাবার বাড়ী চলে আসি। সে আমাকে ফোন করে কোনদিন খোজও নিত না। আমি তাকে ৯ সেপ্টেম্বর ডিভোর্স দিয়েছি। পরে ঘটকের মাধ্যমে দেবপ্রসাদ বাবুর সাথে সম্বন্ধ করে আমরা ১৭ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রি সহ ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে করেছি।

অভিযুক্ত মেম্বার দেবপ্রসাদ সরকার বাবু বলেন – পাঁচ বছর আগে আমার স্ত্রী মারা যাওয়ায় ঘটকের কাছে তথ্য দিয়ে রেখেছিলাম। ঘটকর মাধ্যমে আমরা বিবাহ করেছি।

জনপ্রিয় পোস্ট

বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে কোহলির নতুন মাইলফলক!

সাতক্ষীরায় পরকীয়া করে অন্যের স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ মেম্বারের বিরুদ্ধে

আপডেটের সময়: ০৭:০৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরায় পরকীয়া করে অন্যের স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ মেম্বারের বিরুদ্ধে

 

সাতক্ষীরার ভোমরা ইউনিয়নের নবাতকাটি গ্রামে এক গৃহবধূকে টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী অর্জুন সরকার তার স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

অভিযোগকারী অর্জুন সরকার ভোমরা স্থলবন্দরের কর্মচারী এবং পাশাপাশি নিজস্ব ঘেরের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার স্ত্রী লাবনী সরকার (২৬)। তাদের ১১ বছরের একমাত্র সন্তান অর্ক সরকার। লাবনী সরকার দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ এলাকার পত্নীতলা গ্রামের বাসিন্দা ঠাকুরপদ সরকারের মেয়ে।

অর্জুন সরকারের অভিযোগ, টিকটকের মাধ্যমে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুর সঙ্গে তার স্ত্রী লাবনী সরকারের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে দেবপ্রসাদ সরকার তার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জ মধুমতী খাল থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার :

অর্জুন সরকার জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার লাবনী তার ১১ বছরের ছেলে অর্ককে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়িতে যান। পরে শনিবার অর্ককে নবাতকাটি গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন লাবনী। এ সময় ছেলেকে তিনি বলেন, ‘বাবা, তুমি আজ বাড়ি যাও। আমি কয়েকদিন পরে আসব।’

তবে স্বামীর অভিযোগ, বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় লাবনী নগদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা, আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের হার, এক ভরি ওজনের দুটি রুলি, পায়ের নূপুর ও স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে তার ছেলে অর্কের বক্তব্যের একটি ভিডিও রেকর্ডিং প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অর্জুন সরকার বলেন, স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকে তাদের সংসারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তার ১১ বছরের ছেলে মাকে ফিরে পাওয়ার জন্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তিনি জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দেবপ্রসাদ সরকারকে আসামি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।

অর্জুন সরকারের ভাষ্য, ‘আমার ছোট শিশুটির মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আমার স্ত্রীকে যে কোনো মূল্যে ফিরে পেতে চাই। আমি চাই, আমার সন্তান তার মাকে ফিরে পাক।’

আরও পড়ুনঃ  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

এদিকে অর্ক সরকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছে। তার দাবি, মায়ের সঙ্গে মামাবাড়ি যাওয়ার পর তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছে।

অর্জুন সরকার আরও অভিযোগ করেন, লাবনী তার মা-বাবার পরামর্শে তাকে সর্বস্বান্ত করে সবকিছু নিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে তিনি তার স্ত্রীর ছোট বোন সুস্মিতা সরকারের সংসার ভেঙে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার বিষয়েও অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা প্রতিবেদকের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত

অর্জুন সরকার জানান, গত শনিবারের পর লাবনীর সঙ্গে তার দুই- তিনবার ফোনে কথা হয়েছে। তার দাবি, লাবনী তাকে জানিয়েছেন যে তিনি দেবপ্রসাদ সরকারকে বিয়ে করতে চান। স্বামী ও ছেলে তাকে ফিরিয়ে আনতে গেলে তাদের যাওয়ার খবর পেয়ে লাবনী সামনে আসেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে লাবনী সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি – অর্জূন আমাকে মারপিট করতো। প্রচুর নির্যাতন করতো। আমি ৩/৪ মাস আগে বাবার বাড়ী চলে আসি। সে আমাকে ফোন করে কোনদিন খোজও নিত না। আমি তাকে ৯ সেপ্টেম্বর ডিভোর্স দিয়েছি। পরে ঘটকের মাধ্যমে দেবপ্রসাদ বাবুর সাথে সম্বন্ধ করে আমরা ১৭ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রি সহ ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে করেছি।

অভিযুক্ত মেম্বার দেবপ্রসাদ সরকার বাবু বলেন – পাঁচ বছর আগে আমার স্ত্রী মারা যাওয়ায় ঘটকের কাছে তথ্য দিয়ে রেখেছিলাম। ঘটকর মাধ্যমে আমরা বিবাহ করেছি।